• বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৭, ২ কার্তিক ১৪২৪
  • ||
  • আর্কাইভ

ডা. দীপু মনিদের লালন করতে হয় সমাজকে

প্রকাশ:  ১১ অক্টোবর ২০১৭, ২০:৩৫
রতন কুমার মজুমদার
প্রিন্ট

২০০৮ সাল। জাতীয় সংসদ নির্বাচনী প্রচার তুঙ্গে। চাঁদপুর -৩ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে পুরো এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন ডা. দীপু মনি - আজ চরাঞ্চল তো কাল আরেক জনপদ। দীর্ঘদিন এ আসনটি আওয়ামী লীগের হাতছাড়া। নৌকায় ডা. দীপু মনির মতো যোগ্য ''মাঝি''কে পেয়ে দলের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত। সবার মুখে একটিই কথা - ''লাড়া খাইছে”।

একদিন রিক্সায় যেতে যেতে ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করলাম “লাড়া খাইছে” মানে কী? উত্তরে ড্রাইভার বললো, স্যার দীপু মনি এবার এ আসনে লাড়া দিয়া দিছে। তিনি যেভাবে সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে যাচ্ছেন ধানের শীষের খবর হইয়া গেছে। এই জন্যই বলে “লাড়া খাইছে”।

নির্বাচনের আর তিনদিন বাকী। রাতের বেলা হঠাৎ ডা. দীপু মনির ফোন বেজে উঠলো। ফোন ধরতেই অপর প্রান্ত থেকে এক রিক্সা ড্রাইভারের আবেগাপ্লুত কণ্ঠ, “আপা আমি একজন রিক্সা ড্রাইভার। আপনি আজ আমাদের বাড়িতে এসেছিলেন। আমি গরীব মানুষ। দিন আনি দিন খাই। আমি আপনার নির্বাচনী তহবিলে ১০০ ( একশত) টাকা দিতে চাই। দয়া করে যদি নেবেন বলেন, তবে ফ্ল্যাক্সি লোড করে আপনাকে ১০০ টাকা পাঠিয়ে দিব (তখন বিকাশ ছিল না)।''

আপা নিজেও রিক্সা ড্রাইভারের কথায় আপ্লুত হয়ে পড়লেন। বললেন, ভাই আপনারাই আমার শক্তি , আপনারাই আমার অভিভাবক, আপনারা আমার স্বজন, আপনাদের ভালবাসা, আমার অহংকার। আপনারা যদি আপনাদের মূল্যবান ভোটটি আমাকে দেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নৌকা মার্কায় দেন, এতেই আমি সন্তুষ্ট।

রিক্সা ড্রাইভার নাছোড়বান্দা। তার এক কথা, ''আপা আমাকে হতাশ করবেন না। আমি গরিব বলেই কি আপনি নিতে চাচ্ছেন না ?''

আপা এবার আবেগ সংবরণ করে রিক্সা ড্রাইভারের ভালবাসার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বললেন, ''ঠিক আছে ভাই ১০০ টাকা নয় আপনি ১০টি টাকা আমাকে পাঠিয়ে দিবেন।''

এই যে সাধারণ মানুষের ভালবাসা, শ্রদ্ধা, মমতা এগুলো অর্জন করতে হয়। অর্জন করতে হয় সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে। মানুষের দুঃখ-দুর্দশায় পাশে থেকে। মানুষের হৃদস্পন্দন বুঝতে হয়।

ডা. দীপু মনি ঠিক তা-ই করেছেন। ডা. দীপু মনিরা এ সমাজের সম্পদ। সমাজকে ডা. দীপু মনিদের লালন করতে হয়। নতুবা সমাজে দীপু মনিদের জন্ম হবে না।

লেখকের ফেসবুক থেকে নেও্য়া

close