• বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
  • ||

‘রাজাকার সবসময় রাজাকার, মুক্তিযোদ্ধা সব সময় মুক্তিযোদ্ধা না’

প্রকাশ:  ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ১৫:১৯
আশরাফুল আলম খোকন
প্রিন্ট

ইহা কিসের ঐক্য স্যার...

কথায় বলে, রাজাকার সবসময় রাজাকার, মুক্তিযোদ্ধা সব সময় মুক্তিযোদ্ধা না। কিছু মানুষের তথাকথিত জাতীয় ঐক্য দেখে তাই মনে হয়েছে। এই ঐক্যের রাজনৈতিক গুরুত্ব তেমন কিছুই নাই। শুধু কিছু মানুষের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে।

ড. কামাল হোসেন, আসম আব্দুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না, সুলতান মনসুর এক সময় প্রগতিশীল আন্দোলন করেছেন। নীতি ভ্রষ্টের দায়ে এরা সবাই আওয়ামী লীগ থেকে বিতাড়িত। তারা কথায় কথায় নীতি বাক্য বলেন, মুক্তিযুদ্ধের কথা বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জীবন দিয়ে দেয়ার ঘোষণা দেন। ব্যারিস্টার মইনুল ৭৫ পূর্ববর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের হলেও দীর্ঘদিন জামাত-শিবিরের পৃষ্ঠপোষক হিসাবেই পরিচিত।

ওনারা ঐক্য করেছেন কার সাথে?

শুধু কি যুদ্ধাপরাধী ও স্বাধীনতাবিরোধীদের দল জামাতের সাথে?

না, তারা ঐক্য করেছেন এমন একটি দলের সাথে যাদের সীমাহীন দুর্নীতির বিরুদ্ধে কিছুদিন আগেও এই অতিমানবরা(!) নিজেরাই ছিলেন সোচ্চার। যে দলটির প্রধান বেগম জিয়া স্বয়ং এতিমের টাকা আত্মসাতের দায়ে জেলে আছেন। যিনি নিজেই তার কালো টাকা সাদা করেছেন। বিদেশের কোর্টেও তাদের দুর্নীতি প্রমাণিত। দেশে জঙ্গিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সেল্টার দিয়ে “জঙ্গীমাতা” হিসাবে খেতাবপ্রাপ্ত। যিনি পেট্রোল বোমা দিয়ে আগুন সন্ত্রাস চালিয়ে মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছেন।

যে দলটির দ্বিতীয় প্রধান তারেক রহমান মাফিয়া ডন দাউদ ইব্রাহিমের সহযোগী। দশ ট্রাক অস্ত্র আমদানি ও একুশে আগস্টের নারকীয় হত্যাযজ্ঞের মূল হোতা। হাওয়া ভবনের স্রষ্টা। যার দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এফবিআই এসে সাক্ষী দিয়ে গেছে। যার দুর্নীতির মাধ্যমে পাচার করা কিছু টাকা ইতিমধ্যে সিঙ্গাপুর থেকে ফেরত এনেছে শেখ হাসিনার সরকার। দুর্নীতির মামলা নিয়ে যিনি এখনো পলাতক, রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়েছেন। সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের পৃষ্ঠপোষকতা এবং দুর্নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের তালিকায় যিনি বিপদজনক ব্যক্তি হিসাবে এখনো কালো তালিকাভুক্ত।

বললে আরো বলা যাবে, আর এই দলটির মামুন, ফালু, লালু, দুলু, বুলু, পিন্টুদেরদের কর্মের কথা বলতে গেলে সবইতো অপকর্ম পাওয়া যাবে।

অপরদিকে যেই দলটির বিরুদ্ধে আপনারা জোট বেঁধেছেন, সেই দলের কান্ডারি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা কিংবা তাঁর ছেলে মেয়েদের বিরুদ্ধে খুঁজে দেখেন তো এর কোনো একটি অভিযোগ আনতে পারেন কিনা।

অবশ্য আপনাদের কাছে প্রশ্ন রাখা আর কামারের দোকানে কোরআন পড়া একই। আপনারাতো ক্ষমতায় আসার দিবা স্বপ্নে বিভোর।

(লেখকের ফেসবুক স্ট্যাটাস)

আশরাফুল আলম খোকন
apps