Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০১৯, ৮ চৈত্র ১৪২৫
  • ||

দেশজুড়ে কৌতুহল কি হচ্ছে খালেদা জিয়ার ভাগ্যে?

প্রকাশ:  ০৫ জানুয়ারি ২০১৮, ১৪:১৯ | আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০১৮, ১৪:২৪
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট icon

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টে দুর্নীতির অভিযোগে পৃথক দুই মামলার বিচার প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে। এরপরই রায়। এ মামলায় প্রধান আসামি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এমাসের শেষে না হলেও আগামী মাসের প্রথম দিকে মামলার রায় হবে। দুই মামলায় ‘সাজা’ হওয়ার আশঙ্কা করছেন তার দলের নেতা-কর্মীরা। সম্প্রতি বিশেষ আদালতে নিজের ‘সাজা’ শঙ্কার কথাও জানিয়েছেন বেগম জিয়া।

বিএনপিতে এ নিয়ে উদ্বেগ উৎকন্ঠার শেষ নেই। বিএনপি নেতারাও বলে আসছেন, মামলায় দন্ডিত করে সরকার খালেদা জিয়াকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে চায়। সরকারি দলের নেতারাও বলছেন, মামলায় দন্ডিত হলে নৈতিকভাবে নির্বাচন করার যোগ্যতা হারাবেন খালেদা জিয়া। রায় বিরুদ্ধে গেলে বিএনপিকে এ নিয়ে আন্দোলনের নামে কোন অরাজকতা করতে দেয়া হবে না। বেগম খালেদা জিয়াও বলেছেন, যত যাই করুক আমাদের বাইরে রেখে নির্বাচন হবে না, করতে পারবেন না। সকল মহলেই প্রশ্ন খালেদা কি দন্ডিত হচ্ছেন নাকি খালাশ পাচ্ছেন।

এমন অবস্থায় দেশজুড়ে কৌতুহল কি হচ্ছে খালেদা জিয়ার ভাগ্যে? খালেদা জিয়া দন্ডিত হলে কে ধরবেন বিএনপির হাল? তার সাজা হলে বিএনপির পরিণতি কী হবে তা নিয়ে দলের পক্ষে প্রকাশ্যে মুখ খোলেনি কেউ। তবে এ নিয়ে দলের ভেতরে-বাইরে নানা কৌশল নিয়ে আলোচনা চলছে। খালেদা জিয়া জেলে গেলে ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অনুপস্থিতিতে তার স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান হাল ধরুক এমনটাও চান দলের অনেক নেতা।

রায়টি অনুকূলে না এলে তা মোকাবেলা করার বিষয়ে ভেতরে-ভেতরে চিন্তাভাবনা করছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। ঘরে-বাইরে আনুষ্ঠানিক-অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারের কোনও শঙ্কা দেখা দিলে সেক্ষেত্রে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের ধরন, রাজপথে প্রতিক্রিয়ার কৌশল নিয়েও চিন্তাভাবনা চলছে দলটির ভেতরে।

বিএনপির নেতারা বলছেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার রায় যে সময়ই হোক না কেন, দলে দুই ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। প্রথমত, রায়ের পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিকভাবেও মোকাবিলার চিন্তা চলছে। এক্ষেত্রে খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া অনেক তীব্র হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ও তৃণমূলের অনেক নেতা। রায়টি কোনোভাবে প্রভাবিত না হলে খালেদা জিয়ার সাজা হচ্ছে না, বক্তৃতা-বিবৃতিতে এমনটি বলে চলেছেন দলটির নেতারা।

মামলা, সম্ভাব্য রায় ও দলীয় চিন্তাভাবনা বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আমার ধারণা, যদি সুবিচার হয়; যেহেতু এই দুটি মামলায় কোনও শক্ত অভিযোগ নেই, সেজন্য এই মামলায় আদালত (খালেদা জিয়াকে) সাজা দিতে পারবেন না। সঠিক বিচার হলে সম্ভব নয়। যে কথা বলা হচ্ছে, এতিমের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে, এটা তো ঘটেইনি। ম্যাটারিয়ালসের (বস্তুগত) দিক থেকে যদি বিচার করা হয়, তাহলে সাজা দেওয়া সম্ভব হবে নয়।

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, নিরপেক্ষভাবে বিচার করা হলে খালেদা জিয়া সম্পূর্ণভাবে খালাস পাবেন। তার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি, (দুদক)পারেনি।

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে পরবর্তী যুক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য্য করা হয়েছে আগামী ১০ ও ১১ জানুয়ারি। গতকাল বৃহস্পতিবার (০৩ জানুয়ারি) ৭ম দিনের মতো যুক্তি উপস্থাপন শেষে পরবর্তী যুক্তি উপস্থাপনের জন্য আদালত এ দিন ধার্য করেন। রাজধানীর বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫নং বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে খালেদা জিয়া মামলায় হাজিরা প্রদান করেন। এরপর বেলা ১১টা ৩৯ মিনিটে তার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন।

যুক্তি উপস্থাপন করে তিনি বলেন, মামলায় মূল নথি ছিল না, তারা একটি অতিরিক্ত নথি সৃষ্টি করেছে। বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত বিশেষ আদালত-৫ এ যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় তিনি এসব কথা বলেন।

এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, এটা সরকারের ফান্ড নয়, কুয়েতের আমিরের টাকা। যে অ্যাকাউন্টে এ টাকা এসেছে তা খোলা হয়েছিল ২ জানুয়ারি ১৯৯৯ সালে। টাকা আসছে ৯ জুন ১৯৯৯। তাহলে কিভাবে ১৩ নভেম্বর ১৯৯৩ সালে দুই ফান্ডটাকে ভাগ করা হলো?

এর আগে বুধবারও এজে মোহাম্মদ আলী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। তিনি সেদিন বলেছিলেন, জাল ডকুমেন্ট তৈরি করে এ মামলা সাজানো হয়েছে। ডকুমেন্ট ঘষামাজা করে তৈরি করা হয়েছে। তার যুক্তি উপস্থাপন শেষ না হওয়ায় পরবর্তী যুক্তি উপস্থাপনের জন্য নতুন করে আদালত এ দিন ধার্য করেন।

এর আগে আদালতে ৪,৫ জানুয়ারি এবং ২৬, ২৭ ও ২৮ ডিসেম্বর মামলার যুক্তিতর্ক দিন ধার্য ছিল।

/আরআর/কেকে ‘ফুল কেন, মন্ত্রী ছিলাম-মন্ত্রী আছি’

apps
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত