• শনিবার, ২৬ মে ২০১৮, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
  • ||

বই উৎসবরে আমেজ নেই ওদের মাঝে

প্রকাশ:  ০১ জানুয়ারি ২০১৮, ১৮:৪৩
এম. এ. কাইয়ুম, মৌলভীবাজার
প্রিন্ট
আজ ১ জানুয়ারী। স্কুলে নতুন বই দেওয়া হবে এমন খবর তাদের কাছে আগে থেকেই ছিল। যতারীতি সকাল ৯টায় বিদ্যালয়ে আসে তারা। সারা স্কুল কোমলমতি শিশুদের আগমনে মুখরিত হয়ে ওঠে। অপেক্ষায় থাকে কখন দেওয়া হবে নতুন বই। কিন্তু কয়েক ঘন্টার পর মাত্র দুই একটি বই তাদের হাতে তুলে দেয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সবগুলো বই না পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে তারা। তখনও তারা জানে না তাদের স্বপ্নের নতুন বই একদল দুষ্কৃতিকারীরা ছিড়ে ফেলে দিয়েছে কিছু দিন আগে।  

কমলগঞ্জের উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত ধলই চা বাগানের ধলই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর নতুন করে কোন বই উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে বিদ্যালয়ে না দেওয়া অনেক শিক্ষার্থী খালি হাতে বাড়ি ফিরেছেন। এ বিষয়ে কমলগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ধলই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক সত্যনারায়ন রাজভর।

গত ২৭ ডিসেম্বর গভীর রাতে একদল দুষ্কৃতিকারী বিদ্যালয়ের অফিসের তালা ভেঙ্গে নতুন বই ছিড়ে ঝোঁপ-ঝাড়ের ফেলে দেয় । বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) সকালে এলাকার মানুষ ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বই দেখতে পায়।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক সত্য নারায়ন রাজভর পূর্বপশ্চিমকে জানান, বিদ্যালয়ের ১ম শ্রেণী থেকে ৫ম শ্রেনীর মোট ২১৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে বিতরনের জন্য এনে রাখা ২১৫ সেট বই ছিড়ে বাহিরে ঝোঁপ-ঝাড়ের মধ্যে ফেলে রাখে। নতুন করে কোন বই উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, গত ১৬ ডিসেম্বর পালন উপলক্ষে আয়োজিত খেলাধুলার পুরস্কার বিতরনী অনুষ্টানের মে  অত্র বাগানের শিবলাল এবং অর্জুন এর সাথে বাকবিতন্ডা হয়।  তখন স্থানীয় ইউপি সদস্যের সহযোগিতায় ঘটনার মিমাংসা হলে ও পরবর্তীতে গত ২৬ ডিসেম্বর পুনরায় শিবরাল ও অর্জুনের অনুসারী সুশিল পাশী বাগানের নলকূপ চুরির ঘটনা নিয়ে প্রধান শিক্ষক সত্য নারায়ন রাজবরের সাথে কথাকাটাকাটি হয় এবং এক পর্যায়ে তাকে মারার জন্য উদ্ধত হয়।

স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে সাময়িকভাবে বিষয়টি সমাধান হলে ও ঘটনার ২ দিনের মধ্যে কে বা কারা স্কুলের ছোট-ছোট শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরনের জন্য সংগ্রহে রাখা বই সমুহ ছিড়ে ঝোপ-ঝাড়ে ফেলে দিয়েছে।

এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, স্কুল ঘরের পাশের্ই পরিত্যক্ত ঘরে নিয়মিত মাদকের আসর বসে। এ ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষ উপজেলা শিক্ষা অফিস ও কমলগঞ্জ থানাকে অবহিত করেছে।

কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তাদির হোসেন পিপিএম বলেন, অজ্ঞাত আসামি দিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষাক অভিযোগ দিয়েছেন। এরপর আর যোগাযোগ করেননি। আমরা তদন্ত শুরু করেছি।

উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক পূর্বপশ্চিমকে জানান, কিছু মাথালরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। আমাদের কাছে থাকা অতিরিক্ত বই থেকে কিছু বই বিদ্যালয়ের জন্য দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় মামলা হয়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেরা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মো. রফিকুর রহমান পূর্বপশ্চিমকে বলেন, থানায় মামলা হয়েছে। দ্রুত দুষ্কৃতিকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে। শেখ হাসিনার স্বপ্ননিয়ে ছেলে খেলা বরদাস্ত করা যাবে না।

উল্লেখ্য, সারাদেশের মতো মৌলভীবাজারেও মাধ্যমিক, প্রাথমিক ও মাদ্রাসা শিক্ষায় ৫ লক্ষ ৬১ হাজার ৭ জন ছাত্র-ছাত্রীর মাঝে ৪৮ লক্ষ ৪শ’৩২ বিতরণ করা হয়েছে বলে পূর্বপশ্চিমকে নিশ্চিত করেছেন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষ ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার।