Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • বৃহস্পতিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০১৯, ১১ মাঘ ১৪২৫
  • ||

উত্তপ্ত হাবিপ্রবি, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

প্রকাশ:  ০৯ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:০৬
দিনাজপুর প্রতিনিধি
প্রিন্ট icon

দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) ক্লাস পরীক্ষা চালুর দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াজেদ ভবনের মুল ফটকে তালা দিয়ে প্রশাসন ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেছে বিজ্ঞান অনুষদ ও কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের শিক্ষার্থীবৃন্দ। এ সময় তারা শ্লোগান দেয় 'আমাদের দাবী একটাই ক্লাস পরীক্ষা চালু চাই'।

বুধবার (৯ জানুয়ারি) সকাল ৯টা হতে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে ছাত্রছাত্রী বিক্ষোভ করেছে ।

গত দুই মাস ধরে বিজ্ঞান অনুষদ ও কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ছাত্রছাত্রীদের ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ করে ৫৭ জন সহকারী অধ্যাপকেরা বর্ধিত বেতন সুবিধার প্রাপ্যতার দাবিতে বিভিন্ন কর্মসুচি পালন করছে । ৫৭জন শিক্ষকের ঐ দাবিকে যৌক্তিক দাবি বলে মনে করে প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম সংগঠনের শিক্ষকেরা একাত্মতা মনে করে তারাও অবস্থান কর্ম পালন করছে ।

ইলেকট্রনিক্স এন্ড কমিউনিকেশন বিভাগের শিক্ষার্থী খায়রুল আলম বলেন, ‘কত কষ্ট করে বাবা মা টাকা পাঠায় পড়াশুনা শেষ করে ছেলে একটা ভালো চাকরি করবে। অথচ শিক্ষকরা তাদের নিজেদের স্বার্থে আমাদের বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখেনা। ক্লাস পরীক্ষা চালুর দাবিতে প্রশাসনের কাছে গেলে তারা আন্দোলনকারি শিক্ষকদের দেখিয়ে দেয় আন্দোলনকারী শিক্ষকরা দেখিয়ে দেয় প্রশাসনকে। খায়রুল আলম আরো বলেন শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে শিক্ষকরা রীতিমতো টেবিল টেনিস খেলছে।

আগামীকালকের( ১০ ই জানুয়ারী ) মধ্যে ক্লাস পরীক্ষা চালু না হলে প্রশাসনিক ভবনসহ সকল বিভাগে তালা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় অচল করে দেবার হুমকিও প্রদান করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে দেখা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের মূল ফটকে সিঁড়িতে বসে বর্ধিত বেতন সুবিধার প্রাপ্যতা এবং বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্টারকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্তকৃত দুই শিক্ষকের বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারের দাবীতে পূর্বের ন্যায় অনশন পালন করছে ৫৭জন সহকারি অধ্যাপক। অন্যদিকে প্রশাসন ভবনের সামনে যৌন নির‌্যাতনকারী শিক্ষকের বরখাস্তের দাবী নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সংগঠন (প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম) এর শিক্ষকবৃন্দ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।

এদিকে বর্ধিত বেতন সুবিধার প্রাপ্যতা নিয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের মধ্যে ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারি অধ্যাপক কৃষ্ণ চন্দ্র রায় বলেন, ইতিপূর্বে প্রশাসনের মদতে ছাত্র নামধারী কিছু উচ্ছৃঙ্খল শিক্ষার্থী যখন আন্দোলনকারী শিক্ষকদের উপরে হামলা চালালো, মহিলা শিক্ষককে লাঞ্ছিত করলো তার প্রশাসন সেগুলোর বিচার না করে রেজিস্ট্রারকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে ২জন শিক্ষককে সাময়িক বহিস্কার করলো। এগুলো আমাদের সাথে বিমাতা সুলভ আচরণ। প্রত্যেকটি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর‌্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবার কথাও বলেন তিনি।

অন্যদিকে যৌন নির‌্যাতনকারি শিক্ষকদের বরখাস্তের দাবীতে আন্দোলনকারী প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের শিক্ষকদের মধ্যে প্যাথলজি এন্ড প্যারা সাইটোলজি বিভাগের প্রফেসর এস.এম হারুন অর রশিদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক রেজিস্ট্রার ড. বলরাম রায় বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেবার মত কোন ঘটনা ঘটেনি। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয় একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী। অথচ তিনি কারো সঙ্গে পরামর্শ না করে ঢাকায় রিজেন্ট বোর্ডের সভা ডেকে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষনা করেন।

তারা আরো বলেন প্রশাসন বেশ কয়েকবার আশ্বাস দিয়েছে বিষয়গুলোর নিষ্পত্তি করার জন্য। কিন্তু টালবাহানা করেছে। বিষয়গুলোর সুরাহা না করে উল্টো ২জন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে এবং মামলা হামলা চাপিয়ে দিয়েছে। তারা বলেন আমরাও ক্লাসে ফিরতে চাই। কিন্তু প্রত্যেকটি বিষয়ের সঠিক বিচার না হওয়া পর‌্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে ঘোষনা দেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান ঘটনা প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার‌্য আবুল কাসেম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন, অর্থ মন্ত্রনালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ইনক্রিমেন্ট প্রাপ্যতা নিয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষকদেরকে ইনক্রিমেন্ট সুবিধা দেবার নিজস্ব কোন এখতিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নেই। এ ক্ষেত্রে তারা সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোতে বিষয়টি উপস্থাপন করতে পারে; প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদেরকে সহযোগীতা করবে। যৌন নির‌্যাতনকারী শিক্ষকদের বহিস্কার এবং রেজিস্ট্রারকে লাঞ্ছিতের অপরাধে দুইজন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ ঘটনার প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সেই তদন্ত কমিটির রিপোর্ট হাতে পাবার পরে রিজেন্ট বোর্ডের সভায় উত্থাপন করা হবে এবং অপরাধীদেরকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়ার পরে রিজেন্ট বোর্ড চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে। আগামীকাল সকাল ১১টার সময় প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের শিক্ষকদের সাথে তিনি বৈঠক করবেন বলে জানিয়েছেন। একইসাথে তিনি আশ্বস্ত করেছেন খুব কম সময়ের মধ্যে সকল বিষয়ের নিষ্পত্তি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে তার প্রশাসন কাজ করছে।

পিবিডি/আরিফ

হাবিপ্রবি
apps
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত