• বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
  • ||

‘দিনমজুর’ শিক্ষার্থীর পাশে রাবি ছাত্রলীগ সভাপতি

প্রকাশ:  ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:৪০
রাবি প্রতিনিধি
প্রিন্ট

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুস সালাম। দিনাজপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মেধাবী সালাম দিন মজুরের কাজ করে দিনাতিপাত করছিলেন। নিজের পড়ালেখা ও সংসারের খরচ জোগাতে ছাত্রাবস্থায় বেছে নিয়েছিলেন এ পথ। দিনভর কাজে থাকায় কোনোভাবেই পড়াশোনায় মনোযোগী হতে পারছিলেন না।

অদম্য মেধাবী সালামের দুঃখগাঁথা জীবন সংগ্রামের খবর জানতে পারেন রাবি ছাত্রলীগ সভাপতি গোলাম কিবরিয়া। শুক্রবার ক্যাম্পাসে ডেকে তিনি সালামের সঙ্গে কথা বলেন। ওই শিক্ষার্থীর লেখাপড়া, থাকা-খাওয়াসহ যাবতীয় খরচ বহন করার সিদ্ধান্ত নেন।

আব্দুস সালাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। বাবা এক সময় ফুটপাতে বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসা করতেন। বর্তমানে বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছেন। বড়ভাই প্রতিবন্ধী আর ছোটবোন লেখাপড়া করেন। ফলে পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস শিক্ষার্থী আব্দুস সালাম।

দরিদ্র বাবার পক্ষে লেখাপড়ার খরচ জোগাতে না পারায় দিনমজুরের কাজ করে নিজের খরচ চালান। তিনি দুইদিন শ্রমিকের কাজ করেন আর এরপরের দুইদিন ক্লাস করেন। এভাবে তার লেখাপড়া চলে।

জানতে চাইলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে আব্দুস সালাম বলেন, ‘লেখাপড়ার খরচ জোগাতে দিন মজুরের কাজ করছিলাম। ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ভাই খবর পেয়ে আমার লেখাপড়া, থাকা-খাওয়াসহ যাবতীয় খরচ বহনের আশ্বাস দিয়েছেন। শের-ই-বাংলা হলে আমার থাকার ব্যবস্থা করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির পর থেকে মন দিয়ে লেখাপড়া করতে পারছিলাম। না। সবসময় নিজের খরচ বহনের চিন্তায় দৌঁড়ে বেড়িয়েছি। কিবরিয়া ভাইয়ের আশ্বাসে চিন্তা অনেকাংশ কমে গেছে। পড়ালেখা শেষ করে আমি নিজের পরিবার ও দেশের জন্য কিছু করতে চাই।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘আব্দুস সালাম মেধাবী শিক্ষার্থী। অনেক কষ্টে সে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। তার সমস্যার কথা শুনে কষ্ট পেয়েছিলাম। পরে তাকে ডেকে কথা বলি। তার সমস্যাগুলো শুনে মর্মাহত হই। তার জন্য কিছুর করার তাগিদ অনুভব করছিলাম।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা প্রাধ্যক্ষের কাছে সুপারিশ করে সালামকে হলে তুলে দিয়েছি। সাধ্য অনুযায়ী কিছু আর্থিক সহায়তা করেছি। সামনের দিনেও তার পাশে থাকবো। সালামের যেকোনো প্রয়োজনে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছি। আমি চাই- সালাম মনোযোগ সহকারে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করে দেশের দক্ষ জনশক্তি হয়ে উঠুক।

ছাত্রলীগ সভাপতি,ছাত্রলীগ
apps