• বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮, ২ কার্তিক ১৪২৫
  • ||

আনন্দবাজারের প্রতিবেদন

উইপোকা ‘ছায়াযুদ্ধ’, ভাবিত নয় ঢাকা

প্রকাশ:  ০৭ অক্টোবর ২০১৮, ০৪:২৭
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক
প্রিন্ট

অাসামে প্রকাশিত নাগরিকপঞ্জির প্রাথমিক তালিকায় না থাকা ৪০ লক্ষ মানুষের একজনকেও বাংলাদেশে ফেরানো হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ভারত। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ব্যক্তিগত ভাবে নরেন্দ্র মোদী এই আশ্বাস দিয়েছেন বলে হাসিনার রাজনৈতিক পরামর্শদাতা তথা আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা এইচ টি ইমাম জানিয়েছেন। ইমামের দাবি, মোদী বলেছেন, যদি বা এ নিয়ে ভবিষ্যতে কোনও চিন্তাভাবনা করা হয়, তা করা হবে ঢাকার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই।

আজ বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হন ইমাম। তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়, এই বিপুল সংখ্যক মানুষকে যদি বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং বাংলাদেশ যদি তাঁদের না নেয়, তা হলে তাঁরা কোথায় যাবেন? ইমামের বক্তব্য, “এই প্রশ্নটাই উঠছে না। কারণ ভারতের প্রধানমন্ত্রী আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে নিজে জানিয়েছেন এ রকম কোনও ভাবনাচিন্তা নেই ভারত সরকারের। ভবিষ্যতে যদি এই সংক্রান্ত কোনও বিবেচনা হয়, তবে তা হবে আলোচনার মাধ্যমেই।”

শুধু এনআরসি সংক্রান্ত আশঙ্কাই নয়। গত মাসে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ ভারতে বসবাসকারী ‘অবৈধ বাংলাদেশি’দের উইপোকার সঙ্গে তুলনা করে হইচই ফেলে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এদের সবাইকে বিতাড়িত করা হবে। এর তিন সপ্তাহ পর বাংলাদেশে এসে দেখছি, ঢাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ওই মন্তব্য নিয়ে যথেষ্ট ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। কিন্তু ঢাকার সরকারি নেতৃত্ব বিষয়টিকে গুরুত্ব না দেওয়ার কৌশল নিয়েছেন। এ দেশে ভোটের আর মাত্র মাস দুয়েক বাকি। তার আগে নতুন করে এই স্পর্শকাতর নিয়ে জটিলতা বাড়াতে চাইছে না হাসিনা সরকার। রাজনৈতিক সূত্রে অন্তত তেমনই দাবি করা হচ্ছে।

আজ ‘উইপোকা’ নিয়ে জানতে চাওয়া হলে হাসিনার পরামর্শদাতা শুধু জানিয়েছেন, “রাজনীতিতে ছায়াযুদ্ধ বা শ্যাডো বক্সিং বলে একটা কথা আছে! এটা সে রকমই একটা বিষয়। যাকে আমরা আদৌ গুরুত্ব দিচ্ছি না। বিশেষত ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ ব্যাপারে স্পষ্ট কথা হয়ে যাওয়ার পর কে কী বললেন কিছু যায় আসে না।”

অথচ গত মাসে অমিত শাহ জোর গলায় ঘোষণা করেন, ‘‘আগামী বছর মোদী সরকার ক্ষমতায় এলে অনুপ্রবেশকারীদের প্রত্যেককে বেছে বেছে ভোটার তালিকা থেকে বের করে দেওয়া হবে।’’ বিজেপি নেতা রামমাধব বলেন, অসমের নাগরিক তালিকা থেকে যাদের নাম বাদ পড়বে, তাদের বাংলাদেশে ফেরানোই দলের নীতি।

কিন্তু হাসিনা সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের বক্তব্য, রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার কারণে এই ধরনের মন্তব্য করা হচ্ছে। বাস্তবের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই.। বাংলাদেশের সরকারের এক উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি আজ এও বললেন, “সামনেই আমাদের ভোট। তার আগে এমন কিছুই দিল্লি করবে না, যাতে আমাদের বিপদে পড়তে হয়। ভারতীয় হাইকমিশন থেকেও এই বার্তা আমাদের দেওয়া হয়েছে।” (প্রকাশ: ৬ অক্টোবর)

আনন্দবাজারের প্রতিবেদন

সর্বাধিক পঠিত