Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৭ ফাল্গুন ১৪২৫
  • ||

নারায়ণগঞ্জে আবারও শিক্ষক লাঞ্চিত

প্রকাশ:  ০৫ জানুয়ারি ২০১৮, ২০:৪১
শওকত আলী সৈকত, নারায়ণগঞ্জ
প্রিন্ট icon

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে আবারও এক স্কুল শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটেছে। পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত লাঞ্চনার পর এবার বন্দরের কুশিয়ারার হাজী আবদুল মালেক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রবীণ শিক্ষক মোঃ শাহ আলম ভুইয়াকে লাঞ্চিত করেছে ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য নূরে ওসমানী। এ নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

শুক্রবার শিক্ষক লাঞ্চনাকারীকে বহিষ্কার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ চলাকালে বিষয়টি সুরাহা করতে শুক্রবার বিকেল থেকে জরুরি বৈঠকে বসেছেন হাজী আবদুল মালেক উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদ। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত নূরে ওসমানী দোষ স্বীকার করে জানান, ছাত্রদের বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হওয়ায় স্যারের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছি। এটা করা আমার ভুল হয়েছে।

বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী জানান, গত ৩১ ডিসেম্বর বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এ সময় বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য নূরে ওসমানী ক্লাস রুমে প্রবেশ করে বিদ্যালয়ের প্রবীণ শিক্ষক মোঃ শাহ আলম ভুইয়াকে গালিগালাজ ও লাঞ্চিত করে।

শিক্ষক লাঞ্চনার ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ভাইরাল হলে ফুসে উঠে এলাকাবাসী। ঘটনার পর লাঞ্চনার শিকার ওই শিক্ষক ম্যানেজিং কমিটিকে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানান এবং বন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। কিন্তু ঘটনার তিনদিন পরও শিক্ষক লাঞ্চনার সুষ্ঠু বিচার না হওয়ায় শুক্রবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। তারা অভিযুক্ত অভিভাবক সদস্য নূরে ওসমানীকে কমিটি থেকে দ্রুত বহিস্কার করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- জেলা ছাত্রলীগ নেতা মাইকেল বাবু, শ্রমিকলীগ নেতা ডিউক সাউদ, ছাত্রলীগ নেতা মিজানুর রহমান, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সম্রাট, আনসার আলী, হৃদয়, নাঈম প্রমুখ। মানববন্ধন অনুষ্ঠানে লাঞ্চনার শিকার শিক্ষকের ছেলে সাফাতুল ইসলাম ভুইয়া হৃদয় বাবার লাঞ্চনাকারীর বহিষ্কার ও দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবি জানান। মানববন্ধনে বিদ্যালয়ের সাবেক বর্তমান শিক্ষার্থীসহ এলাকার সর্বস্তরের শত শত নারী পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে লাঞ্ছিত শিক্ষক মোঃ শাহ আলম ভুইয়ার স্ত্রী সাবেক ইউপি ওয়ার্ড মেম্বার সেলিনা আফরোজ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যারা আমার স্বামীকে এভাবে অপমান অপদস্ত করেছে আমি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। যাতে করে আর কেউ কোনো শিক্ষককে লাঞ্ছিত করতে না পারে।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মইনুল হাসান বাপ্পী জানান, শিক্ষক লাঞ্চনার ঘটনাটি আমাকে আগে জানানো হয়নি। এখন জেনেছি। উভয় পক্ষকে নিয়ে সুষ্ঠু সমাধানের চেষ্টা চলছে।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম এ গণি ঘটনা স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, একজন শিক্ষককে অপমান করা মানে আমাকে অপমান করার শামিল। ঘটনাটি আমি তিনদিন আগে জানতে পেরেছি। ম্যানেজিং কমিটির মিটিংয়ে এ ব্যাপারে সিন্ধান্ত নেয়া হবে।

apps
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত