Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • সোমবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৬ ফাল্গুন ১৪২৫
  • ||

শীত আসছে ভালোবাসার ওম ছড়ানোর সুযোগ নিয়ে

প্রকাশ:  ০১ ডিসেম্বর ২০১৮, ২০:৪৯ | আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৪৯
হাসনাত কাদীর
প্রিন্ট icon

ধীরে ধীরে শীতবুড়ি এগিয়ে আসছে কুয়াশার শুভ্র চাঁদর গায়ে। তাই তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে তাকে মোকাবেলার। শপিংমলের ঝকঝকে আলোয়, ফুটপাতের নিয়ন বাতিতে, দোকানে দোকানে অপেক্ষা করতে শুরু করেছে শীতের কাপড়। মানুষ যাচ্ছে। দেখে-শুনে পছন্দ মাফিক গায়ে জড়াচ্ছে তাদের। কিন্তু শুধু শিতের কাপড়েই বাগ মানানো যাবে না শীত বুড়িকে। প্রয়োজন লেপ-কাঁথা-কম্বলও। তাই তেল-তোষকের দোকানেও ক্রেতাদের ভিড়। শীতবুড়ি যতোই আগিয়ে আসছে ততোই বাড়ছে লেপ-তোষকের দোকানের ব্যস্ততা।

লেপ-তোষকের কারিগরেরা এখন ধনুক এবং লাঠি নিয়ে সুতোর স্তূপে ক্রমাগত আঘাত করছেন, সেই ভয়ে শীতবুড়ি থেমে নেই কাছে আসতে। কিন্তু তাকে মোকাবেলা করার এটাই প্রথম ধাপ। কারণ সুতোর স্তূপে ধনুকের আঘাত আঘাতে সূতো তুলোধুনো হয়ে যাবে। তুলোধুনো সেই সুতো পরিণত হবে তুলায়। তারপর সেই তুলো ঢুকে যাবে লেপ-তোষকের খোলে। ব্যাস, ঢুকে গেল তো শুরু হয়ে গেল সুঁই-সুতোর খেলা।

খসখস শব্দ তুলে তুলা ভর্তি খোলে সুঁই-সুতোর কর্ম শেষ হলেই কিন্তু তৈরি হয়ে গেল লেপ, তোষক, বালিশ! এইবার আসুক শীতবুড়ি। ভয় কী বলুন? দোকানে সাজিয়ে রাখা লেপ-তোষক থেকে আপনার পছন্দ আর সু্বিধে মতো বেছে নিলেই হল! যত তীব্র আর রুঢ় ভাবেই আসুক না শীতবুড়ি, পরিবার পরিজন নিয়ে আরামসে পার করে দিন শীতকাল। চাইলে ধোঁয়া ওঠা চা হাতে জমিয়ে আড্ডাও দিতে পারেন শীতবুড়িটির সাথে।

কানে কানে একটা কথা জানিয়ে রাখি শুনুন। শীতের শুরুতেই লেপ-তোষক বা এসব সামগ্রী বানানো যেমন বৃদ্ধি পায় তেমন শীতের মাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিন্তু দামও বাড়তে থাকে। তাই যত দ্রুত সম্ভব দোকানে ঢুঁ মারুন। আর পছন্দের জিনিসটি সঙ্গে করে ঘরে এনে রাখুন।

ও দোকানে যে যাবেন, দাম তো জেনে যান।

মিরপুর শাহ আলী মার্কেটের দোকানি আবুল কাসেম জানান, চাহিদা বৃদ্ধির কারণে শীত বাড়ার সুঙ্গে সঙ্গে দামও বাড়তে থাকে। এসব পণ্যের দাম আবার নির্ভর করে অনেকগুলো বিষয়ের উপর। মনে করেন, গার্মেন্টেসের সুতো দিয়ে বানালে এক রকম দাম। আবার কার্পাস তুলা ব্যবহার করা হলে আরেক রকম। সাধারণত একটি প্রমান সাইজের লেপ তৈরিতে সুতো, কাপড় ও মজুরি বাবদ ৮০০ থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫শ’ টাকা খরচ হয়। একটি তোষক তৈরীতে খরচ পরে এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকার মধ্যে। এই খরচের সাথে দোকান খরচ ও লাভ যোগ করে আমরা বিক্রয় মূল্য নির্ধারণ করি।

সুতরাং, প্রিয় পাঠক, দেরি না করে দ্রুত দোকানে ঢুঁ মারুন। আর পছন্দের জিনিসটি সঙ্গে করে ঘরে আনুন।

শুনুন, শুধু নিজেরা ভাল থাকলে হবে? আপনার আশেপাশে যেন কোন অসহায় মানুষ শীতের কষ্টে না ভোগে সেই দিকেও প্লিজ খেয়াল রাখুন! তাহলেই কেবল শীতবুড়ির সাথে আড্ডাটা আপনার সুখের হবে। নচেৎ নয়। জানেন তো, লেপ-তোষকের ওমে কিন্তু হৃদয় উষ্ণ হয় না, যদি না আমরা ভালোবাসার ওম ছড়িয়ে দেই।

/হাসনাত কাদীর

শীত,লেপ-তোষক,হাসনাত কাদীর
apps
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত