• শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ১ পৌষ ১৪২৫
  • ||

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সম্পাদক পরিষদের মানববন্ধন

প্রকাশ:  ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ০৪:৩৪ | আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ০৪:৪২
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক
প্রিন্ট

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বাকস্বাধীনতা ও মুক্ত সাংবাদিকতাবিরোধী ৯টি ধারায় সংশোধনীর দাবিতে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সম্পাদকরা একসঙ্গে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ নজিরবিহীন মানববন্ধনের খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হয়েছে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সোমবার (১৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচি থেকে সংসদের শেষ অধিবেশনেই বাকস্বাধীনতা ও মুক্ত সাংবাদিকতাবিরোধী ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সংশোধনীর দাবি জানানো হয়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এ নিয়ে প্রকাশ করা কিছু সংবাদের অংশবিশেষ নিচে তুলে ধরা হলো-

নিউ ইয়র্ক টাইমস (যুক্তরাষ্ট্র)

‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সংবাদপত্র সম্পাদকদের প্রতিবাদ’ শিরোনাম যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক টা্ইমেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের রাজধানীর দৈনিক সংবাদপত্রগুলোর সম্পাদকরা নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন, যা তাদের মতে বাক-স্বাধীনতা ও সাংবাদ সংস্থাগুলোর স্বাধীনতায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তিন ক্যাবিনেট মন্ত্রী সাংবাদিকদের উদ্বেগ বিবেচনা করার অঙ্গীকার করলেও রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ প্রস্তাবটি সাক্ষর করে আইনে পরিণত করেন।

দ্য হিন্দু (ভারত)

ভারতীয় প্রভাবশালী পত্রিকা দ্যা হিন্দু প্রতিবেদন প্রকাশ করে ‘গণমাধ্যম বিরোধী আইনের প্রতিবাদে বাংলাদেশের সম্পাদকেরা’। এতে বলা হয়- বাংলাদেশের সংবাদপত্রের শীর্ষ সংগঠন সম্পাদক পরিষদের ১৬ জন সদস্য জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন গড়ে তুলে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের গণমাধ্যম বিরোধী বিভিন্ন ধারা প্রত্যাহারের দাবি জানান। তাদের দাবি, মত প্রকাশকে থামাতে সরকার এ আইন প্রবর্তন করেছেন এবং কোনো আপতি কানে নিচ্ছে না। সম্পাদকদের এধরনের একতা দেশটিতে কখনো দেখা যায়নি।

ওয়াশিংটন পোস্ট , যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদপত্র ওয়াশিংটন পোস্টের অনলাইন সংস্করণে ‌'স্বাধীনতা হরণের প্রতিবাদে রাস্তায় বাংলাদেশের সম্পাদকরো’ প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কিছু ধারায় মতপ্রকাশে প্রতিবন্ধকতা সংশোধনের প্রতিবাদে সম্পাদকদের রাস্তায় নামার ঘটনা বাংলাদেশে প্রথমবার ঘটলো। দেশের বেশিরভাগ সাংবাদিকই এই মানববন্ধনের সমর্থন দিয়েছেন। নজিরবিহীন এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুগত কিছু সম্পাদকও যোগ দেন।

বিবিসি, যুক্তরাজ্য

ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি ’বাংলাদেশ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন: ঢাকার রাস্তায় সম্পাদকদের নজিরবিহীন মানববন্ধন’ প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সম্পাদক পরিষদের মানববন্ধন কর্মসূচিতে ঢাকা থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্রগুলোর সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদের উনিশ সদস্যের মধ্যে সতের জন এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। কর্মসূচিতে সাত দফা দাবি ঘোষণা করে সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, “আগামী সংসদ অধিবেশনে আইনটি সংশোধন করে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতা নিশ্চিত করা হোক।” সম্পাদক পরিষদের সাত দফার কয়েকটি হলো, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নয়টি ধারা সংশোধন, কোন সংবাদমাধ্যমের কম্পিউটার ব্যবস্থা জব্দ করার ক্ষেত্রে আদালতের আগাম আদেশ নেয়ার বিধান চালু করা, তথ্য অধিকার আইনকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ওপর প্রাধান্য দেয়া ইত্যাদি।

আল জাজিরা (কাতার)

কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা ‘বাংলাদেশের সম্পাদকদের মুক্ত গণমাধমের দাবি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে সংবাদপত্র সম্পাদকেরা একযোগে বিরল এক প্রতিবাদে অংশ নিয়েছে। সরকারের নতুন প্রণীত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের বাঁধা হিসেবে মনে করছেন তারা। এই আইনটি পরিবর্তনের দাবিতে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রগুলোর ১৬ জন সম্পাদক রাজপথে মানববন্ধন গড়ে তোলেন। বিরল এ প্রতিবাদে যোগ দেন অসংখ গণমাধ্যম কর্মী। তারা সরকারের কাছে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের নামে নজরদারি প্রত্যাহারের দাবি জানান।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস (ভারত)

ভারতীয় সংবাদপত্র দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদ প্রধানদের গঠিত সম্পাদক পরিষদের সদস্যরা আইনটি প্রণয়নের আগেই কয়েকটি ধারা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল্। সরকার এসব বিষয় নিয়ে আলোচনার আশ্বাস দিলেও তা কার্যত করা হয়নি। বরং সব মতামত উপেক্ষা করে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনটি বহাল করে সরকার। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সম্পাদকের দেশটির রাজধানী ঢাকায় কর্মসূচি পালন করে আইনটি পরিবর্তন করার দাবি জানিয়েছে।

অটোয়া সিটিজেন (কানাডা)

কানাডা ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম অটোয়া সিটিজেন শিরোনাম ছিল, বাংলাদেশের সংবাদপত্রগুলোর সম্পাদকদের দাবি, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাক-স্বাধীনতার পরিপন্থী’। এতে বলা হয়, দেশের প্রধান সংবাদপত্রগুলোর সম্পাদকদের দাবি উপেক্ষা করলে তারা রাস্তায় মানববন্ধন গড়ে তুলতে বাধ্য হয়।

ডেইলি মেইল (যুক্তরাজ্য)

যুক্তরাজ্যের ডেইলি মেইল পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের সরকার নতুন একটা আইনের মাধ্যমে গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে চাইছে বলে দেশটি প্রধান দৈনিক সংবাদপত্রের সম্পাদকগণ দাবি করেছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা নামের এ আইনটি সরকার কয়েকটি ধারা নিয়ে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করলেও তা তিনজন মন্ত্রী বিবেচনার অাশ্বাস দেন। কিন্তু শেষ তাদের আপত্তি উপেক্ষা করেই রাষ্ট্রপতি তাতে স্বাক্ষর করে। সংসদকে এ আইন পরিবর্তন করার আহ্বান জানিয়ে রাজধানী ঢাকায় মানববন্ধন গড়ে তোলেন সম্পাদকেরা।

ইএফই এজেন্সি (স্পেন)

স্পেন ভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদ সংস্থা ইএফই এজেন্সির শিরোনাম ছিল, মানববন্ধনের মাধ্যমে বিতর্কিত আইনের প্রতিবাদ বাংলাদেশী সাংবাদিকদের। এতে বলা হয়, মতপ্রকাশের বাঁধা হিসেবে মনে সরকার ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনটি প্রবর্তন করেছে। সরকার বলছে ভুল তথ্য জারি করার জন্য এ আইন প্রয়োজন। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এটি প্রয়োগ করা হবে না। কিন্তু সরকারের এই আশ্বাসে আস্থা সাংবাদিকদেশ শীর্ষ সংগঠন সম্পাদক পরিষদের। কেননা, সরকারের তিনজন মন্ত্রী তাদের আইনটি পরিবর্তনের আশ্বাস দিলেও তারা প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি।

দা রিপাবলিক (যুক্তরাষ্ট্র)

যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম দা রিপাবলিক ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সংবাদপত্র সম্পাদকদের প্রতিবাদ’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানায়, রাষ্ট্রের পুলিশের কাছে সাংবাদিকদের গ্রেফতার করা ক্ষমতা প্রত্যাহারের দাবিতে সড়কে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশে সম্পাদকরা। তারা ভুল কিংবা মিথ্যা তথ্য দেয়া হলে তার বিচার ও শাস্তি দেয়ার জন্য একটি শক্তিশালী প্রেস কাউন্সিল গঠন করার দাবি করেন।

গলফ টাইম (মাধ্যপ্রাচ্য)

মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম গালফ টাইমস ‘সংবাদ মাধ্যম বিরোধী আইনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সম্পাদকদের প্রতিবাদ’ শিরোনামে দেয়া প্রতিবেদনে জানায়, নতুন চালু হওয়া একটি ডিজিটাল আইনে কিছু ধারা বিলুপ্তির দাবিতে সোমবার বাংলাদেশের সংবাদপত্র সম্পাদকরা প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করে। সাংবাদিক ও অধিকার সচেতনদের মতে এই আইন ভাব প্রকাশের স্বাধীনতায় আঘাত করবে।

এনই

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে
apps