Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • শুক্রবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০ ফাল্গুন ১৪২৫
  • ||

জবির পুরান ক্যাম্পাসের বিনিময়ে নতুন ক্যাম্পাসের গুঞ্জন, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

প্রকাশ:  ১২ অক্টোবর ২০১৮, ১৫:৪৫
জবি প্রতিনিধি
প্রিন্ট icon

পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) পুরাতন ক্যাম্পাসের বিনিময়ে নতুন ক্যাম্পাস স্থাপন প্রকল্প অনুমোদনের গুঞ্জন উঠেছে। নতুন ক্যাম্পাসের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলেই পুরাতন ক্যাম্পাস সরকারের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। এই গুঞ্জন ছড়িয়ে পরার সাথে সাথে সোসাল মিডিয়া ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

নায়েম হোসেন দাবি জানিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, জবির বর্তমান ক্যাম্পাস ছেড়ে দেয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না! জবির বর্তমান ক্যাম্পাস জবির ঐতিহ্য, আর এই ঐতিহ্য রক্ষার দায়িত্ব প্রত্যেক জবিয়ানের! তাছাড়া কেরানীগঞ্জে ক্যাম্পাস হলে জবির বর্তমান ক্যাম্পাস ছেড়ে দিতে হবে কেন, পূর্বাচলেও তো ঢাবি তাদের ক্যাম্পাস সম্প্রসারণ করতে যাচ্ছে, কই তারা তো তাদের বর্তমান ক্যাম্পাস ছেড়ে দিচ্ছে না!

ক্ষোভ প্রকাশ করে হোসেন সাদ্দাম তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, এক বনে ২ সিংহ থাকতে পারে না, তাই জগন্নাথকে নদীর ওপারে পাঠিয়ে দিতে ঢা.বি. প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। ঢা.বি.র স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে জগন্নাথের আপন মানুষ (ঢা.বি.'র এজেন্ট) হিসাবে পরিচিত কয়েকজন। জব মার্কেটে ঢা.বি'র চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী জ.বি। জ.বি'র সফলতায় তারা ঈর্ষাণ্বিত। কেরানীগঞ্জ হতে হবে জগন্নাথের ২য় ক্যাম্পাস, নট ট্রান্সফরমেশন।

জবির শিক্ষার্থী দ্বারা পরিচালিত জবিয়ান’স পেজে লিখেছেন, উন্নয়নের নামে জগন্নাথকে পঙ্গু করার পায়তারা আমরা ভালো করেই রোধ করতে পারি। পুরাতন ক্যাম্পাসের ঐতিহ্য আর ভালোবাসা নিয়েই জগন্নাথ এ দেশে মাথা উঁচু করে থাকবে।

‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’ পেজে লিখেছেন. স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই , ঐতিহ্যবাহী জবির বর্তমান ক্যাম্পাস জবির মূল ক্যাম্পাস ই থাকবে, কেরানীগঞ্জে ক্যাম্পাসের নাম হবে জবি আউটার ক্যাম্পাস বা ২য় ক্যাম্পাস বা অন্য কোন নামে। এখানে(বর্তমান ক্যাম্পাসে) অবশ্যই একটি / দুটি ফ্যাকাল্টি বা ইনস্টিটিউট রাখতে হবে।

মূল ক্যাম্পাস পুরান ঢাকাতেই থাকবে। জবিকে ঢাকার বাইরে পাঠানোর চক্রান্ত করে লাভ নেই। ঢাকার বাইরে আছে জাহাঙ্গীরনগর, এখন জবিকে ঢাকার বাইরে কিক করে ঢাকায় সাম্রাজ্য বানানোর চক্রান্ত করে লাভ নেই। যেভাবে ২৭/৪ বাতিল করতে বাধ্য করা হয়েছিল সেভাবেই বাধ্য করা হবে। সরকারে বা জবি প্রশাসনে যারাই থাকেন,এ ব্যাপারে সচেতন হোন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার হুমকি পেয়েও বসে থাকবে না। ঢাকার শহরে আগুন জ্বলবে। সাবধান হয়ে যান।

জবির ইংরেজী বিভাগের সাবেক শিক্ষক লিখেন, জগন্নাথের জায়গা অবশ্যই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েরই থাকতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে তো এমন কোন শর্ত নেই। জগন্নাথের ক্ষেত্রে কেনো? উনাদের কলোনিকাল মেন্টালিটি পরিবর্তন করতে হবে।

ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি রুহুল আমিন নতুন এ প্রকল্পটিকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, আমাদের বর্তমান ক্যাম্পাসকে অক্ষুন্ন রেখে দ্রুত সম্প্রসারণ করা হোক।

গুঞ্জনের বিষয়ে রে‌জিস্ট্রার প্র‌কৌশলী ওহিদুজ্জামান ব‌লেন, আমরা এখনও কোন শ‌র্তের কথা জা‌নি না। কারণ এখন মুল ইন্ট্র‌লেশন পাইনি। এটা আস‌তে অন্তত এক মাস লাগ‌বে। তখন বুঝা যাবে যে কি শর্ত র‌য়ে‌ছে। যারা বল‌ছে, ক্যাম্পাস স্থানান্তর এর বি‌নিম‌য়ে এ প্রকল্প অনু‌মোদন দি‌য়ে‌ছে তা‌দের এ কথার ভি‌ত্তি কী আ‌মি জা‌নি না।

উল্লেখ্য, গতকাল (৯ অক্টোবর-২০১৮) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-এর সভাপতিত্বে একনেক-এর ১৪৬তম সভায় ১ হাজার ৯২০ কোটি ৯৪ লক্ষ ৩৯ হাজার টাকা ব্যয়ে ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস স্থাপন: ভূমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন’ প্রকল্প অনুমোদিত হয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে আধুনিক ও বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ঢাকা জেলার কেরাণীগঞ্জ থানার তেঘরিয়া ইউনিয়নের পশ্চিমদি মৌজায় প্রায় ২০০ একর ভূমির উপর নতুন ক্যাম্পাস নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

উল্লেখ্য, মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী নতুন ক্যাম্পাসে একাধিক একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য হল, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আবাসন ব্যবস্থা, চিকিৎসা কেন্দ্র, ক্যাফেটেরিয়া, খেলার মাঠ, সুইমিং পুল, মসজিদ এবং পরিবহণ ও আধুনিক বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

ওএফ

জবি,ক্যাম্পাস
apps
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত