Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • বুধবার, ২০ মার্চ ২০১৯, ৬ চৈত্র ১৪২৫
  • ||

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি

কবিতাটি যেভাবে প্রভাতফেরির গান হলো

প্রকাশ:  ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৬:৫৪ | আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৭:২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট icon

'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি'‌- প্রাণে আকুলতা গানটি আমাদের খুব চেনা। এ গানটি কানে বাজলে আমরা টের পাই ফেব্রুয়ারি এসেছে। এটি মাতৃভাষা দিবসের গান, প্রভাতফেরির গান। চিরায়ত এ গানটির রচয়িতা আবদুল গফফার চৌধুরী। তিনি অবশ্য এই বাক্যবলী কবিতা হিসেবেই লিখেছিলেন। পরে শহীদ আলতাফ মাহমুদের সুরের ছোয়ায় সেটি হয়ে ওঠে একুশের প্রভাতফেরির গান।

ওই সময় আবদুল গফফার চৌধুরী ছিলেন ঢাকা কলেজের ছাত্র। পুলিশের গুলিতে সালাম বরকত, রফিক, জব্বারসহ আরও অনেকে হতাহত হলে, তাদের দেখতে ঢাকা মেডিকেলে যান আবদুল গফফার। ঢাকা মেডিকেলের গেটের সামনে তিনি একটি রক্তমাখা লাশ দেখতে পান। লাশটির মাথার খুলি বুলেটের আঘাতে উড়ে গিয়েছিল।

এ লাশটি ছিল ভাষাশহীদ রফিকের লাশ। লাশটি দেখে তার কাছে মনে হয়, এটা যেন তার নিজেরই ভাইয়ের রক্তমাখা লাশ। সঙ্গেসঙ্গে তার মনে প্রথম দুইটি পঙ্ক্তি জেগে উঠে। পরে কয়েকদিনের মধ্যে ভাষা শহীদদের স্মরণ করে পুরো কবিতাটি লেখা শেষ করেন। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় একটি লিফলেটে। সেখানে 'একুশের গান' শিরোনামে কবিতা আকারে ছাপা হয়েছিল গানটি। পরে ১৯৫৩ সালে 'একুশে সংকলনে'ও এটি স্থান পায়।

‍`একুশের গান' নামের কবিতাটিকে গানে রূপান্তরের জন্য প্রথমে সুরারোপ করেন আবদুল লতিফ। এর কয়েকমাস পরে আলতাফ মাহমুদ এদে নতুন করে সুর দেন। তার করা সুরটিই বেশি জনপ্রিয়তা পায়। ১৯৫৪ সালের প্রভাতফেরিতে প্রথম গাওয়া হয় আলতাফ মাহমুদের সুরে গানটি।

এ গানটি এখন শুধু বাংলা ভাষার মানুষই না, সারা বিশ্বের মানুষও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। কারণ, একুশে ফেব্রুয়ারি এখন সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করা হয়। আর এই গানটি বর্তমানে হিন্দি, মালয়, ইংরেজি, ফরাসি, সুইডিশ, জাপানিসহ ১২টি ভাষায় গাওয়া হয়।

একুশের গান [সম্পূর্ণ]

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি

আমি কি ভুলিতে পারি

ছেলেহারা শত মায়ের অশ্রু ঝরা এ ফেব্রুয়ারি

আমি কি ভুলিতে পারি

আমার সোনার দেশের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি

আমি কি ভুলিতে পারি।

জাগো নাগিনীরা জাগো নাগিনীরা জাগো কালবোশেখীরা

শিশু হত্যার বিক্ষোভে আজ কাঁপুক বসুন্ধরা,

দেশের সোনার ছেলে খুন করে রোখে মানুষের দাবী

দিন বদলের ক্রান্তিলগ্নে তবু তোরা পার পাবি?

না, না, না, না খুন রাঙা ইতিহাসে শেষ রায় দেওয়া তারই

একুশে ফেব্রুয়ারি একুশে ফেব্রুয়ারি।

সেদিনও এমনি নীল গগনের বসনে শীতের শেষে

রাত জাগা চাঁদ চুমো খেয়েছিল হেসে;

পথে পথে ফোটে রজনীগন্ধা অলকনন্দা যেন,

এমন সময় ঝড় এলো এক ঝড় এলো খ্যাপা বুনো।

সেই আঁধারের পশুদের মুখ চেনা,

তাহাদের তরে মায়ের, বোনের, ভায়ের চরম ঘৃণা

ওরা গুলি ছোঁড়ে এদেশের প্রাণে দেশের দাবীকে রোখে

ওদের ঘৃণ্য পদাঘাত এই সারা বাংলার বুকে

ওরা এদেশের নয়,

দেশের ভাগ্য ওরা করে বিক্রয়

ওরা মানুষের অন্ন, বস্ত্র, শান্তি নিয়েছে কাড়ি

একুশে ফেব্রুয়ারি একুশে ফেব্রুয়ারি।

তুমি আজ জাগো তুমি আজ জাগো একুশে ফেব্রুয়ারি

আজো জালিমের কারাগারে মরে বীর ছেলে বীর নারী

আমার শহীদ ভায়ের আত্মা ডাকে

জাগো মানুষের সুপ্ত শক্তি হাটে মাঠে ঘাটে বাটে

দারুণ ক্রোধের আগুনে আবার জ্বালবো ফেব্রুয়ারি

একুশে ফেব্রুয়ারি একুশে ফেব্রুয়ারি।

পিবিডি-এনই

একুশে ফেব্রুয়ারি,আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো
apps
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত