Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • বৃহস্পতিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৯ ফাল্গুন ১৪২৫
  • ||

যেভাবে স্মার্টফোনে ঢুকছে ক্ষতিকর ভাইরাস!

প্রকাশ:  ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৮:১৮ | আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৮:২০
তথ্য প্রযুক্তি ডেস্ক
প্রিন্ট icon

দেশে প্রতিনিয়ত বাড়ছে মোবাইল সিম ও কম্পিউটার ব্যবহারকারীর সংখ্যা। আর এসব মোবাইলে ঢুকে যাচ্ছে ক্ষতিকর প্রোগ্রাম বা ম্যালওয়্যার। তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তাবিষয়ক গবেষণাকারী অনলাইন প্রতিষ্ঠান সিকিউরলিস্ট জানিয়েছে, মোবাইল ম্যালওয়্যারে আক্রান্ত ১০টি দেশের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিককে ঘিরে এই গবেষণায় এমন চিত্রের দেখা মিলেছে।

সিকিউরলিস্ট তাদের গবেষণায় জানিয়েছে, দেশের মোট মোবাইলের ৩৫ দশমিক ৯১ ও পিসির ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ ম্যালওয়্যার বা ক্ষতিকর প্রোগ্রামে আক্রান্ত। সে হিসাবে বিশ্বের ৬০ টি দেশের মধ্যে বাজে সাইবার নিরাপত্তার দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৬ নম্বরে। ম্যালওয়্যারের আক্রমণ, সাইবার নিরাপত্তা প্রস্তুতি, হালনাগাদ সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইন বিবেচনায় এ গবেষণা করেছেন যুক্তরাজ্যের গবেষণা প্রতিষ্ঠান কমপারিটেক।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) হিসাব অনুযায়ী যেসব বায়োমেট্রিক ভেরিফাই করা সিম ৯০ দিনের মধ্যে অন্তত একবার ব্যবহার করা হয়েছে, সেসব সিম ব্যবহারকারী সাড়ে ১৫ কোটির বেশি (অক্টোবর পর্যন্ত)।

মোট ফোনের মধ্যে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারী ২৫–৩০ শতাংশ। বাংলাদেশ কম্পিউটার বিক্রেতাদের সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে প্রতি বছর ১ লাখ ২০ হাজার ইউনিট পিসি বিক্রি হচ্ছে।

এত সংখ্যক সিম ব্যবহারকারীর রয়েছে ফিচার বা স্মার্টফোন। মানুষের হাতে থাকা স্মার্টফোনটি কোনো-না-কোনোভাবে ম্যালওয়্যার বা ক্ষতিকারক সফটওয়্যারে আক্রান্ত হচ্ছে বলে জানায় তারা।

গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই তালিকায় দ্বিতীয় এবং তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে নাইজেরিয়া ও ইরান। এর মধ্যে নাইজেরিয়ার ২৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং ইরানের ২৮ দশমিক ০৭ শতাংশ স্মার্টফোন ব্যবহারকারী মোবাইল ম্যালওয়্যারে আক্রান্ত।

সর্বোচ্চ ম্যালওয়্যারে আক্রান্ত ১০ দেশের মধ্যে চীন, ভারত ও পাকিস্তানের অবস্থান যথাক্রমে ৫ম, ৬ষ্ঠ এবং ৭ম।

এদিকে ২০১৭ সালের তৃতীয় প্রান্তিক এবং এ বছরের তৃতীয় প্রান্তিক তুলনা করলে দেখা যায়, গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ম্যালওয়্যারের আক্রান্তের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল দ্বিতীয়। সেই সময়ে দেশের স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর ২৮ দশমিক ৩০ শতাংশ মোবাইল ম্যালওয়্যারে আক্রান্ত ছিল। বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত দেশের মোবাইল সিম ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ১৪ কোটির বেশি।

অর্থাৎ দেশে স্মার্টফোন বৃদ্ধির হারের পাশাপাশি এক বছরে ম্যালওয়্যার আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে ৭ দশমিক ৬১ শতাংশ।

২০১৭ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে ইরানে মোবাইল ম্যালওয়্যার আক্রান্তের সংখ্যা ছিল বেশি। দেশটির ৩৫ দশমিক ১২ শতাংশ স্মার্টফোন ব্যবহারকারী মোবাইল ম্যালওয়্যারে আক্রন্ত ছিল। বর্তমানে তা কমে এসেছে ২৮ দশমিক ০৭ শতাংশে।

গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের প্রতিবেদনের তুলনায় দেখা যায়, এক বছরে ভারতে মোবাইল ম্যালওয়্যার আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, চীনে কমেছে এবং পাকিস্তানে বৃদ্ধি পেয়েছে।

চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে সাইবার অপরাধ সংঘটনে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৩২৩টি ম্যালওয়্যার ইন্সটলেশন প্যাকেজ শনাক্ত করেছে ক্যাসপারস্কি ল্যাব। এটা গত বছরের চতুর্থ প্রান্তিকের তুলনায় ১১ গুণ এবং তৃতীয় প্রান্তিকের চেয়ে ১ দশমিক ২ গুণ বেশি।

জানুয়ারি-মার্চ সময়ে অসংখ্য ক্ষতিকর ম্যালওয়্যার সফটওয়্যার ও অন্যান্য অবজেক্ট শনাক্ত করা হয়েছে। র্যাংকিংয়ে এগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে অ্যাডওয়্যার প্রোগ্রাম। মোবাইল ডিভাইস গ্রাহকদের তথ্য হাতিয়ে নিতে অ্যাডওয়্যার প্রোগ্রামের ব্যবহার গত বছরের চতুর্থ প্রান্তিকের চেয়ে ১৩ শতাংশ বেড়ে ৪২ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছে। যদিও এ সংখ্যা গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের ৫২ দশমিক ৫ শতাংশের তুলনায় কম।

ক্যাসপারস্কি র্যাংকিংয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে এসএমএস-ট্রোজান। গত বছর চতুর্থ প্রান্তিক শেষে এসএমএস-ট্রোজান ছড়ানোর হার নাটকীয়ভাবে বেড়ে ৬ দশমিক ২ শতাংশ থেকে ১৯ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছেছিল। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ম্যালওয়্যারটির ব্যবহার দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রায় ২০ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছেছে। র্যাংকিংয়ে ট্রোজান স্পাইওয়্যার প্রোগ্রামের দখল ১০ দশমিক ১ শতাংশ। পাশাপাশি ট্রোজান ও রিস্কটুল মোবাইল ম্যালওয়্যার ছড়ানোর হার যথাক্রমে ৯ দশমিক ১ ও ৭ দশমিক ৪ শতাংশ।

র্যাংকিংয়ে ষষ্ঠ থেকে দশম স্থানে থাকা ম্যালওয়্যারগুলো হলো— ব্যাকডোর, ট্রোজান-ডাউনলোডার, ট্রোজান-ড্রোপার, ট্রোজান-ব্যাংকার ও ট্রোজান র্যানসম। প্রথম প্রান্তিকে এগুলো ছড়ানোর হার যথাক্রমে ২, ১ দশমিক ৪, ১ দশমিক ৩, ১ দশমিক ২ ও দশমিক ৮ শতাংশ।

মোবাইলে যেভাবে ঢুকছে ম্যালওয়্যার

ফোনে ম্যালওয়্যার প্রবেশ করাতে অন্যতম দায়ী গুগল প্লে স্টোর নিজেই। সেসব ভাইরাস থেকেই ভেসে ওঠে পপআপ উইন্ডো। ব্লিপিং কম্পিউটারে প্রকাশিত নতুন এক তথ্য থেকে এমনটিই জানা যায়।

তাদের দাবী, ক্ষতিকর অ্যাপ তৈরিকারকরা গুগল প্লে স্টোরে বা আপনার স্মার্ট ফোনে ম্যালওয়্যার ঢুকিয়ে দিতে সক্ষম হয় একটি পদ্ধতি অবলম্বন করে। ড্রপার্স নামক একধরনের কোড ব্যবহার করে তারা এটা করে থাকে, যা কোনো অ্যাপের ভেতরে গোপনে লুকানো থাকে, আর তা ডিভাইসকে আক্রান্ত করে কয়েকটি ধাপে।

এই ড্রপার্সগুলোকে খুজে পাওয়া খুব কঠিন, কারণ সেগুলোকে কোড করা হয় কোনো অ্যাপের ভেতরে। আর ড্রপার্স নিজে কোনো ক্ষতি না করলেও তা ফোনে বিভিন্নভাবে ক্ষতিকর ম্যালওয়্যার ডাউনলোড করে। ড্রপারের বিস্তৃতি ক্রমেই বাড়ছে। তার কারণ— সেগুলো খুব গোপনে আপনার অ্যানড্রয়েড ফোনে প্রবেশ করতে পারে। আর তা করতে তারা সক্ষম হচ্ছে কারণ, সেগুলো গুগল প্লে স্টোরের অ্যাপগুলোর মাধ্যমেই ফোনে ঢোকে। ড্রপারগুলো ট্রোজান হর্সের মতোই কাজ করে। যখন কোনো অ্যাপের ভেতর ড্রপার কোড থাকে, তখন তা খুবই নম্র আচরণ করে, আর আসল কোডের কেনো ক্ষতি করে না। যে কারণে তা খুঁজে পাওয়া বেশ কষ্টসাধ্য। এই পর্যায়ে যে ডিভাইসে অ্যাপটি ইন্সটল করা হয়, তাকে ড্রপার্স নিজে কোনো আক্রমণও করেনা। সেটা খালি প্রবেশাধিকার লাভ করে। যখন প্লে স্টোরে এই ধরণের একটি অ্যাপ জমা দেওয়া হয়, গুগল তাতে বিভিন্ন নিরাপত্তা পরীক্ষা পরিচালনা করলেও তাতে ক্ষতিকারক কোনো কিছুর অস্তিত্ব বের করতে পারেনা। যে কারণে অ্যাপটি অনুমোদন পায় আর ব্যবহারকারীদের জন্য প্লে স্টোরে ছেড়ে দেওয়া হয়।

কিছু ম্যালওয়্যার কোডাররা তো কোড তৈরি করার সময় আরো চালাকি করে থাকেন। ম্যালওয়্যার যখন কাজ শুরু করে, তখন তারা এর সাথে টাইমারও জুড়ে দেন। আবার কোন অ্যাপে ব্যবহারকারী যখন বিভিন্ন কাজের অনুমোদন দেন, তখন ছদ্মবেশে ম্যালওয়্যার তার কাজ শুরু করে দেয়।

মোবাইল ম্যালওয়্যার থেকে রক্ষা পেতে করণীয়

মোবাইল ম্যালওয়্যারে আক্রান্তে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের সচেতনতার অভাব বলে মনে করেন অ্যাপ বিশেষজ্ঞ নুরুল হুদা রবিন।

তার মতে, দেশের সিংহ ভাগ স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর জানা নেই কোন অ্যাপ কী পারমিশন নিচ্ছে, কোন অ্যাপ ডাউনলোড করা যাবে আর কোনটি করা যাবে না।

মোবাইল ম্যালওয়্যার থেকে রক্ষা পেতে এই অ্যাপ বিশেষজ্ঞ কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখতে বলেন। এর মধ্যে রয়েছে, প্রথমত, নিজেদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি। একই সঙ্গে অ্যাপ স্টোর বাদে অন্য কোনো স্থান থেকে অ্যাপ ডাউনলোড না করা।

দ্বিতীয়ত, ডাউনলোডের সময় অ্যাপগুলো কী পারমিশন চেয়ে নিচ্ছে এ বিষয়ে অবগত থাকা। যেসব অ্যাপ প্রয়োজনের অতিরিক্ত পারমিশন নিয়ে থাকে তা ডাউনলোড থেকে বিরত থাকাই ভালো

নুরুল হুদা রবিন জানান, ক্রাক অ্যাপ ডাউনলোড না করার পাশাপাশি স্মার্টফোনে থাকা অ্যাপ ও অপারেটিং সিস্টেমের নিয়মিত হালনাগাদ করা জরুরি।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, বাংলাদেশে মোবাইল ডিভাইস ব্যবহার করা হচ্ছে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই। অর্থাত্ ম্যালওয়্যার বা নিরাপত্তার ঝুঁকি রয়েছে যেসব ক্ষেত্রে, কোনো ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই সবাই তা ব্যবহার করছেন। ফলে অরক্ষিত থাকায় সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন এদেশের ব্যবহারকারীরা। তবে পারসোনাল কম্পিউটারের ক্ষেত্রে এ চিত্র অনেকখানিই বদলে গেছে। মোবাইল ডিভাইসের ব্যবহারকারীরা এখনো বড় ধরনের বিপদে না পড়ায়, এ ব্যাপারে সেভাবে সচেতন হননি।

পিবিডি/এআইএস

ভাইরাস
apps
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত