Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • বুধবার, ১৬ জানুয়ারি ২০১৯, ৩ মাঘ ১৪২৫
  • ||

শীতে জবুথবু রাজশাহী

প্রকাশ:  ০৬ জানুয়ারি ২০১৮, ১৩:৩৩
রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রিন্ট icon
ফাইল ছবি

রাজশাহীতে শনিবার সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

আবহাওয়া অফিসের তাপযন্ত্রের পারদ জানান দিচ্ছে, শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে রাজশাহী অঞ্চলে। বৃহস্পতিবার থেকে চলমান মৃদু শৈত্যপ্রবাহটি আরও ঘনীভূত হয়ে তীব্র শৈত্যপ্রবাহে রূপ নিয়েছে। ফলে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় দুর্ভোগে পড়েছেন এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষ।

ভোরের ঘন কুয়াশার বৃত্ত ছেদ করে সকাল ৯টার পর দেখা মেলে সূর্যের। তারপর সোনালি রোদে ঝলমলে হয়ে উঠেছে রাজশাহী। কিন্তু উষ্ণ হয়ে ওঠেনি। হিমালয় ছুয়ে আসা উত্তরের কনকনে ঠাণ্ডা বাতাসের কাছে যেন হার মেনেছে সূর্যের তেজ।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক লতিফা হেলেন বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে রাজশাহীতে মৃদ্যু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। ওইদিন রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরপর শুক্রবার সামান্য বেড়ে তাপমাত্রা দাঁড়ায় ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

কিন্তু শনিবার সকাল ৬টায় রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা এখন পর্যন্ত চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এর আগে গত বছরের ১৪ জানুয়ারি রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস জানান, আবহাওয়া কর্মকর্তা লতিফা হেলেন।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, রাজশাহীর ওপর দিয়ে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বইছে। কয়েকদিনের মধ্যে এই অবস্থার উন্নতির সম্ভাবনা নেই। তবে রাতে কুয়াশার ঘনত্ব যদি বাড়তে শুরু করে তাহলে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে।

কিন্তু দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচেই অবস্থান করবে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সপ্তাহজুড়ে দুই থেকে তিনটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাবে রাজশাহী ও আশপাশের জেলার ওপর দিয়ে। এ সময় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নামতে পারে বলে জানান, রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

ফলে রাজশাহী মহানগরীসহ গোটা উত্তরাঞ্চলে হঠাৎ করে শীত জেঁকে বসায় দুর্ভোগ বাড়ছে ভাসমান ও ছিন্নমূল মানুষের। প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্রের অভাবে শীতে কাতর তারা। ভোরে ও সন্ধ্যার পর এ মানুষগুলোকে পথের ধারে খড়-কুটোয় আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করতে দেখা যাচ্ছে। তবে সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে গত সপ্তাহ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণও শুরু হয়েছে। কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম বলছেন শীতার্তরা।

শীতে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় ডায়রিয়া দেখা দিয়েছে। এছাড়া রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিউমোনিয়া, সর্দি-কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। এদের মধ্যে নবজাতক, বিভিন্ন বয়সের শিশু ও বয়স্কদের সংখ্যাই বেশি বলে জানিয়েছেন জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আরিফুল হক।

বাড়তি শীত নিয়ে শঙ্কা কাটছে না এ অঞ্চলের কৃষকদেরও। জানুয়ারির শুরুতেই শৈত্যপ্রবাহ শুরু হওয়ায় বোরো বীজতলার কোল্ড ইঞ্জুরি, আলুর আর্লি ব্লাইটসহ ডাল ফসলের নানা শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে এরইমধ্যে। তবে এ জন্য কৃষকদের স্থানীয়ভাবে নিকটস্থ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক দেব দুলাল ঢালি।

শীতকালীন আবাদসহ যেকোনো কৃষি পরামর্শের জন্য এরইমধ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল মাহমুদ শরীফ জানান, শীত মোকাবিলায় এবারও জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি রয়েছে। ইতোমধ্যে ২৬ হাজার ৩২২ পিস কম্বল মহানগরী ও ৯টি উপজেলায় বিতরণের জন্য প্রদান করা হয়েছে।

এছাড়া আগামী দিনে তীব্র শীত মোকাবিলার জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

/নাঈম

apps