Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০১৯, ৮ চৈত্র ১৪২৫
  • ||

‘পুরষ্কার আছে চমক নেই, চেয়েছি ২১ শে পদক পেয়েছি মন্ত্রীত্ব’

প্রকাশ:  ০৩ জানুয়ারি ২০১৮, ১৮:৩৭ | আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০১৮, ১৮:৪৪
পীর হাবিবুর রহমান
প্রিন্ট icon

ভোটের বছর, নতুন বছরের শুরুতেই মন্ত্রিসভায় আংশিক রদবদলে পুরষ্কার আছে, চমক নেই। মঙ্গলবার নতুন মন্ত্রীদের শপথ ও বুধবার দপ্তর বন্টনের পর এমন আলোচনাই ঠাঁই পেয়েছে নানা মহলে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুরু থেকেই দলের প্রবীণ ও তৃণমূল নেতাদের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই দিয়ে দলের জন্য তাদের ত্যাগের যে স্বীকৃতি দিয়ে আসছেন তারই আরেক দফা প্রতিফলন ঘটালেন।

ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনের আগে তারা হাতে সময় কম পেলেও নিজেদের স্বীকৃতিটা পেলেন। বড় ধরণের রদবদল ঘটেনি মন্ত্রিসভায়। অভিজ্ঞ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে বন ও পরিবেশ থেকে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে নিয়ে যাওয়া ও আরেক অভিজ্ঞ আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে পানি সম্পদ থেকে বন ও পরিবেশে নিয়ে আসার সানে নজুল কেউ বুঝতে পারছেন না। জীবনের দীর্ঘ সময় তিন সরকারের মন্ত্রী থাকা আনোয়ার হোসেন মঞ্জু স্বভাবসুলভ রসিকতার ছলেই বলেছেন, কারণ কুম্ভ রাশির জাতক হিসাবে তিনি জানেন না, জানেন প্রধানমন্ত্রী। কারণ প্রধানমন্ত্রীই সংসদীয় শাসন ব্যবস্থায় হর্তা, কর্তা, বিধাতা।

সরকারের মেয়াদের বাকি সময় নতুন দপ্তরে বসতে বসতে ও সকল সহকর্মীদের সাথে চেনা জানা হতে হতেই বাকি সময় চলে যাবে।

তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ছিলেন তার সাম্রাজ্যের একক অধিপতি। সেখানে ভাগ বসাতে প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমকে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। তারানা হালিম সৎ, সাহসী, কর্মঠ হিসাবে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে দক্ষতার সঙ্গে সাফল্যের নজির রেখেছেন। তাকে সরানোর জন্য একটি মহল বহু আগেই চেষ্টা করছিলেন। অনেকে বলছেন তাদের এখন আনন্দের সময়। ডাক-টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রাণলয়ে পূর্ণ মন্ত্রী হিসাবে কথা নেই, বার্তা নেই প্রযুক্তিবিদ, মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা জাব্বারের দায়িত্ব গ্রহণ আলোচনার কিছু ঢেউ তুলেছে। মুক্তিযুদ্ধ থেকে এসে জাসদ ও গণকণ্ঠের কর্মী হিসাবে আলোচিত অতীত রয়েছে। যারা তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখছেন-চেয়েছিলাম একুশে পদক, পেয়ে গেলাম মন্ত্রীত্ব। ভক্তদের কাছে এ যেন সোনায় সোগাহা।

রাশেদ খান মেনন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় পাওয়ায় পর্যবেক্ষকদের মতে, তার জন্য এটা পদাবনতির কাছাকাছি। দলীয় রাজনীততে আজীবন আওয়ামী লীগ অনেকবারের এমপি তৃণমূল থেকে উঠে আসা সহজ সরল সৎ আওয়ামী লীগার এ কে এম শাহজাহান কামালকে বেসমারিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী করে শেখ হাসিনা সারাজীবনের অবদানের পুরষ্কারই দিয়েছেন। মন্ত্রণালয়টি তার জন্য অনেক চ্যালেঞ্জের। ২০০৯ সাল থেকে এই মন্ত্রণালয়ে যারাই এসেছেন তাদের সততা নিয়ে প্রশ্ন উঠেনি। ব্যর্থতার তীরে ক্ষত-বিক্ষত হতে হয়েছে।

রাজবাড়ীর তৃণমূল থেকে উঠে আসা দলীয় নেতা কেরামত আলীও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসাবে বহুল আলোচিত শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের মন্ত্রণালয়ে ভাগ বসালেন। কেরামত আলীর জন্য এটি পুরষ্কারই নয়, নাহিদের জন্যও খানিকটা ধাক্কা। যদিও শিক্ষামন্ত্রী হিসাবে ব্যর্থটার বোঝা নিয়ে নুরুল ইসলাম নাহিদের মতো অতীতে কেউ এত সমালোচিত হননি। তার আমলে ৭৮ বার প্রশ্নপত্রই ফাঁস হতে হতে প্রাথমিকে গড়িয়েছে। এমন কোনো পরীক্ষা নেই যেখানে আগেই প্রশ্ন ফাঁস হয়ে যায়নি। তার মন্ত্রীত্ব টিকে যাওয়া বরং আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

চালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় কিছু দব্যমূল্যের চরম ঊধ্বগতির সমালোচনার ঝড়সহ নানা কারণে কোনো মন্ত্রীর ভাগ্য বিপর্যয় না ঘটাকে অনেকে মনে করেন, নির্বাচনের বছরে সকল বিতর্ক আমলে না নেয়ার জন্যই এমন কৌশল।

এছাড়া নারায়ণ চন্দ চন্দ্রকে পূর্ণমন্ত্রী করার মধ্য দিয়ে তার দলীয় রাজনীতির আরেক দফা স্বীকৃতি দেয়া হলো। অন্যদিকে রাশেদ খান মেননকে আকাশ থেকে সমাজেই আনা হয়নি সেখানে প্রতিমন্ত্রী হিসাবে দলের নিবেদিত তৃণমূল নেতা নুরুজ্জামানকে প্রতিমন্ত্রী হিসাবে বহাল রাখা হয়েছে। তথ্য প্রযুক্তিতিতে প্রতিমন্ত্রী হিসাবে এতদিন জুনায়েদ আহমেদ পলক ছিলেন একচ্ছত্র, এখন তার সাথে পথহাঁটা মোস্তফা জাব্বারই বড় মন্ত্রী!

apps
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত