• বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
  • ||

প্রতিমায় তুলির আঁচড়ে ব্যস্ত শিল্পীরা

প্রকাশ:  ১২ অক্টোবর ২০১৮, ১৯:৪২
পাবনা প্রতিনিধি
প্রিন্ট

পাবনার নয়টি উপজেলায় শারদীয় দূর্গাপূজা উপলক্ষে নানা প্রস্তুতি চলছে। মন্দিরে মন্দিরে শুরু হয়েছে সাঁজসজ্জা। শেষ সময়ে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন মৃৎশিল্পীরা। মাটির কাজ শেষ করে এখন চলছে শেষ মুহুর্তের অলঙ্করণ ও রঙ তুলির কাজ।

অন্যদিকে পূজা উপলক্ষে হিন্দু ধর্মালম্বীদের ঘরে ঘরে শুরু হয়েছে নানা আয়োজন। বাড়িঘর পারিস্কার থেকে শুরু করে নতুন পোশাক কেনা, অতিথি আপ্যায়নের জন্য নারকেলের নাড়ু ও মুড়ির মোয়াসহ বিভিন্ন মিষ্টান্ন তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন নারীরা। সুষ্ঠ ও সুন্দরভারে পূজা উদযাপনের লক্ষ্যে জেলা-উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী নিচ্ছে নানা প্রস্তুতি।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সুত্রে জানা গেছে, আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। চলতি বছর জেলার ৯টি উপজেলায় ৩৪১টি মন্দিরে দূর্গাপূজা প্রস্তুতি চলছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৫৫টি, আটঘরিয়ায় ১৫টি, চাটমোহরে ৫২টি, ভাঙ্গুড়ায় ১৯টি, ফরিদপুরে ১৩টি, সাঁথিয়ায় ৪৯টি, বেড়ায় ৫৪টি, সুজানগরে ৫৯টি ও ঈশ্বরদীতে ২৫টি মন্দিরে পূজার প্রস্তুতি চলছে। প্রশাসনের তরফ থেকে এসব মন্দিরের মধ্যে ১৪২টিকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ১০৬টিকে গুরুত্বপূর্ণ ও ৯২টি মন্দিরকে সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রতিটি মন্দিরে পৃথক পৃথক কমিটি পূজার আয়োজন করছে। এছাড়া উপজেলা ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সার্বিকভাবে তাঁদের খোঁজখবর রাখছে। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বাদল কুমার ঘোষ জানান, সুষ্ঠ, সুন্দর ও শৃঙ্খলভাবে পূজা উদযাপনের লক্ষ্যে ইতমধ্যেই কয়েকদফা বৈঠক করা হয়েছে। প্রতিটি মন্দিরে পুরোদমে পূজার প্রস্তুতি চলছে। মন্দিরগুলোতে বরাবরের মত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, পূজায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ইতমধ্যেই পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে বৈঠক হয়েছে। এছাড়া পূজা উদযাপন পরিষদ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে কিছু সিন্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রতিটি মন্দিরে পোশাকধারীদের পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। আশা করছি প্রতিবারের মত এবারও শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার জেলা শহর ও আশপাশের বেশকিছু পূজা মন্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমা তৈরির শেষ কাজটুকুতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা। মাটির কাজ শেষ করে চলছে অলঙ্করণ ও রঙের তুলির শেষ আঁচড়। পাশাপাশি চলছে মন্দিরে মন্দিরে আলোকবাতি ও তোরণ নির্মাণসহ সাঁজ সজ্জার কাজ। জেলা শহরের আব্দুল হামিদ সড়ক, স্কয়ার সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কে তৈরি করা হচ্ছে বড় বড় তোরণ। শহরের বিপনী বিতানগুলোকে চোখে পাড়েছে হিন্দুধর্মালম্বী নারী-পুরুষের ভীড়। ধুতি পাঞ্জাবীর পাশাপাশি শাড়ি গহনা কিনছেন নারীরা।

শহরের গোপালপুর লাহিড়িপাড়া মহল্লার মদন মোহন জিউ বিগ্রহ মন্দির থেকে মৃতশিল্পী দেবেশ পাল জানান, তিনি বেশ কয়েকটি মন্দিরে প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন। অধিকাংশ প্রতিমারই এখন অলঙ্করণের কাজ চলছে। দুই একদিনের মধ্যে রঙের কাজ শুরু হবে।

শহীদ পল্টু ক্লাব দূর্গা মন্দিরের কারিগর ধণঞ্জয় কুমার পাল বলেন, রাতদিন কাজ চলছে। গহনা ও সাজসজ্জা শেষ হলে রঙ-তুলির আঁচরে প্রতিমাকে সাঁজিয়ে তোলা হবে।

পল্টু ক্লাব পূজা উদযাপন কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সঞ্জয় কুমার সাহা বলেন, আমরা মন্দিরে পূজার প্রস্তুতি নিচ্ছি। বাড়ীর নারী সদস্যরা অতিথি আপ্যায়ন সহ অন্য সকল প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

শহরের নিমতলা মহল্লার অঞ্জলী ভৌমিক জানান, ইতমধ্যেই বাড়িঘর পরিস্কারের কাজ শেষ হয়েছে। এখন কেনাকাটা ও অতিথি আপ্যায়নের জন্য মিষ্টান্ন তৈরি করা হচ্ছে। তাঁদের একান্নবর্তী পরিবার। স্বামী, শাশুড়ি, ভাসুর, দেবর সবাই একসঙ্গে থাকেন। বাড়ির ছোটদের জন্য শার্ট-প্যান্ট-গেঞ্জি ও নারীদের জন্য শাড়ি কেনা হয়েছে। এখন ছেলেদের জন্য ধুতি ও পাঞ্জাবী কেনা হবে।

কাচারিপাড়া হমল্লার বনি ঘোষ বলেন, নিজেদের কেনাটাকার পাশাপাশি নিকট আত্মীয় স্বজনদের জন্য নতুন পোশাক কেনা হচ্ছে। এছাড়া সিঁদুর খেলার জন্য সিঁদুর, আলতা ও আবির কেনা হয়েছে।

গোপালপুর মহল্লার শুক্লা মজুমদার বলেন, অতিথি আপ্যায়নে জন্য নারকেলের নাড়ু, গুড় দিয়ে মুড়ি-খইয়ের মোয়া ও দুধ চিনির সন্দেশ তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া পূজার দিনগুলির জন্য পায়েস ও লুচি তৈরির জন্য প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

/পি.এস

পাবনা,শিল্পী
apps