lead-news==breaking-news && যেভাবে পেয়েছি প্রাণের শহীদ মিনার - Purboposhchimbd

Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • রবিবার, ২৪ মার্চ ২০১৯, ১০ চৈত্র ১৪২৫
  • ||
শিরোনাম

যেভাবে পেয়েছি প্রাণের শহীদ মিনার

প্রকাশ:  ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:৫৭ | আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২৩:১৮
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট icon

একুশে ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জনগণের গৌরবোজ্জ্বল একটি দিন। এটি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবেও স্বীকৃত। বাঙালি জনগণের ভাষা আন্দোলনের মর্মন্তুদ ও গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতিবিজড়িত একটি দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। ১৯৫২ সালের এই দিনে (৮ ফাল্গুন, ১৩৫৮) বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণে কয়েকজন তরুণ শহীদ হন। তাই এ দিনটি শহীদ দিবস হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। ২০১০ খ্রিস্টাব্দে জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়।

অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আমাদের জাতীয় চেতনার জায়গা। ভাষার জন্য বাঙালি জাতি রাজপথে রক্ত ঝরাতে পিছপা হয়নি। বায়ান্নর ২১ এর পথ বেয়ে বাষট্টির ৬দফা , উনসত্তরের গণ-অভ্যুথ্যান, একাত্তর এর মুক্তির সংগ্রাম। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও বাংলা ভাষার সে চেতনাকে উপলব্ধি করেছিলেন। ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ২৯তম নিয়মিত অধিবেশনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাই বাংলায় ভাষণ দিয়েছিলেন। একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার আবেদনও জানিয়েছিল কানাডায় বসবাসরত দু’জন বাঙালি জাতিসংঘের মহাসচিব কফি আনানের কাছে ১৯৯৮ সালে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৯ সালে ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর প্যারিস অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

১৯৪৭ সালে সৃ্ষ্ট অদ্ভুত এক দেশ পাকিস্তানের ভিত্তি কাঁপিয়ে দিলো সে স্লোগান। দেশের বৃহত্তর মানুষের ভাষাকে স্বীকার না করার এক উদ্ভট পাঁয়তারাকে চোখ রাঙ্গানি দেওয়া শুরু হয় এই মিছিল থেকেই। একটি দেশের বয়স যখন মাত্র এক বছর, সেই দেশের মানুষ নিজের দেশের ডাকটিকেট, মানি অর্ডারের কাগজটি পড়ে বুঝতে পারে না, তার মনে ক্ষোভ জন্ম নেয়। সেই ক্ষোভ দানা বাঁধে। ১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে গণপরিষদে ভাষার প্রশ্নে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত প্রস্তাব করেছিলেন উর্দু, ইংরেজির সঙ্গে বাংলাকেও গণপরিষদের ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে।

পাকিস্তানের ৬ কোটি নব্বই লাখ মানুষের মধ্যে ৪ কোটি চল্লিশ লাখের মুখের ভাষা সেই দাবি তুলতেই পারে। কিন্তু এই প্রস্তাবের বিপরীতে পাকিস্তানের শাসকযন্ত্রের চালকেরা ধীরেন্দ্রনাথকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে বসে। কোনো কোনো নেতা বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবেও আখ্যা দিয়ে দিলেন। সেইদিন থেকেই বাঙালিদের ভাষার জন্য সংগ্রামের পথ শুরু। ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের প্রস্তাবটি ২৫ ফেব্রুয়ারি খারিজ করে দিলে ২৬ তারিখেই এর প্রতিবাদে ঢাকায় ছাত্র ধর্মঘটের ডাক আসে। বাঙালিদের মানুষ হয়েও খাজা নাজিমুদ্দীনের বিরুদ্ধাচরণের প্রতিবাদও আসে ২৬ তারিখের ধর্মঘটের দিন থেকেই। ভাষার অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্বে ছিল ঢাকার সচেতন ছাত্র সমাজ। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক বলয়ের মধ্যে যারা যুক্ত ছিলেন এবং যারা বুঝতে পেরেছিলেন ভাষার অধিকার থেকে বাঙালিদের বঞ্চিত করে রাখতে পারলেই এরা চিরদিনের জন্য পঙ্গু হয়ে যাবে। পশ্চিমে ঝুঁকে পাকিস্তানের ক্ষমতার কেন্দ্র প্রশাসন, সরকারি চাকরি আর সুযোগ সুবিধা থেকে বাঙালিদের বঞ্চিত করে যাবে। তাই ছাত্রনেতারাই ছিলেন এই আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্রে। তাদের কাছ থেকেই সিদ্ধান্ত আসে ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চে সারা প্রদেশজুড়ে হরতালসহ বিক্ষোভ কর্মসূচির। ১১ তারিখ তরুণ বারুদে বিস্ফোরণ হয়, পুলিশের নিপীড়নের ফলে দেশজুড়ে মানুষের মধ্যে তৈরি হয় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া। ১১ মার্চের কর্মসূচি ১৫ মার্চ পর্যন্ত চালিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রীর শান্তি প্রস্তাবে শান্ত হয় ছাত্রসমাজ। আগুনে নতুন করে ঘি ঢালতে পশ্চিম থেকে উড়ে আসেন পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল জিন্নাহ। ২১ মার্চ রেসকোর্সে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) আর ২৪ তারিখ কার্জন হলে উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা এই ঘোষণা দিয়ে যান। মৌচাকে ঢিল দিয়ে জিন্নাহ পশ্চিমে পাড়ি জমালেন।

বাংলা ভাষাকে পদদলিত করার কৌশল চলতে থাকে। বাঙালি বুদ্ধিজীবী সমাজের প্রতিবাদ চলতে থাকে। তমদ্দুন মজলিস চালাতে থাকে ভাষার জন্য বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলন। ড. কাজী মোতাহার হোসেন, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, আবুল মনসুর আহমদের মতো ব্যক্তিরা একদম শুরু থেকেই বাংলা ভাষার পক্ষে কথাবার্তা আর প্রচার-প্রচারণা চালাতে থাকেন। ১৯৫১ সালে কুমিল্লায় এক শিক্ষক সম্মেলনে সভাপতির ভাষণে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘বাংলা ভাষা অবহেলিত হইলে আমি ব্যক্তিগতভাবে বিদ্রোহ করিব। সৈয়দ মুজতবা আলী ভবিষ্যতবাণী করে বলেছিলেন, বাঙ্গালিকে তার ভাষার দাবি থেকে বঞ্চিত করা হলে সেই ক্ষোভ থেকে জন্ম নেওয়া বিদ্রোহ থেকেই বাংলার জনগণ পাকিস্তান থেকে বেরিয়ে যাবে। মানুষের মনে একটু একটু করে জমা হতে থাকে শুকনো বারুদ, কোনো এক ফাগুনে একদল তরুণ রক্তের স্ফুলিঙ্গ লাগাবে বলে সারা বাংলা তখন অপেক্ষায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্টস বিল্ডিং-এর আমতলায় ১৪৪ ধারা ভাঙার প্রস্তুতি। পায়ে বাঁধা শিকল ভেঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার ডাক আসলো বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক আবদুল মতিনের কাছ থেকে। আবদুস সামাদ আজাদের প্রস্তাবমতে দশজনের ছোট ছোট গ্রুপে মিছিল করে বেরিয়ে যাবে ছাত্রছাত্রীরা। তাদের লক্ষ্য হবে পরিষদ ভবন। জমা বারুদে স্ফুলিঙ্গ লেগে গেল ঠিক সেই মুহুর্তে।

বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় চারদিকে পুলিশ। ঠিক মাঝখানে গণপরিষদ তাদের লক্ষ্য। ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে বেরিয়ে যাওয়া ছাত্রদের শ্লোগানে প্রকম্পিত চারপাশ। পুলিশের লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাসের মহড়া চলতে থাকে। বৃহস্পতিবার, আইনসভার বাজেট অধিবেশন শুরু হবে বিকাল তিনটায়। ছাত্ররা বিভিন্ন জায়গায় রাস্তা বন্ধ করে, ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছে। ছোটখাটো মিছিল হচ্ছে ১৪৪ ধারাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়েই। এর মাঝেই পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ। কোথাও কাঁদানে গ্যাস, কোথাও লাঠিচার্জ, কোথাও গ্রেফতার করা হচ্ছে নির্বিচারে।

এরমধ্যে একটি মিছিল নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকে আইনসভার দিকে। প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানীতে জানা যায়, শাসক শ্রেণির প্রথম বুলেট আঘাত করে মানিকগঞ্জ দেবেন্দ্র কলেজের ছাত্র রফিকউদ্দিন আহমদকে। এরপর লুটিয়ে পড়ে আবদুল জব্বার। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র আবুল বরকতের উরুতে আঘাত করে ঘাতকের বুলেট। সচিবালয়ের পিয়ন আবদুস সালামের গোড়ালিতে গুলি লাগে। তাকে তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৯৫২ সালের ৭ এপ্রিল মারা যান তিনি। অজ্ঞাত পরিচয় অনেক লাশ উঠে পুলিশের গাড়িতে। হারিয়ে যায় কালের অন্তরালে। যাদের অবদানে আমরা গর্বের সঙ্গে বিশ্বের যেকোনো জায়গায় উচ্চারণ করি প্রতিটি বাংলা শব্দ।

এই ঘটনার প্রতিবাদ শুরু হয় সব মহলে। ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত প্রস্তাব করেন মুখ্যমন্ত্রীকে অবিলম্বে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনা সম্পর্কে বিবৃতি দিতে হবে। তাকে সমর্থন করেন মনোরঞ্জন ধর ও মওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী যেতে রাজি না হওয়ায় মওলানা তর্কবাগীশসহ বেশ কয়েকজন সভাকক্ষ ত্যাগ করেন।

২২ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার, আগের রাতে মর্গ থেকে রফিক আর জব্বারের লাশ নিয়ে গেছে পুলিশ, লাশ নিয়ে মিছিলে নামতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই লাশ উধাও করে দিয়েছে তারা। কিন্তু এই বিক্ষুব্ধ জনতাকে ঠেকাবে কে? বিপুল মানুষ শহিদদের গায়েবানা জানাজায় অংশ নেয়। অফিস আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সিনেমাহল সবকিছু স্থবির আর থমথমে, মানুষের শ্লোগানে মুখর পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এবং এর আশপাশের এলাকা। ‘আজাদ’ এর ভাষ্যমতে, ‘শুক্রবার শহরের অবস্থার আরও অবনতি, সরকার কর্তৃক সামরিক বাহিনী তলব। পুলিশ আর সেনাদের গুলিতে নিহত চার আহত শতাধিক।’

২৩ তারিখ ঢাকার মানুষের মুখে স্লোগান, ‘শহীদস্মৃতি অমর হোক’, ‘খুনি নুরুল আমিনের বিচার চাই’, ‘রক্তের বদলে রক্ত চাই’। মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে তাৎক্ষণিকভাবে ছাত্রদের মাথায় ‘শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণের পরিকল্পনা মাথায় আসে। নকশা আঁকেন মেডিকেল ছাত্র বদরুল আলম। ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতেও কারফিউ। রাতের অন্ধকারেই মেডিকেল কলেজের সম্প্রসারণের জন্য রাখা ইট, বালু আর পুরান ঢাকার পিয়ারু সর্দার নামে এক ব্যক্তির গুদাম থেকে নিয়ে আসা সিমেন্টে গড়ে উঠে আমাদের ভাষা আর স্মৃতির প্রথম মিনার। ২৪ তারিখ সকালে শফিউরের পিতা শহীদ মিনার দেখে অনানুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে দিয়ে যান। সারা বাংলার মানুষের ঢল নামে সেই শহীদ মিনারে। একবারের জন্য শ্রদ্ধা জানিয়ে যেতে শুরু করে সবাই। ২৬ তারিখ পুলিশ গুড়িয়ে দিয়ে যায় সেই মিনার, ঢাকা কলেজ প্রাঙ্গণেও একটি শহীদ স্মৃতির মিনার ছিল, সেটিও বাদ যায়নি। কিন্তু যে মিনার বাঙালির হৃদয়ে ছিল তা ভাঙবে কেমন করে। কংক্রিটের মিনার তো মুহূর্তের ব্যাপার! এই ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হলে (বর্তমান সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) বসে আলাউদ্দিন আল আজাদ লিখেছিলেন,

এরপর অনেক অত্যাচার আর নির্যাতনে স্টিমরোলার গেছে বাঙালি ছাত্র সমাজের ওপর দিয়ে। গ্রেফতার আর আদালতে হেনস্থা হতে হয়েছেন অনেকেই। অনেক টালবাহানা আর ছলচাতুরীর পর ১৯৫৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের নতুন সংবিধানের একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়, ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু এবং বাংলা।’

সেই স্বীকৃতির পর ১৯৫৭ সালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের কাজ শুরু হয়। নকশা করেছিলেন ভাস্কর হামিদুজ্জামান আর নভেরা আহমেদ। মূল নকশা থেকে অনেক কিছু বাদ দিয়েই নির্মাণ শেষ হয় ১৯৬৩ সালের শুরুতে। ১৯৬৩ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারিতে আবুল বরকতের মা হাসিনা বেগম উদ্বোধন করেন সেই শহীদ মিনার। রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে। প্রতিবছর ২১শে ফেব্রুয়ারির প্রভাতফেরিতে হাজারো মানুষ জমায়েত হোন এই প্রাঙ্গণে।

১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি যে চেতনায় উদ্দীপিত হয়ে বাঙালিরা রক্ত দিয়ে মাতৃভাষাকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছিল, আজ তা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে স্বীকৃতি লাভ করেছে।

রফিক ও সালাম- নাম দুটি যেমন বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে গেঁথে আছে, তেমনই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সঙ্গেও রফিক-সালামের নাম মিশে আছে। রফিকুল ইসলাম ও আবদুস সালাম কানাডার ভ্যানকুভার থেকে এ দিবসটির বীজ বপন করেছিলেন।

১৯৯৮ সালের ৯ই জানুয়ারী রফিকুল ইসলাম জাতিসংঘের তৎকালীন জেনারেল সেক্রেটারি কফি আনানকে একটি চিঠি লেখেন। সেই চিঠিতে রফিক ১৯৫২ সালে ভাষা শহীদদের অবদানের কথা উল্লেখ করে কফি আনানকে প্রস্তাব করেন ২১শে ফেব্রুয়ারিকে ‘মাতৃভাষা দিবস’হিসেবে যেন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। সে সময় এ চিঠিটি সেক্রেটারী জেনারেলের প্রধান তথ্য কর্মচারী হিসেবে কর্মরত হাসান ফেরদৌসের নজরে আসে। তিনি ১৯৯৮ সালের ২০ শে জানুয়ারী রফিককে অনুরোধ করেন তিনি যেন জাতিসংঘের অন্য কোন সদস্য রাষ্ট্রের কারো কাছ থেকে একই ধরনের প্রস্তাব আনার ব্যবস্থা করেন। সেই উপদেশ অনুযায়ী রফিক তার সহযোদ্ধা আব্দুস সালামকে সাথে নিয়ে “এ গ্রুপ অব মাদার ল্যাংগুয়েজ অফ দ্যা ওর্য়াল্ড” নামে একটি সংগঠন দাঁড় করান। এতে একজন ইংরেজীভাষী, একজন জার্মানভাষী, একজন ক্যান্টোনিজভাষী, একজন কাচ্চিভাষী সদস্য ছিলেন। তারা আবারো কফি আনানকে “মাদার ল্যাংগুয়েজ লাভারস অফ দ্যা ওর্য়াল্ড” (Mother Language Lovers of the World)-এর পক্ষ থেকে একটি চিঠি লেখেন, এবং চিঠির একটি কপি ইউএনওর ক্যানাডিয়ান এম্বাসেডর ডেভিড ফাওলারের কাছেও প্রেরণ করেন।

১৭ই নভেম্বর, ১৯৯৯। এক ঐতিহাসিক দিন। প্রস্তাব উত্থাপন করা হলো সভার প্রথমেই। ১৮৮ টি দেশ এতে সাথে সাথেই সমর্থন জানালো। কোন দেশই এর বিরোধিতা করলোনা, এমনকি খোদ পাকিস্তানও নয়। সর্বসম্মতিক্রমে একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে গৃহীত হলো ইউনেস্কোর সভায়। এভাবেই একুশে ফেব্রুয়ারি একটি আন্তর্জাতিক দিনে পরিণত হলো।

বর্তমানে জনগোষ্ঠীর বিচারে বাংলা পৃথিবীর সপ্তম বৃহত্তম ভাষা। আমরা যখন স্বপ্ন দেখছি বাংলাকে জাতিসংঘের অন্যতম অফিসিয়াল ভাষা ঘোষণার জন্য দাবি তোলার, ঠিক সে সময়ে জাতিসংঘের অফিসিয়াল ওয়েবপাতার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ইভেন্টের বর্ণনার কোথাও বাংলা ভাষা, ভাষা আন্দোলন, বাংলাদেশের কথা উল্লেখ নেই! যে দিবসটির পেছনে বাংলা ভাষা, ভাষা আন্দোলন, বাংলাদেশ জড়িত সেখানে জাতিসংঘের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ইভেন্টের বর্ণনায় বিষয়টি উল্লেখ না থাকা ভাষা বিজ্ঞানীদের ব্যথিত করে স্বাভাবিক।

বাংলা একাডেমি পদক, একুশে পদক অনেকেই পেয়ে যান, কিন্তু রফিক -সালামেরা উপেক্ষিতই থেকে যাচ্ছে এমন প্রশ্ন অনেক ভাষা শহীদদের পরিবারের ?

ভাষা সংগ্রামীরা একুশের প্রভাতফেরির মূল চেতনা ফিরিয়ে আনার দাবি জানান। তারা বলেন, আমরা একুশে ফেব্রুয়ারির অর্জন নিয়ে আত্মতৃপ্তিতে ভুগি। কিন্তু এখনো সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু হয়নি। উচ্চ আলাদতে এখনো বাংলার প্রচলন শুরু হয়নি। একুশে ফেব্রুয়ারির ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে তরুণসমাজকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তারা।

পিবিডি/জিএম

একুশে ফেব্রুয়ারি,শহীদ দিবস,আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস,বাংলা একাডেমি
apps
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত