Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৯, ৭ বৈশাখ ১৪২৬
  • ||

যৌনতা কোন বিলাসিতা নয়, পৃথিবীর চালিকাশক্তি

প্রকাশ:  ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:৪২ | আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২৩:৩৯
মানস মেহেদী
প্রিন্ট icon
মানস মেহেদী

ইংরেজি সাল ২০১৯! উন্নত প্রযুক্তির আশীর্বাদে মুহূর্তে অনেক কিছু করে ফেলতে পারি। বলা যায় সভ্যতার শীর্ষে দাড়িয়ে আছি। কিন্তু যখন দেখি দুই বছরের শিশু ধর্ষণের শিকার হয় বা জন্মদাতার হাতে কন্যা ধর্ষিতা হয় তখন সেটাকে আর যাই বলি না কেন সভ্যতা বলা যাবে না।

অসভ্য যুগেও কি এই ধরনের মানবিকতা বিবর্জিত ঘটনা ঘটেছিল? ইতিহাস থেকে কিছুটা আন্দাজ করতে পারি, সেই সময়টায় পতিতাবৃত্তি পর্যন্ত ছিল। ধর্ষণের ঘটনা যেন এখন আর তেমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় না। প্রায় প্রতিদিন ধর্ষণ কিংবা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে নারী, শিশু। বিশেষ করে নিম্ন শ্রেণীর নারী বা শিশুরা সব থেকে বেশি ধর্ষিত বা লাঞ্চিত হচ্ছে।

যখন বলছি নিম্নশ্রেণীর নারীরা সব থেকে বেশি ধর্ষণের শিকার ঠিক তখন আরো একটা ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এটা নিম্নশ্রেণীর ঘটনা না, একজন সেনাবাহিনীর অফিসার তার সাত বছরের মেয়েকে ধর্ষণ করেছে। এ যেন একটা ৯ বা ১০ রিক্টার স্কেলের ভূমিকম্প ঘটে গেলে ভেতরে। কী দেখছি! কী শুনছি! কোটি কোটি পিতা-কন্যার সম্পর্কের মধ্যে একটা কালো দাগ টেনে দিয়েছে মানুষের অবয়ব নেয়া হিংস্র বন্যপশু।

গত কিছুদিন থেকে দেখছি প্রায় প্রতিদিন ধর্ষণ বা লাঞ্ছিত হবার ঘটনা ঘটে চলছে। তা নিয়ে খুব চঞ্চল হচ্ছে ফেসবুক থেকে শুরু করে নানান ধারার অনলাইন এবং সামাজিক মাধ্যমগুলো। কয়েকদিন পরে সেই একই ঘটনা ঘটছে নতুন কারো সাথে। তখন আগের জন কে পাশে রেখে নতুন জনকে নিয়ে কথা চালাতে হয়। মনে হচ্ছে এটা সত্য কোন ঘটনা নয়, ফিকশন মাত্র। এভাবেই বদলি হয়ে চলতে থাকে সভ্য বাংলার ধর্ষণ চিত্রের অনলাইন অঙ্কন।

সব থেকে বড় সমস্যা হল মূলে না গিয়ে চিৎকার চেঁচামেচি করার প্রবণতা, অনলাইন আসার পরে যা অনেক বেড়ে গেছে। একটা কথা বলি, অনলাইন আসার ফলে মূল সমস্যা হয়েছে সকল ঝগড়া অনলাইনে গিয়ে আটকে থাকে। খুব অল্প সংখ্যক মানবিক মানুষ সরাসরি এগিয়ে আসছে। আমার মনে হয় এই অনলাইন যদি একাত্তরের আগে আসতো তবে স্বাধীন বাংলাদেশ আর দেখা হতো না। যাক সেই প্রসঙ্গে না যাই, যে প্রসঙ্গে কথা বলছি সেটাই আলোচনা করি। সমস্যার মূলে গিয়ে বুঝতে হবে সমস্যা হঠাৎ কেন বেড়ে গেলো? সেটা নিয়ে কিছু মতামত গ্রহণ করে পরিকল্পনা মাফিক এগোলে সমাধান সম্ভব।

আমার দৃষ্টিতে ধর্ষণের মতো ভয়াবহ ব্যাধি বৃদ্ধির প্রধান কারণ, অবাধ সহজলভ্য যৌনতা বর্ধক ভিডিও বা সরাসরি পর্ণ ভিডিও। ইদানিং কালে নতুন ধারা চালু হয়েছে। সঙ্গমের স্ক্যান্ডাল। কেউ কেউ পুনর্বার সুযোগ নেবার জন্য লুকোনো ক্যামেরায় ভিডিও ধারণ করে, যখন বনিবনা হচ্ছে না তখন স্ক্যান্ডাল সাইটগুলোতে ছেড়ে দিচ্ছে। ভারতীয় কিছু সিনেমা বা ওয়েব সিরিজ যেখানে পরকীয়া বা যৌনতাকে প্রমোট করে চলেছে প্রতিনিয়ত। যখন কোন ব্যক্তি এই সিনেমাগুলো দেখছে তখন ধীরে ধীরে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে যৌনতায়। এক ধরনের মেন্টাল ট্রমায় পড়ে যাচ্ছে। খেয়াল করলে দেখবেন এই ধরণের ধর্ষণের ঘটনা বেশ আগে থেকেই ভারতে ঘটে আসছে।

একটা ঘটনা বললে বুঝতে সুবিধা হবে। আন্তর্জাতিক একটা সংবাদ মাধ্যমের অনলাইন সংস্করণে পড়ার পরে বুঝে আসলো সমস্যাটা কোথায়। প্রতিবেদনটি এই রকম ছিল: কনজারভেটিভ পরিবারের একটা মেয়ে আমেরিকান মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরী করত। সেখানে তার পুরুষ সহকর্মীরা মাঝে মাঝেই পর্ণভিডিও দেখতো। প্রথম প্রথম মেয়েটি অস্বস্তি মনে করলে এক সময় ব্যক্তিগতভাবে পর্ণভিডিওতে আসক্ত হয়ে পড়ে। একসময় গিয়ে নিষিদ্ধ সম্পর্কের পর্ণ ভিডিও দেখতে শুরু করে। সব শেষে চিকিৎসকের পরামর্শে অনেকটাই সুস্থতার পথে। এখন তো পর্ণ সাইটগুলো ভিউ বাড়াবার জন্য বিভিন্ন নিষিদ্ধ টাইটেলে বা সরাসরি গল্পেও নিষিদ্ধ সম্পর্ক নিয়ে ভিডিও বানায়। পর্ণসাইটগুলোতে মা-ছেলে, বাবা-মেয়ে, ভাই-বোনের নামে পর্ণগল্প তৈরি করে। এটা কোন সাহসিকতা নয় সভ্যদের চূড়ান্ত অসভ্যতা।

প্রতিবেদনটা তুলে ধরার কারণ মূলত পর্ণভিডিও আমাদের কতটা ক্ষতি করছে সে সম্পর্কে আলোকপাত করা। প্রতিবেদনের মেয়ে সুশীল সুশিক্ষিত বলে শুধু পর্ণ ভিডিও দেখেই শান্ত থেকেছে। আমাদের মতো দেশের একজন নিম্নশ্রেণীর পুরুষ যখন এই ভিডিও দেখবে তখন সে সেভাবেই চিন্তা করবে। দূরের কাউকে যখন পাবে না তখন পাশের বাড়ির নাবালিকা মেয়ের দিকে হাত বাড়াতেও দ্বিধা করছে না। শুনতে খারাপ লাগলেও এই ধরণের ঘটনা আমরা প্রত্যক্ষ করছি প্রতিনিয়ত।

পর্ণভিডিও দেখা রোগ কি না তা নিয়ে গবেষকদের মধ্যে বেশ আলোচনা চলছে। কিছুদিন পূর্বে একদল গবেষক বলেছেন, পর্ণভিডিও দেখাও এক ধরণের রোগ। যেমন একবার ড্রাগ এডিক্টেড হলে আপনার হিতাহিত জ্ঞান থাকে না। পর্ণ ভিডিও তেমন। ড্রাগের মতোই নেগেটিভ ইফেক্ট ফেলে শরীর ও মনে।

ভবিষ্যতের একটা ছবি দেখা যাক। মনে করেন, কোন এক প্রেমিক যুগল আজ মনের আনন্দে নিজেদেরকে স্মার্ট প্রমাণে একান্ত ব্যক্তিগত উপভোগের মুহূর্তের ভিডিওটি ছড়িয়ে দিল। আর সেটি রয়ে গেল অন্তর্জালে। দশ বছর পরে এদের কোন ছেলে বা মেয়ে মায়ের সঙ্গমের ভিডিও যখন দেখবে, সে বাবাই হোক বা অন্য কোন পুরুষের সাথেই হোক- তখন সেটা কেমন প্রভাব ফেলবে ঐ সন্তানের মনে?

এমন সমস্যার ইফেক্ট অলরেডি আমরা দেখতে পাচ্ছি। অদূর ভবিষ্যতে ধর্ষণ, নারী খুন, পারিবারিক কলহ বাড়বে অনেক বেশি। কী হারে বাড়বে সেটা অনুমান করতে পারছি না। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে বা একটা বড় সামাজিক আন্দোলন গড়ে না উঠলে আপনার আমার সবার কপালে বড় ধরনের দুঃখ আছে। নাকি নারীকে ঘরের ভেতরই আবদ্ধ করে দেবেন? সেটা কি সমাধান নাকি আরেকটি সমস্যার সূচনা!

একটা কথা বলে শেষ করতে চাই। যৌনতাকে আমরা বিলাসিতার দৃষ্টিতে দেখছি। নারীকে ভোগের চোখে। অথচ যৌনতা কোন বিলাসিতা নয়, পৃথিবীর চালিকাশক্তি। সময় এসেছে এখন স্কুল-কলেজে এই মৌলিক মূল্যবোধটি শিক্ষা দেওয়ার। নারীকে ভোগ্য পণ্য হিসেবে দেখা ও উপস্থাপন করা বাদ দিয়ে মানুষ হিসেবে দেখার মূল্যবোধ ও মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। সেজন্য ভূমিকা রাখতে হবে স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে মিডিয়া ও প্রশাসনকেও। তবে সবচে বড় দায়িত্বটা যার ঘাড়ে, তার নাম 'পরিবার'।

সুন্দর সমাজের জন্য, সুস্থ আগামীর জন্য আমরা আমাদের পরিবারে নারীকে মানুষ হিসেবে দেখার শিক্ষা নেবো, শিক্ষা দেবো এই প্রত্যাশা রেখে শেষ করছি।

মানস মেহেদী: চলচিত্র নির্মাতা ও লেখক।

পিবিডি/ হাসনাত

মানস মেহেদী,চালিকাশক্তি,যৌনতা
apps
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত