• বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ৫ পৌষ ১৪২৫
  • ||

শিশু হত্যার দায়ে পিতা কন্যার যাবজ্জীবন

প্রকাশ:  ১২ মার্চ ২০১৮, ১৫:৫০
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রিন্ট

নেত্রকোনার দূর্গাপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ৫ বছরের তৃষামনিকে শ্বাসরোদ্ধ করে হত্যার দায়ে দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ১ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে নেত্রকোনার আদালত। নেত্রকোনার জেলা ও দায়রা জজ কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা দুপুরে জনাকীর্ণ আদালতে আসামীদের উপস্থিতিতে এ রায় প্রদান করেন।

সাজাপ্রাপ্ত আসামীরা হচ্ছে দূর্গাপুর উপজেলার চন্ডীগড় ইউনিয়নের পাবিয়াখালী গ্রামের মৃত আমীর শেখের পুত্র মঙ্গল হোসেন(৫৫) ও তার কন্যা রুখসানা পারভীন ওরফে খুকুমনি(১৯)। মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে প্রকাশ, পাবিয়াখালী গ্রামের বাসিন্দা নাগেরগাতী অনির্বাণ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ শফিকুল ইসলামের সাথে একই গ্রামের প্রতিবেশী মৃত আমীর শেখের পুত্র মঙ্গল হোসেনের জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। ২০১০ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর শফিকুল ইসলামের ৫ বছরের মেয়ে তৃষামনি ঘর থেকে বের হয়ে পাশের বাড়ী যায়।

সে আর বাড়িতে ফিরে না আসায় তার মা নাছিমা আক্তার আশপাশের সকল বাড়ীঘরে গিয়ে খোঁজ খবর না পাওয়ায় রাতে এলাকায় মাইকিং করা হয়। ২৫ সেপ্টেম্বর দূর্গাপুর থানায় এ ব্যাপারে জিডি দায়ের করা হয়। ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টার দিকে প্রতিবেশী আব্দুল খালেকের মা আদরের নেছা বাড়ীর পিছরে প্রস্রাব করতে গিয়ে তৃষার মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করলে এলাকাবাসী ছুটে এসে থানায় খবর দেয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদনের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। মৃতের পিতা শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর মঙ্গল হোসেনসহ ৪ জনকে আসামী করে দূর্গাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।

পুলিশ তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ৩০ এপ্রিল চার আসামীর বিরুদ্ধেই আদালতে চার্জশীট দাখিল করে। বিজ্ঞ বিচারক ১০ জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহনান্তে আসামী মঙ্গল হোসেন ও তার কন্যা রুখসানা পারভীন ওরফে খুকুমনির বিরুদ্ধে অপরাধ সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণীত হওয়ায় উপরুক্ত রায় প্রদান করেন। মামলার অপর দুই আসামী আল আমিন ও জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণীত না হওয়ায় তাদেরকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন ভারপ্রাপ্ত পিপি এডভোকেট সাইফুল আলম প্রদীপ আর আসামী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এডভোকেট নজরুল ইসলাম খান।

apps