• মঙ্গলবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৮, ১১ বৈশাখ ১৪২৫
  • ||
  • আর্কাইভ

দিনাজপুরের ১৯টি নদী এখন মরা খাল

প্রকাশ:  ১৮ মার্চ ২০১৮, ০৯:৫৬
দিনাজপুর প্রতিনিধি
প্রিন্ট
উজানে ফারাক্কা বাঁধের কারণে বৃহত্তর দিনাজপুরের ১৯টি নদ-নদী বিলিন হওয়ার পথে। এসব নদী এখন মরা খালে পরিনত হয়েছে। নদী শুকিয়ে যাওয়ায় বড় বড় চর ভেসে উঠেছে। এসব নদীতে এখন চাষাবাদ হচ্ছে। মানুষজন পায়ে হেটে নদী পার হচ্ছে। প্রবাহমান এসব নদ-নদী শাখা-প্রশাখা নদী, ছড়া নদী, নালাগুলো এখন এ অঞ্চলের মানুষের কাছে শুধুই স্মৃতি হয়ে আছে।
 
দিনাজপুর পুনর্ভবা নদীর তীরে অবস্থিত। এক সময়ে এই দিনাজপুরে নদী পথে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বণিককেরা ব্যবসার জন্য আসতো। কালের বির্বতনে বিলীন হতে চলেছে এই নদীর অস্তিত্ব। এখন নদীপথের কোন অস্তিত্ব নেই। শুধু পুর্নভবা নয়, দিনাজপুরের খরস্রোতা ছোট-বড় অনেক নদী এখন শুধুই বালুচর। অনেক জায়গায় এসব নদী এখন খেলার মাঠে পরিণত হয়েছে। নদীর উপর হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতু দাঁড়িয়ে থাকলেও নিচ দিয়ে হেঁটেই পার হচ্ছে মানুষ, গরু-ছাগল, ট্রাক দিয়ে তোলা হয় বালু। এসব নদীর নাব্যতা ধরে রাখতে ড্রেজিং জরুরী হয়ে পড়লেও এ ব্যাপারে একেবারেই উদাসীন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ।
 
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের তিস্তা ব্যারেজ থেকে ১’শ কিলোমিটার উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুঁড়ি জেলার গজলডোবা নামক স্থানে ভারত সরকার বাঁধ নির্মাণ করায় তিস্তা অববাহিকার পানিপ্রবাহ অস্বাভাবিক হারে কমে গেছে। ফলে দেশের উত্তরাঞ্চলের নদীগুলো পানির অভাবে শুকিয়ে গেছে। নদীতে পানি না থাকায় তিস্তা চরাঞ্চলে বসবাসকারী লাখ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকায় নেমে এসেছে চরম হাহাকার।
 
দিনাজপুর পানি উন্নয়ন সুত্রে জানা গেছে, বৃহত্তর দিনাজপুর জেলার (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়) উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ১৯টি নদীর দৈর্ঘ্য ৭২৮ কিলোমিটার। নদীগুলোর উৎসস্থল হিমালয় পর্বত। কালের বিবর্তনে ও নদী সংস্কারের অভারে পুর্নভবা, করতোয়া, আত্রাই, ঢেপা, গর্ভেশ্বরীী, তুলাই, কাঁকড়া, ইছামতি, ছোট যমুনা, তুলসী গাংগা, টাঙ্গন, নদীগুলো এখন পরিনত হয়েছে ধু-ধু বালু চরে। এসব নদ-নদী এখন পানির অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে। বর্তমানে অনেক স্থানেই এসব নদীর কোন অস্বিত্বই দেখা যায় না। বর্ষাকালে এসব নদীতে সামান্য পানি থাকলেও শীত মৌসুমে এসব নদীতে পানি থাকে না। তখন নদী তীরের মানুষ চাষাবাদ করে এসব নদীতে।
 
পানি উন্নয়ন বোর্ড আরো জানায়, উজানে ভারত সরকার বিভিন্ন উপায়ে নদী শাসন করায় বাংলাদেশ অংশের নদীগুলোয় পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়াও নদীগুলোর খনন কাজ না করায় দিন দিন ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি প্রবাহের গতি প্রকৃতি বদলে যাচ্ছে। এসব নদীর নাব্যতা হারানোর কারনে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিতে নদী ভরাট হয়ে দুই কুলের নি¤œঞ্চল প্লাবিত হয়। এতে প্রায় দেড়লাখ জমির ফসল নষ্ট হয়ে যায়।
 
দিনাজপুর শহরের মৎস্যজীবী জোবায়দুর রহমান ও মোঃ খলিল জানান, নদীকে ঘিরে দিনাজপুরে প্রায় ২৫ হাজার পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে। নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় মৎস্য শিকার কমে গেছে। বেকার হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার মৎস্যজীবী পরিবার ।
 
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, দিনাজপুর সদর, ফুলবাড়ী, পার্বতীপুর কাহারোল, বীরগঞ্জ, বিরামপুর, নবাবগঞ্জ ও চিরিরবন্দর উপজেলার পুর্ব-পশ্চিম পাশ দিয়ে প্রবাহিত পুর্নভবা আত্রাই গর্ভেশ্বরী ও ইছামতি নদী কোনো রকমে চেনা গেলেও বাকি নদীগুলো খালে পরিনত হয়ে গেছে। এই সুযোগে একটি মহল নদীর দুই পাড় দখল করে ইমারত নির্মানে ব্যস্ত। ভবিষ্যতে এসব নদীতে ড্রেজিং করার পথও বন্ধ হয়ে যাবে। সদর উপজেলার পুর্নভবা নদী মাজাডাঙ্গা থেকে কামদেবপুর পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার নদীর পাড় এখন দখলদারদের দখলে।
 
দিনাজপুর জেলা প্রশাসক ড. আবু নঈম মোহাম্মদ আবদুছ ছবুর জানায় ,বর্ষা মৌসুমে জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত সবগুলোতে নদীতে পানি ধরে রাখতে পারে না ফলে নদীর তীরবর্তী এলাকা গুলিতে বন্যায় পরিনিত হয় । আর বর্ষা মৌসম শেষ হওয়ার সাথে সাথে নদীর পানি কমতে থাকে ।  খড়া মৌসুমে জেলার অধিকাংশ নদীগুলো শুকিয়ে যায় । নদীতে গুলোতে পানি ধরে রাখার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নদীগুলোকে ড্রেজিং আর নদীতে রাবার ড্রাম তৈরী করার পরিকল্পনা রয়েছে  ।