• শনিবার, ২৬ মে ২০১৮, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
  • ||

মানবতাবিরোী অপরাধ মামলার আসামি মিয়া আব্বাসের কানাডায় মৃত্যু

প্রকাশ:  ০৩ জানুয়ারি ২০১৮, ১২:৫২
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক
প্রিন্ট
বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা) আসনের সাবেক এমপি, বিএনপি নেতা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার আসামি ড. মিয়া আব্বাস উদ্দিন গত বুধবার কানাডার রাজধানী অটোয়ার একটি হাসপাতালে মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও তিন মেয়ে রেখে গেছেন। তার মৃত্যু সংবাদ পেয়ে কানাডায় গোছেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সম্পাদক ও তার শ্যালক ডা. আবু জাফর বিরু। এমন তথ্য জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ট কয়েকজন।

এ ব্যাপারে সোনারগাঁও আওয়ামী লীগের জনৈক (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) নেতা বলেন, ডা. আবু জাফর বিরু জামাত ও যুদ্ধাপরাধীদের টাকা বিনিযোগ করে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নিজেকে সম্পৃক্ত করছেন। ভগ্নীপতি রেখে যাওয়া অর্থই এখন বিরুর মূল হাতিয়ার। ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদলকে তিনি ম্যানেজ করে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ।

ওই নেতা উদ্বেগের সাথে বলেন, যেভাবে দলের শীর্ষ নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে জামাত ও যুদ্ধাপরাধীরা দলে ঢুকছে সেভাবে দলের ত্যাগী নেতাকর্মৗদের দলের হয়ে কাজ করা আগামীতে কষ্টের হয়ে পরবে।

জানা গেছে,  মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মিয়া আব্বাস তৎকালীন খুলনা বিভাগের আল বদর কমান্ডার ছিলেন। এরশাদের শাসনামলে ১৯৮৮ সালে বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এমপি নির্বাচিত হন। নব্বই দশকের শেষের দিকে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। এরপর তিনি মোরেলগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে মোরেলগঞ্জে তার নামে একাধিক মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধ মামলা হয়। এই মামলার তদন্ত শুরু হলে ড. মিয়া আব্বাস উদ্দিন কানাডায় পালিয়ে যান।

ড. মিয়া আব্বাসের স্ত্রী সেতারা আব্বাস বিকালে মোবাইল ফোনে জানান, আমারা পরিবারসহ কানাডার নাগরিক। ছেলে-মেয়ে নিয়ে কানাডাতে স্থায়ীভাবে বসবাস করছি। সন্তানদের ইচ্ছানুযায়ী আমার স্বামীর লাশ গত শুক্রবার কানাডায় দাফন করা হবে।

এদিকে,  মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার আসামি মিয়া আব্বাস উদ্দিনের শ্যালক, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশি ডা. আবু জাফর বিরুকে কয়েক দফা ফোন করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তার একটি ঘনিষ্ট সূত্র জানায়, ভগ্নিপতির মৃত্যুর খবর পেয়ে ডা. আবু জাফর বিরু কানাডায় গেছেন।

এদিকে, ডা. আবু জাফর বিরুর চেম্বারে ফোন করা হলে তার সহকারী জানান, স্যার অসুস্থ তিনি চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে গেছেন।