• শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১০ ১৪২৫
  • ||
  • আর্কাইভ

ছাত্রলীগের সম্মেলন সময়ের দাবি, কোনো দৈব বাণী নয়

প্রকাশ:  ০৩ জানুয়ারি ২০১৮, ১১:১১
মেহেদী হাসান মোল্লা
প্রিন্ট

ছাত্রলীগের সম্মেলন সময়ের দাবী; এটা কোনো দৈব বাণী নয়। অনেকেই অল্প কয়েক দিনের জন্য বয়সের সীমাবদ্ধতায় ছাত্রনেতা হবার তালিকা হতে বাদ পড়ে যান; সেই সুযোগে অযোগ্য হয়ে যান বড় নেতা। এটা আদর্শ ধারণ করা কোনো ছাত্রনেতার কাম্য হতে পারে না। ছাত্রলীগের বয়সের সীমাবন্ধতায় যাদের বয়স ২৯ ছুঁই ছুঁই তারা বলে বিধাতা তোমার করুণায় সম্মেলন হয়ে যাক। এই সম্মেলন চাওয়া দোষের কিছু নয়। কারণ বর্তমান কমিটির সময় দেশে কোনো অস্থিরতা ছিল না।

তাই বর্তমান নেতৃত্ব অত্যন্ত মসৃণভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করার সুযোগ পেয়েছেন । তাই যথাসময়ে সম্মেলন আয়োজন করার একটা নৈতিক বাধ্যকতা সাসনে এসে দাঁড়িয়েছে। কারো জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার কারো নেই। প্রযোজন হলে ছাত্রলীগের বয়স ২৭ অথবা ৩৫ করা হোক। ২৯ কোনো মাপকাঠিতে পড়ে না, এখান থেকে ছিঁটকে পড়লে, না পাওয়া যায় ভাল কোনো চাকুরী, না করা যায় ভাল কিছু কর্ম; হওয়া যায় বাবা মায়ের মাথার বোঝা। বয়স ২৭ হলে বাদ পড়লে পড়াশুনা করে চাকুরীর জন্য প্রস্তুতি নেয়া যায়। তাই বর্তমান সময়ে যে সমস্ত নেতারা দ্বায়িত্বশীল অবস্থায় আছেন তাদের বিষয়টি একান্তভাবে ভেবে দেখা উচিত।

রাজনৈতিক বাস্তবতা কোনো আবেগের ব্যাপার নয়, এটা মানুষের জীবন মরণ খেলা। তাই কমিটি বিলম্বিত করে বিভিন্ন হিসেব নিকেষ করে মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা উচিত নয়। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভোট হবে, যেখানে ছাত্রলীগের নেতারা তাদের আদর্শ কারো কাছে বন্ধক না রেখে, নিজের পছন্দ অনুযায়ী যোগ্য প্রার্থী দেখে ভোট দেবেন, তারা নেতা নির্বাচিত করবেন। বয়স ২৯, সম্মেলন কবে হবে জানে না----এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে থেকে নিন্ম মধ্যবিত্ত ঘর থেকে আসা একটা ছেলে রাজনীতি করতে পারে না; এরা যদি ও বা রাজনীতি করে তা হলো স্রোতে গা ভাসিয়ে দিয়ে, বঙ্গবন্ধুর আর শেখ হাসিনার আদর্শকে ভালবেসে। কিন্তু পেটে ভাত না থাকলে জীবনে আদর্শ ঠিক রাখা অনেকর পক্ষ্যে অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।

আর যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজ সমূহে পড়াশুনা করে ছাত্র রাজনীতি করেন, তারা অধিকাংশই নিন্ম মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান। এদের এহেন অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখা ছাত্ররাজনীতির নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের ঠিক কাজ নয়। তাই যথাসময়ে ছাত্রলীগের কমিটি আয়োজন করা উচিত বলে মনে হয়। বয়স শেষ হবার সাথে সাথে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করুন, নতুবা বয়সের পাপ হতে ছাত্রলীগকে রক্ষা করুন।

(লেখাটি ফেসবুক থেকে নেয়া)

লেখক: সাবেক ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক।