Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ ২০১৯, ৫ চৈত্র ১৪২৫
  • ||

মালয়েশিয়ায় অপহরণ আতংকে প্রবাসীরা

প্রকাশ:  ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:৫০
আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া
প্রিন্ট icon

সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় দুইজন বাংলাদেশি অপহরণকারী পুলিশের গুলিতে নিহতের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারো অপহরণের কবলে বাংলাদেশি কতৃক বাংলাদেশি। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করে মাসের বেতন পেয়েই অপহরণের শিকার হন বাংলাদেশি আতিকুল ইসলাম (২৭)।

প্রথমে সব কিছু বুঝতে না পারলেও ভয়ঙ্কর এক অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন আতিকুল ইসলাম । পুলিশের কাছে অভিযোগ ও আরেকজন বাংলাদেশি ইমাম হাজারির কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ৮ টার দিকে কুয়ালালামপুরের পার্শ্ববর্তী মুতিয়ারা দামানসারা থেকে অপহৃত হয় আতিকুল ইসলাম আতিক। আতিকুল ইসলাম (পাসপোর্ট নাম্বার বিপি ০৯৩৬০৫২) ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার আব্দুস শহীদের ছেলে।

অপহরণকারী চক্রের কাছে তথ্য ছিল আতিকুল ইসলাম তার বেতনের টাকা তুলেছে। অপহরণকারীরা আতিকুল ইসলামকে আমপাং এর পানডান পারদানা নামক স্থানে নিয়ে মারপিট করে তার কাছে থাকা মালয় রিংগিত ২৩০০(৪৭হাজার টাকা) নিয়েও ক্ষান্ত থাকেনি তারা।

আরো মুক্তিপণ দাবি করে। এমনকি বাংলাদেশে ফোন করতে বলে আতিকুল ইসলাম অস্বীকৃতি জানালে তাকে ছুরি দিয়ে হাতে আঘাত করা হয়। প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়ার এক পর্যায়ে আতিকুল ইসলামের দেড় লাখ টাকায় রফা হয়। ওই দিন রাত ১০টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত এই নাম্বারে বিকাশে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার পর আর টাকা ঢুকাতে পারেনি। এমতাবস্থায় আতিকুল অজ্ঞান হয়ে গেলে অপহরণকারীরা মৃত ভেবে এলাকায় পুডুরায়ায় তাকে ফেলে দিয়ে চলে যায়।

এসময় মুমূর্ষু অবস্থায় আরেক বাংলাদেশি ইমাম হাজারি ভোর পাঁচটার দিকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

পুলিশের কাছে অভিযোগের পর পরই ব্যাপক অভিযান চালিয়ে অপহরণকারী ৬ জনের মধ্য থেকে পাঁচজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।গ্রেফতারকৃত পাঁচজনই বাংলাদেশি নাগরিক। বর্তমানে আতিকুল ইসলাম মালয়েশিয়ার সুংগাইবুলু হাসপালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সম্প্রতি সময়ে মালয়েশিয়াতে বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে একের পর এক অপহরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে নড়চড়ে বসেছে সেদেশের প্রশাসন। ভিন দেশে এসে স্বদেশীদের কিডন্যাপ ও চাঁদাবাজির কারণে আতঙ্ক বিরাজ করছে অনেকের মধ্যে। একাধিক প্রবাসী এই প্রতিবেদককে জানান, মালয়েশিয়া অর্ধশতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশীদের কমিউনিটি সংগঠন থাকলেও সোচ্চার ভাবে কোন কিছু করতে দেখা যায়না।

যশোরের এক প্রবাসী বলেন, কমিউনিটি সংগঠনগুলো যদি প্রবাসীদের পাশে দাঁড়াতো তাহলে এমন ঘটনার জন্ম হতো না। অসহায় প্রবাসীদের জন্য জনসচেতনতা সৃষ্টির দাবি জানান এ প্রবাসী।

প্রবাসী ফারুক এই প্রতিবেদককে জানান, বাংলাদেশের কমিউনিটিগুলো যদি নির্যাতিত বাংলাদেশিদের পক্ষে থাকতো এবং সাহস যোগাতো তাহলে অপরাধীরা কখনই সাহস পেত না অপহরণ করতে। তাই এ ব্যাপারে বাংলাদেশ কমিউনিটি নেতাদের কাছে প্রচার প্রচারণাসহ পাশে থাকার জোর দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রথম সচিব (শ্রম) মোঃ হেদায়েত ইসলাম মন্ডল বলেন, এসব বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকার খুব আন্তরিক। তাই এ ধরনের ঘটনা কারো নজরে আসলে যেন পুলিশকে জানানো হয় সেই সাথে হাইকমিশনকেও জানালে, হাইকমিশন মালয়েশিয়া সরকারের সাথে ফলোআপ করতে পারে এবং বাংলাদেশকেও।

তিনি আরো বলেন, এ ধরনের ঘটনা খুবই দুঃখজনক। প্রবাসী কর্মীদের সুরক্ষায় আমরা ব্যবস্থা নিব। এসময় তিনি স্বদেশী কর্মীদের পরস্পরের বিপদে পাশে থাকার এবং হাইকমিশনকে জানানো সহ সহযোগিতা করার আহবান জানান।

/পিবিডি/পি.এস

মালয়েশিয়া,অপহরণ,প্রবাসী
apps
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত