• সোমবার, ২৩ জুলাই ২০১৮, ৮ শ্রাবণ ১৪২৫
  • ||

ইভটিজিংয়ে বাঁধা দেয়ায় তরুণকে পিটিয়ে হত্যা

প্রকাশ:  ১৪ জানুয়ারি ২০১৮, ১৯:৩২
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রিন্ট

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় ইভটিজিংয়ে বাঁধা দেয়ায় মিন্টু মিয়া (২৫) নামে এক তরণকে পিটিয়ে হত্যা করেছে ইভটিজাররা। রোববার সকালে মিন্টু মিয়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

গত শুক্রবার সকালে ইভটিজাররা মিন্টু মিয়াকে পিটিয়ে গুরুত্বর আহত করেছিল। এ ঘটনার জের ধরে অভিযুক্তদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করেছে নিহতের আত্মীয়-স্বজনরা। রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো মামলা হয়নি বলে সোনারগাঁও থানার ওসি জানান।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের ছোট সাদিপুর গ্রামে এক কলেজ ছাত্রীকে যাওয়া-আসার পথে উত্ত্যক্ত করতো পার্শ্ববর্তী গ্রামের রফিক মিয়া। বুধবার সকালে কলেজে যাওয়ার পথে জাকির হোসেন ওই ছাত্রীর পথরোধ করে কুরুচিপূর্ণ উক্তি ছুরে দেয়। এ ঘটনাটি ওই ছাত্রী তার বাবা মোতাহার ও মামাতো ভাই মিন্টু মিয়াকে অবহিত করে।

পরে মিন্টু মিয়া ইভটিজার জাকির হোসেনকে ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করতে নিষেধ করেন। এ ঘটনার জের ধরে শুক্রবার সকালে মিন্টু মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা জাকির ও তার সহযোগীরা তার পথরোধ করে রিক্সা থেকে মিন্টুকে নামিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক আহত করে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

এ সময় আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে দু’দিন চিকিৎসার পর রোববার সকালে সে মারা যায়। মিন্টু মিয়ার নিহত হওয়ার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তার স্বজন ও এলাকাবাসী উত্তেজিত হয়ে অভিযুক্তের তিনটি বাড়িঘর ভাংচুর করে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোর্শেদ আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, মিন্টুর হত্যার ঘটনায় এখনও তার আত্মীয়-স্বজনরা মামলা দিতে থানায় আসেনি। তবে আমরা মিন্টু হত্যাকারীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রেখেছি। খুব শিগগিরিই আমরা তাদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হব। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।