Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • সোমবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৬ ফাল্গুন ১৪২৫
  • ||

প্রধানমন্ত্রীর কাছে রাশেদের মা'র আবেদন: আমার সন্তানকে ভিক্ষা দিন

প্রকাশ:  ১১ জুলাই ২০১৮, ২০:৫৯ | আপডেট : ১১ জুলাই ২০১৮, ২১:০৩
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট icon

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে নিজের সন্তানকে ভিক্ষা চাইলেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা রাশেদের মা সালেহা বেগম। বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী একজন মা, আমিও একজন মা। অন্য এক মায়ের (প্রধানমন্ত্রী) কাছে আমার সন্তানকে ভিক্ষা চাইছি।’

বুধবার বিকেলে রাজধানীর ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে (ক্রাব) এক সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে এমন দাবি জানান রাশেদের মা।

সালেহা বেগম বলেন, ভাগ্যক্রমে গতকাল মঙ্গলবার মিন্টু রোডে আমার ছেলের সঙ্গে দেখা হয়। পুলিশ আমার ছেলেডারে অনেক মারছে। ও বাঁচতে চায়। রাশেদ কোনো অন্যায় করে নাই। মানুষের বাসায় কাজ কইরা অনেক কষ্টে বাবুডারে বড় করছি। আমার ছেলের মতো ভালো ছেলে পাইবেন না। প্রধানমন্ত্রী আপনি আমার বাবুডারে মুক্তি দেন। ও (রাশেদ) তো একটা চাকরি পাওয়ার জন্য আন্দোলন করছে। ও কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত না।

‘মা আমাকে যেন আর না মারে, আমাকে আর রিমান্ডে যেন না নেয়, তুমি সংবাদ সম্মেলন করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রার্থনা করে আমার মুক্তি চাও’- রাশেদ তার মাকে এমন কথা বলেছেন উল্লেখ করে সালেহা বেগম বলেন, আমার বাবুডারে আমি একটু ধরতে চাইলে পুলিশ দেয়নি বলতে বলতে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

তিনি বলেন, ‘মানুষের বাসায় কাজ কইরা তিন সন্তানকে বড় করছি। আমার একটি কিডনি নষ্ট হইয়া গেছে। পরের বাসায় আর কাজ করতে পারি না। স্বপ্ন দেখছি, ছেলেটা অনেক বড় চাকরি কইরা আমাদের পরিবার চালাইবে অথচ আমার বাবুডারে পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে অত্যাচার করতাছে। আমার ছেলেরে মুক্তি দেন, সে আর আন্দোলন করবে না, শুধু পড়ালেখা করবে।’ এমন প্রতিজ্ঞা করে তিনি প্রধামন্ত্রীর কাছে ছেলের মুক্তির জন্য প্রার্থনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে রাশেদের স্ত্রী রাবেয়া আলো বলেন, ‘রাশেদকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর পুলিশ আমাদের এতোদিন কোনো তথ্য দেয়নি। প্রতিদিন সকালে ঘর থেকে বের হয়ে থানা আর মিন্টু রোড, ডিবি অফিসে গিয়ে বসে থেকেছি। গতকাল বুধবার ভাগ্যক্রমে রাশেদের সঙ্গে দেখা হয়। তাকে ভীষণ মারধর করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মানবাধিকার কমিশনে গিয়েছিলাম সাহায্যের জন্য। তারা জানিয়েছে— অনেকগুলো মামলা তার বিরুদ্ধে হয়েছে, সময় লাগবে। আইনজীবীরাও একই কথা বলেন। আর কয়েকদিন আগে পত্রিকায় দেখলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বলেছেন— বিশ্ববিদ্যালয় তাদের বিষয়ে কোনও দায়িত্ব নেবে না। ফলে আমরা আর তার কাছে যাইনি। তবুও তার কাছে আমাদের অনুরোধ, আমার স্বামী তো কোনও অপরাধ করেনি। হাজার হাজার শিক্ষার্থী তা জানে। তাহলে তাকে এভাবে কেন শাস্তি দেওয়া হচ্ছে? প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার স্বামীর মুক্তির দাবি জানাই।’

রাশেদের বোন সোনিয়া আক্তার বলেন, ‘আমার মা একটু্ও ঘুমায় না। তার যে কখন কী হয়, জানি না। তার শরীরের অবস্থাও ভালো না। আমার আব্বার অবস্থাও খুব খারাপ।’

‘আপনারা আমাদের গ্রামে খোঁজ নেন, কেউ বলতে পারবে না আমার ভাই এবং আমরা কেউ জামাত শিবিরের সঙ্গে জড়িত। আমার ভাই শুধু একজন ছাত্র। তার কোনও খারাপ উদ্দেশ্য ছিল না।’

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীকে এই কটূক্তি করা হয়েছে, এমন অভিযোগ করে ছাত্রলীগ নেতার মামলার পর ১ জুলাই গ্রেপ্তার হন রাশেদ। ২ জুলাই তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। ৮ জুলাই আবারও ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয় তাকে।

-একে

কোটা আন্দোলন,রশেদ,রাশেদের মা
apps
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত