Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৯, ৭ চৈত্র ১৪২৫
  • ||

কোটা আন্দোলন নিয়ে দূতাবাসগুলোর বিবৃতিতে অসন্তুষ্ট সরকার

প্রকাশ:  ২০ জুলাই ২০১৮, ০০:৫২
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট icon

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলন নিয়ে বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের বিবৃতিতে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (১৯ জুলাই) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বিভিন্ন দেশের অর্ধশতাধিক কূটনীতিককে ব্রিফ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। এসময় কোটা সংস্কার আন্দোলনে বিভিন্ন দেশের দেয়া বিবৃতির বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে কোটাবিরোধী আন্দোলনের পেছনে কারা রয়েছে সেটাও কূটনীতিকদের জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ব্রিফিং শেষে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কোটাবিরোধী আন্দোলনের বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী কূটনীতিকদের জানান, ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই কোটা প্রথা চালু করেন। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সুযোগ দেওয়ার জন্যই এই কোটা প্রথা চালু হয়েছিলে। বিশেষ করে নারী, প্রতিবন্ধী, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কোটা চালু হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী কূটনীতিকদের জানান, কোটাবিরোধী আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলেও কোটা বিরোধীরা সেই আন্দোলন চালিয়ে যায়। আন্দোলনের নামে তারা নাশকতা ও ভাঙচুর চালায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাড়ি ভাঙচুর করে। দেশের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন বিঘ্ন ঘটাতেই এ আন্দোলন। কোটা আন্দোলনের পেছনে বিএনপি-জামায়াত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, ২০১৪ সালেও বিএনপি-জামায়াত এ ধরনের নাশকতা চালিয়েছিলে। যে কারণে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে থেকে তাদের বিরুদ্ধে দু’টি রেজ্যুলেশন নেওয়া হয়।

কোটাবিরোধী আন্দোলন নিয়ে ঢাকার কয়েকটি মিশনের বিবৃতি দেওয়া নিয়েও কথা বলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী। ওই বিবৃতির বিষয়ে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।

এসময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন। তিনি এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবস্থান ও বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, দেশের সাবর্জনীন মানবাধিকার সুরক্ষা এবং উন্নতির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী অঙ্গীকারবদ্ধ। মন্ত্রী জেনেভায় তৃতীয় ইউনিভার্সেল পিরিয়ডিক রিভিউতে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে যে আলোচনা হয়েছে তার উল্লেখ করে বলেন, সেখানে ১০৫টি দেশে অংশ নিয়েছিল এবং তারা বাংলাদেশের মানবাধিকার সুরক্ষা এবং উন্নতিকরণের প্রশংসা করেছে।

বাংলাদেশের আর্থ-সামজিক উন্নয়নে যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে যা জাতিসংঘ মহাসচিব ‘মিরাকল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন সেটিও কূটনীতিকদের জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

১১ লাখ রোহিঙ্গাকে নিয়ে বাংলাদেশ যে ভয়াবহ অবস্থার মুখোমুখি সেটিও তুলে ধরেন মন্ত্রী। বলেন, আমরা তাদের নিরাপদে ফেরত পাঠাতে চেষ্টা করে যচ্ছি। মন্ত্রী তার সমাপনী বক্তৃতায় কূটনীতিকদের উদ্দেশ্যে বলেন- আমরা বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক, বহু-জাতিগোষ্ঠী, সংস্কৃতি ও ধর্মের একটি শান্তি ও সমৃদ্ধ দেশ হিসাবে গড়ার জন্য সংগ্রাম করছি।

এদিকে ব্রিফিংয়ে অংশ নেয়া কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য শেষ হওয়ার পর পশ্চিমা কূটনীতিকরা তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। সেখানে মূলত কোটা প্রশ্নে দূতাবাসগুলোর তরফে যে বিবৃতি এসেছে তার ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেন। তারা প্রায় অভিন্ন ভাষাতে সরকারের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং গৃহীত অর্জনগুলোর প্রশংসা করেন। তবে তারা যে কোটা নিয়ে বিবৃতি দিয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেননি সেটিও বুঝানোর চেষ্টা করেন।

পশ্চিমা এক কূটনীতিক বলেন, সরকারের অনেক অর্জন রয়েছে। কিন্তু কোটা আন্দোলন নিয়ে যেসব ঘটনাগুলো ঘটেছে তা সরকারের সামগ্রিক ইমেজের সঙ্গে যায় না। সেখানে সহিংস ঘটনাগুলো অবশ্য নিন্দনীয়। এসব ঘটনাকে আরও স্বচ্ছতার সঙ্গে খতিয়ে দেয়ার অনুরোধ জানিয়ে ওই কূটনীতিক বলেন- যারা অপরাধী তাদের শাস্তি হোক। প্রত্যেকের অধিকার যে সমুন্নত থাকে। সার্বজনীন মানবাধিকারের নীতি এবং মূল্যবোধ সেটির প্রতি সম্মান প্রদর্শনেই এ বিবৃতিগুলো দেয়া হয়েছে বলে জানান তারা। সূত্র মতে, বিফিংয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা ব্লুম বার্নিকাট বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রশংসা করে বলেন, আমরা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ কোনো বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছি না। কিন্তু কোটা আন্দোলন নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে যেসব ঘটনা ঘটছে তা তদন্ত হওয়া জরুরি।

ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হকসহ মন্ত্রণালয়ের জ্যৈষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

-একে

কোটা আন্দোলন
apps
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত