Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • রবিবার, ২৪ মার্চ ২০১৯, ১০ চৈত্র ১৪২৫
  • ||

একান্ত সাক্ষাৎকারে ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক

ডাকসুতে নির্বাচিত হলে গেস্টরুম সংস্কৃতি তুলে দিবে ছাত্র ইউনিয়ন

প্রকাশ:  ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:৩৫ | আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২৩:২৪
তানভীর হাসান
প্রিন্ট icon

দীর্ঘ প্রায় ২৯ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। আগামী ১১ মার্চ বহুল প্রত্যাশিত নির্বাচনকে ঘিরে ক্যাম্পাসে সরগরম ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলো। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও মুখরিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। প্রতিদিনই ছাত্রনেতাদের আড্ডায় জমে উঠছে ছাত্ররাজনীতির ‘রাজনীতির আঁতুড়ঘর’ খ্যাত মধুর ক্যান্টিন।

শুধু মধুর ক্যান্টিনই নয়, ক্যাম্পাসজুড়ে শিক্ষার্থীদের আলোচনার বিষয় এখন ডাকসু নির্বাচন। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দেয়ালে চোখে পড়ছে নতুন নতুন লেখা। সব মিলিয়ে নির্বাচনের আমেজ লেগেছে পুরো ক্যাম্পাসে। ডাকসু নির্বাচন নিয়ে পূর্বপশ্চিমবিডি.নিউজের সাথে কথা হয় ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দীর সাথে। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন স্টাফ রিপোর্টার তানভীর হাসান

পূর্বপশ্চিম: ডাকসু নির্বাচন আপনাদের কোনো দাবিই মেনে নেয়নি প্রশাসন এ ব্যাপারে আপনার প্রতিক্রিয়া জানতে চাচ্ছি?

লিটন নন্দী: বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ পরিষদের সভায় আমরা ৫ দফা দাবি জানিয়েছিলাম। দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম দাবি ছিল হলের বাহিরে ভোট কেন্দ্র স্থাপন। করাণ দীর্ঘ ২৮ বছর হলো হলগুলো ক্ষমতাসীনদের দখলে রয়েছে। তাছাড়াও অধিকাংশ শিক্ষার্থী হলের বাহিরে অবস্থান করে। সকল বিবেচনায় আমরা মনে করি সুষ্ঠু ও সুন্দর একটি নির্বাচন করার জন্য হলের বাহিরে ভোট কেন্দ্র স্থাপন করা জরুরি। আমাদের আরেকটি দাবি ছিল ক্লাসরুমে ক্যাম্পেইন করা। হলের বাহিরের শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছানোর জন্য ক্লাস ক্যাম্পেইনটা খুব বেশি প্রয়োজনীয়। ক্লাস ক্যাম্পেইন ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের একটা ঐতিহ্য। কিন্তু আমরাদের কোনো দাবি মানা হচ্ছে না। প্রশাসনের এই আচারণ দেখে মনে হচ্ছে, একটি বিশেষ ছাত্রসংগঠনকে জেতানোর জন্য সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হচ্ছে। ২৯ বছর পর ছাত্রদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার নামে ভোটাধিকার হরণ না করে ডাকসু নির্বাচনকে যেন উৎসবে পরিণত করা হয়।

পূর্বপশ্চিম: প্রশাসন যদি কোনো দাবিই মেনে না নেয় তাহলে নিবার্চন বয়কট করবেন কি-না?

লিটন নন্দী: আমরা আমাদের দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাব। পাশাপাশি নির্বাচনেরও প্রস্তুতিও নিব। আমরা চেষ্টা করছি বিগত দিনে যারা সাধারণ ছাত্রদের জন্য কাজ করেছে, সকলকে একত্রিত করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার। তবে শেষ পর্যন্ত যদি একপাক্ষিক একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলে তখন আমরা ভেবে দেখব, নির্বাচনে থাকব কি থাকব না। আমরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহল থেকে শুনতে পাচ্ছি নির্বাচনকে বানচাল করার একটা চেষ্টা করা হচ্ছে। এমনকি সরকারের পক্ষ থেকেও এখন নির্বাচন না করার জন্য সিগনাল দেওয়া হচ্ছে। আমরা জোড় গলায় বলতে চাই কোনো অজুহাতেই নির্বাচন বানচাল করতে দেওয়া হবে না। নির্বাচন না হলে এর দায়বার সরকারকে গ্রহণ করতে হবে।

পূর্বপশ্চিম: ছাত্রদল ডাকসু নির্বাচন তিন মাস পেছানোর দাবি করছে, তাদের দাবি কতোটা যৌক্তিক বলে মনে করেন?

লিটন নন্দী: নির্বাচন পেছানোর কোনো প্রয়োজন নেই। যথাসময়ে নির্বাচন করা উচিত। সর্বোচ্চ ৫ থেকে ১০ দিন আগে পরে করা যেতে পারে। কিন্তু কোনোভাবেই ৩১ মার্চ এর পরে নির্বাচন করা উচিত নয়। আমরা মনে করি নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে ক্যাম্পাসে একটি গণতান্ত্রিক ধারা ফিরে আসবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাইলেই এক সপ্তাহের মধ্যে ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিকধারা ফিরিয়ে আনতে পারে।

পূর্বপশ্চিম: নির্বাচনে ছাত্র ইউনিয়ন জোটগতভাবে না এককভাবে প্যানেল দিবে?

লিটন নন্দী: এটি আমরা এখনো্ চূড়ান্ত করিনি। প্যানেলের বিষয়ে আলোচনা চলছে। ছাত্র ইউনিয়ন আলাদাভাবে নির্বাচন করছে না, জোটগতভাবে আমরা এই নির্বাচন করবো। আমাদের সংগঠনের প্রায় সকলেরই প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা রয়েছে। দুই-একদিনের মধ্যে হয়তো আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাব।

পূর্বপশ্চিম: নির্বাচিত হলে সাধারণ ছাত্রদের অধিকার আদায়ে কি কি পদক্ষেপ নেবে ছাত্র ইউনিয়ন?

লিটন নন্দী: সন্ত্রাস দখলদার মুক্ত ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা করাই হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য। আমরা গেস্টরুম, গণরুম সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে চাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে চাই আমরা। কারণ এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যা কিছু গৌরবের ছিল তা নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়েছে। মুক্তচিন্তার পথকে বাধাগ্রস্থ করা হয়েছে। ছাত্রদের জোর করে দাসে পরিণত করা হয়েছে। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয় আবারো আগের জায়গায় ফিরে আসুক। ছাত্রদের আমি বলতে চাই, তোমরা অন্ধকারের পথে যাবে, নাকি আলোর পথে যাবে। সময় এসেছে বিশ্ববিদ্যালয়কে ছাত্রদের বিশ্ববিদ্যালয় করার।

পূর্বপশ্চিম: নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আপনারা কতোটা আশাবাদী?

লিটন নন্দীর: ছাত্র ইউনিয়ন তাদরে কথাগুলো ছাত্রদের কাছে পৌঁছে দিবে। আমরা মনে করি ছাত্ররা যদি ভোট দিতে পারে, তাহলে জয়ের ব্যাপারে আমরা শতভাগ আশাবাদী। জয়ী হলে সাধারণ ছাত্রদের অধিকার আদায়ে আগামী দিনে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাব।

পূর্বপশ্চিমকে সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

লিটন নন্দী: আপনাকেও ধন্যবাদ।

উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতাদের সাক্ষাতকার প্রকাশ করছে পূর্বপশ্চিম। তারই ধারাবাহিকতায় সোমবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশ করা হবে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানীর সাক্ষাতকার।

/পিবিডি/টিএইচ/অ-ভি

ডাকসু,ছাত্র ইউনিয়ন,লিটন নন্দী
apps
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত