• শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫
  • ||

আছি কি নেই, জানার অপেক্ষায় ধবন ও স্টেন

প্রকাশ:  ০৪ জানুয়ারি ২০১৮, ১৩:৪৭
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রিন্ট

যদি ক্রিকেট স্বর্গ বলে কিছু থাকে, তা হলে সেটা কেপ টাউনের নিউল্যান্ডস স্টেডিয়াম। যেখানে শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা ব্লকবাস্টার টেস্ট সিরিজ।টেবল মাউন্টেনে ঘেরা এমন সৌন্দর্য বিশ্বের খুব কম ক্রিকেট মাঠে পাওয়া যাবে।ভাগ্য ভাল থাকলে সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা পর্বতের উপরে সাদা মেঘ উড়ে আরও মনোরম দৃশ্য উপহার দিতে পারে।

দু’দেশের ক্রিকেট মহলে এমন তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়ে গিয়েছে এই সিরিজ নিয়ে যে, ‘ব্লকবাস্টার’ শব্দটাই ঠিক মনে হচ্ছে।আর শুক্রবারে এমন দ্বৈরথের শুভমুক্তিটাও বেশ মানিয়ে গিয়েছে।বুধবার বিকেলের দিকে কেপ টাউনে নেমে যার আঁচ ভাল মতোই পাওয়া গেল।কাস্টমস ডিউটিতে থাকা ভদ্রমহিলাও ক্রিকেট সিরিজ কভার করতে আসার কথা শুনে বলে ফেললেন, ‘‘আপনারা কিন্তু এ বারও জিততে পারবেন না।’’

কী দাঁড়াল? না, প্রৌঢ় ভদ্রমহিলাও বিলক্ষণ খবর রাখেন যে, পঁচিশ বছরে তাঁদের দেশ থেকে সিরিজ জিতে ফেরেনি কোনও ভারতীয় দল।হাসিমুখে এর পর যদিও দ্রুত যোগ করবেন তিনি যে, ভারতের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার দারুণ সম্পর্কের কথা। মহাত্মা গাঁধী, নেলসন ম্যান্ডেলা এসে পড়বেন।বর্ণ বৈষম্যের দায়ে ক্রিকেট থেকে নির্বাসনমুক্তি ঘটার পরেই ইডেনে ম্যাচ খেলতে এসেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।সেটাই ছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাদের আবেগপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের মাহেন্দ্রক্ষণ।

এত সব ইতিহাস, আবেগ, বন্ধুত্ব আর নাটক যেমন আছে, তেমনই দু’দেশের মধ্যে তিক্ততাও কম নেই।দক্ষিণ আফ্রিকাতেই সচিন তেন্ডুলকর-সহ ভারতের ছয় ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে বল-বিকৃতির অভিযোগ আনেন ম্যাচ রেফারি মাইক ডেনেস। যা নিয়ে তুলকালাম ঘটে যায় ক্রিকেট দুনিয়ায়।জগমোহন ডালমিয়ার নেতৃত্বে ভারতীয় বোর্ড টেস্ট ম্যাচ বয়কট করে।ম্যাচ খেললেও ভারতীয় দল প্রতিবাদ দেখিয়ে বেসরকারি আখ্যা দিয়েছিল সেই টেস্টকে।আবার হ্যান্সি ক্রোনিয়ে ভারতে খেলতে এসে দিল্লি পুলিশের জালে আটকে পড়লেন ম্যাচ গড়াপেটার কেলেঙ্কারিতে।

কেপ টাউনের টেবল মাউন্টেনের অসাধারণ সৌন্দর্যের মধ্যেও দু’দেশের দ্বৈরথের তীব্রতা রিখটার স্কেলে ভাল মতোই ধরা পড়তে বাধ্য। নিউল্যান্ডসের জনতা অস্ট্রেলীয় দর্শকদের মতোই বেশ সরব।আগের বার এখানে খেলতে এসে শ্রীসন্থ সারাক্ষণ ব্যারাকিংয়ের মুখে পড়েছেন।এ বারে কাকে টার্গেট করবে নিউল্যান্ডস? হার্দিক পাণ্ড্য?

দু’দলের দুই চরিত্রকে নিয়ে বলতে গিয়ে আবার মনে হবে, এঁরা টেবল মাউন্টেনের সৌন্দর্য বা গাঁধী-ম্যান্ডেলা ইতিহাস কোনওটা নিয়েই ভাবার মতো জায়গায় নেই।

তাঁদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়েই চিন্তা লেগে গিয়েছে যে!

প্রথম নামটা শুনে বিশ্বাস করা কঠিন হতে পারে ডেল স্টেন।যাঁকে নিয়ে ভারতীয় ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে বেশি সাবধানে থাকার কথা, তিনি নাকি প্রথম টেস্টে এখনও নিশ্চিতই নন।কাঁধের মারাত্মক চোটে চোদ্দো মাস ক্রিকেটের বাইরে থাকা পেসারকে সরাসরি এত বড় ম্যাচে খেলিয়ে দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।স্টেন এর মধ্যে আর কোনও ম্যাচ খেলেননি। জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে বক্সিং ডে টেস্টে নামতে পারেননি জ্বর হওয়ার জন্য।

শোনা গেল, দক্ষিণ আফ্রিকা শিবির দ্বিধাবিভক্ত।কারও কারও মত, স্টেন খেললে ভারতের উপর মানসিক চাপ থাকবে।তাঁর নাম টিমলিস্টে না থাকলে অনেক খোলা মনে খেলতে নামতে পারবেন ভারতীয়রা।বিপক্ষের সেরা অস্ত্রই তো মাঠে নামল না, তা হলে আর চিন্তা কী? অন্য মত হচ্ছে, সাম্প্রতিক ফর্ম এবং ফিটনেসের উপর নির্ভর করে দল নির্বাচন করে।তাতে সবচেয়ে বড় তারকাকে বাদ দেওয়ার কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হলেও উপায় নেই।

অনেক কিছু নির্ভর করতে পারে নিউল্যান্ডসের বাইশ গজের উপর।শুকনো আবহাওয়া বৃহস্পতিবারেও থাকবে বলে পূর্বাভাস। আবার টেস্ট শুরুর দিন অর্থাৎ শুক্রবারে তাপমাত্রা কমতে পারে বলে জানানো হয়েছে। টেস্টের মধ্যেও নাকি মেঘলা আবহাওয়ার সম্ভাবনা আছে। সেক্ষেত্রে স্টেনের সম্ভাবনা বাড়বে।

স্টেন বা দক্ষিণ আফ্রিকা একা নয়। ভারতীয় শিবিরেও নির্বাচনী জটিলতা চলছে। এবং, আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে শিখর ধবন। ভারত থেকে রওনা হওয়ার সময়ই যাঁকে রহস্যজনক ভাবে খোঁড়াতে দেখা গিয়েছে। ভারতীয় বোর্ড এ দিন প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে, ধবন পুরোপুরি সুস্থ হয়ে গিয়েছেন এবং নির্বাচনের উপযুক্ত। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, ধবন অনেকটা সুস্থ হয়ে গিয়েছেন। ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টে তাঁর এমন প্রবল সমর্থন রয়েছে যে, পুরোপুরি ফিট হয়ে গেলে তাঁকে খেলানোর সম্ভাবনাই বেশি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে আজ, বৃহস্পতিবারের অনুশীলনে।

দু’দলের দুই সুপারস্টারকে তাই অগ্নিপরীক্ষা শুরুর আগেই পরীক্ষা দিতে নামতে হচ্ছে বৃহস্পতিবার।

/সম্রাট

প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে কস্তার গোল