• সোমবার, ২১ মে ২০১৮, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
  • ||

সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ

প্রকাশ:  ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৯:১৯
ভোলা প্রতিনিধি
প্রিন্ট

ভোলায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে বিল্লাল হোসেন নামের এক সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে। শুক্রবার রাতে সদর উপজেলার নবীপুর সাইক্লোন সেল্টার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আখি তারা সদর উপজেলার চারসামাইয়া ইউনিয়নের চরছিফলি গ্রামের মো. শাহজাহান হাওলাদারের মেয়ে। বর্তমানে আখি তারা বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং তার পরিবারের পক্ষ থেকে ভোলায়  থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

আখি তারার বাবা শাহজাহান হাওলাদার বলেন, ২০১১ সালে তার মেয়ে আখিতারা বেগমকে উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের নবীপুর সাইক্লোন সেল্টার এলাকার আবদুল হাকিমের ছেলে ও বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর সদস্য বিল্লাল হোসেনের কাছে বিয়ে দেয়। বিয়ের পর থেকেই বিল্লাল কর্মস্থলে থাকায় আখিতারা বিল্লালের মা-বাবার কাছে থাকতো। এ সুবাদে বিল্লালের মা-বাবা বিভিন্ন সময়ে ও আখির পরিবারের কাছে যৌতুক দাবি করতো। মেয়ের সুখের দিকে তাকিয়ে আখির পিতা বিল্লাল ও তার পরিবারকে আসবাবপত্রসহ নগদ মোটা অংকের টাকা যৌতুক হিসাবে প্রদান করে। কিন্তু এতেও সন্তুষ্ট হয়নি বিল্লালের পরিবার।

বিল্লালের মা-বাবা বিভিন্ন সময়ে যৌতুক দাবি করে আখির উপর শারিরিক র্নিযাতন করতো। এমনকি বিল্লাল ছুটিতে বাড়িতে আসলে সেও মা-বাবার সাথে একত্রিত হয়ে আখির উপর নির্যাতন চালাতো। তাদের অমানসিক নির্যাতন সইতে না পেরে আখিতারা বিল্লালের কর্মস্থল রংপুর খোলাহাটি ২১ ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের সেনা ক্যাম্পের উর্ধ্বতন র্কমকর্তাদের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দাকিল করে। কতৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নিয়ে বিল্লালকে তিরষ্কারসহ তার স্ত্রী আখিতারাকে তার কর্মস্থল রংপুরে সেনাবাহিনীর আবাসিক বাসায় রাখার র্নিদেশ দেয়।

বিল্লাল উর্ধ্বতন র্কমকর্তাদের চাপে স্ত্রীকে নিয়ে সরকারি কোয়াটারে উঠে। এই ঘটনার কয়েকমাস পরে বিল্লাল রাঙ্গামাটিতে বদলি হলে স্ত্রী আখিতারাকে সাথে না নিয়ে গ্রামরে বাড়ি ভোলায় পাঠিয়ে দেয়। পরে আখিতারাকে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে বিচার দেয়ার জন্য বিভিন্ন সময়ে বাড়ি এসে শারিরিক নির্যাতন চালাত। সর্বশেষ গত ২৬ ডিসেম্বর বিল্লাল ছুটিতে বাড়িতে এসে স্ত্রী আখিতারাকে তার বাবার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা এনে দিতে বলে। কিন্তু আখিতারা টাকা দিতে পারবে না বরলে বিল্লাল আখিতারাকে বেধম মারধর করে।

বিষয়টি আখিতারা পুনরায় বিল্লালের অফিসারদের কাছে জানানোর চেষ্টা করলে বিল্লাল ক্ষিপ্ত হয়ে আখিতারাকে অমানসিক নির্যাতন চালায়। আখিতারা তার বড় ভাই সাবিরুলকে মোবাইল ফোনে মারধরের কথা জানালে বিল্লাল আরও ক্ষিপ্ত হয়। এক পর্যায়ে শুক্রবার বিকেলে বিল্লাল, তার পিতা হাশিম, মা আনোয়ারা ও ভাই আমান মিলে বেধরক মারধর করে আখিতারাকে।

আখিতারার ভাই সাবিরুল শনিবার সকালে বোনের বাড়ি গিয়ে তাকে অচেতন অবস্থায় পরে থাকতে দেখে সেখান থেকে আখিতারাকে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক শনিবার দুপুর পর্যন্ত তার অবস্থার উন্নতি না হওয়া তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় ।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সেনা সদস্য মো. বিল্লাল হোসেন অভিযোগ অস্বিকার করে বলেন, আমি আখিকে কোনো মারধর করিনি। আমাকে ফাঁসানোর জন্য সে নিজের হাত নিজে কেটেছে। এছাড়াও সংসারে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে টুকটাক ঘটনা ঘটেই থাকে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি হোসনেয়ারা চিনু বলেন, একজন সৈনিক রাষ্ট্রের একটা বিশেষ অবস্থানে থাকে। এরা দেশের উপকারে অনেক কাজ করছে। কিন্তু যখন একজন সৈনিক গৃহবধূ নির্যাতন করার কথা শুনি তখন এটা মেনে নেয়া যায় না। আমরা দ্রুত এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

ভোলা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর খায়রুল কবির বলেন, আমাদের কাছে কেউ এখনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত স্বাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।