Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০১৯, ১২ চৈত্র ১৪২৫
  • ||
শিরোনাম

আজও স্বীকৃতি পায়নি শতবয়সী ভাষা সংগ্রামী রতন

প্রকাশ:  ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৩:৪৫
মেহেদী হাসান সোহাগ, মাদারীপুর
প্রিন্ট icon

১৯৪২ সালে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের কারণে কারাভোগ, ১৯৪৮ সাল থেকেই মায়ের ভাষা বাংলাকে গ্রাস করার অপচেষ্টা প্রতিহত করার প্রতিবাদে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে ভাষা সৈনিক গোলাম মস্তফা রতন। অবশেষে ১৯৫২সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি দুই শতাধিক ছাত্রদের নিয়ে ঢাকার রাজপথে মিছিল করে আহত হলেও আজও দেয়া হয়নি তাকে কোনো স্বীকৃতি। বহুবার ২১শে পদক পাওয়ার আবেদন ও কয়েকটি টেলেভিশনসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় ফলোআপ করে প্রচার করলেও সরকারের পক্ষ থেকে নেয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা। তবে জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও যেন রতন কষ্টের ফসল দেখে যেতে পারে এমনটাই দাবি করে আসছেন মাদারীপুরবাসী।

স্বভাবতই রতন ছিলেন একজন প্রতিবাদী কন্ঠস্বর। ভাষা আন্দোলনে ঢাকায় অংশ নেওয়ার জন্য কয়েকটি জেলা ছাত্রদের নিয়ে একটি তালিকা করা হয়। ১৯৫২ সালে বাংলাভাষাকে মাতৃভাষা হিসাবে প্রতিষ্ঠত করার জন্য মরিয়া হয়ে পড়েছিল বাংলার আপাময় ছাত্র জনতা। একাত্ততা ঘোষণা করে আন্দোলনের দাবানল ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে।

১৯৫২ সালে তৎকালীন বরিশাল বিএম কলেজের ছাত্র গোলাম মোস্তফা রতন এর আহবায়ক নির্বাচিত হন। তাদের মধ্যে বিশেষভাবে ভূমিকা রেখেছিল বাংলর ছাত্র সমাজ। তারই সাথে একাত্ততা ঘোষণা করে আন্দোলনের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে ফরিদপুর, শরীয়তপুর ও বরিশালে। ৫২’র ২১শে ফেব্রয়ারি ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিতে মিছিল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রবেশ করতে চাইলেই কার্জন হলের সামনে পুলিশ গুলি চালায়। ভাষা সৈনিক গোলাম মস্তফা রতন ভাঙ্গা ভাঙ্গা কন্ঠে জানান, মিছিলকারীরা রক্ষা পেলোও সালাম বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকেই শহীদ হন। এসময় গুলিবিদ্ধ হয়ে বেচে যাই আমি।এরপর নিজ এলাকায় ফিরে পারিবারিক জীবন যুদ্ধ শুরু করি। মুক্তিযুদ্ধে শিবচর অঞ্চলের অন্যতম সংগঠক ছিলাম আমি।

তবে এখনো কোনো কিছুর দাবির কথা জানতে চাইলেই তিনি একটা কথাই বলেন, কোনো কিছু পেতে গেলে আন্দোলন করতে হবে। সে এখনও সেই ভাষার আন্দোলনের কথা ছাড়া তেমন কিছুই বলতে পারে না।

২০১২ সালে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তাকে সম্মাননা দিলেও বর্তমানে তিনি মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের চররামরায়ের কান্দি গ্রামের নিজ বাড়িতে ১৩ বছর ধরে অসুস্থ অবস্থায় মৃত্যুর প্রহর গুণছেন।

গোলাম মস্তফার বাল্য বন্ধু আব্দুল কাদের হাওলাদার বলেন, আমাদের এলাকায় ঔ সময় উনি ছাড়া আর কেউ ছিল না, ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করার মতো। তার জন্য সরকার এখন পযন্ত কিছুই করে নাই। তাকে সরকার কেন কিছু একটা করে না তা বুঝে আসে না।

উমেদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (ইংরেজী) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, রতন স্যার আমাদের এলাকার গর্ব, আমাদের জেলার গর্ব, আমাদের দক্ষিণবঙ্গের গর্ব, আমাদের দেশের গর্ব, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটাই চাওয়া রতন স্যার যেন জীবত থাকায় অবস্থায় তার একটি স্বীকৃতি দেখে যেতে পারে। এই রতন স্যার এই স্কুলের প্রতিষ্ঠাকাল থেকে পাশে ছিল। কিন্ত আমার তাকে তেমন কিছু দিতে পারি নাই।

উমেদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী মিথিলা ও লামিয়াসহ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের একটা দাবি গোলাম মস্তফা রতন স্যারকে সরকারিভাবে একটি সম্মানানা দেয়া হোক। স্যার আমাদের সারা দেশের অহংকার।

স্থানীয় দুলাল মাতুব্বর, মিজানুর রহমান খান, ওসামান দরনী, আলিম মস্টার বলেন, গোলাম মস্তফা রতন বহু অর্জনে স্বাক্ষর রাখলেও তার জীবনের চাওয়া একটি সরকারি স্বীকৃতি বা সন্মাননা। সরকার যেন একটি সন্মাননা দিয়ে তাকে ইতিহাসে স্থান করে দেন এমনটাই দাবি মাদারীপুরবাসীর।

ভাষা সংগ্রামী গোলাম মস্তফার রতনের ছেলে মিজান কষ্ঠের কন্ঠে জানালেন তাদের কথা, অনেকবার ২১শে পদকের জন্য আবেদন করে আসছি। আজ পযন্ত কোনো আবেদনই গ্রহণ করে তাকে স্বীকৃতি দেয়া হয় নাই। বাবা মুখে এখনো শুনি বহু অর্জনে স্বাক্ষর রেখেছে। বাবার যখন ভালোমত কথা বলতে পারতো তখন সে শুধু একটা কথা বলতো দেশের জন্য যা করেছি তাতো আমি জানি দেশ জানে, বঙ্গবন্ধু জানতো, আমার বয়সের যারা আছে তারা জানাতো, এতেই আমি মরেও শান্তি পাবো। তবে আমার একটা চাওয়া সরকারের কাছে, আমার বাবাকে যেন সরকারিভাবে একটি সন্মাননা দিয়ে তাকে ইতিহাসে স্থান করে দেন। আমার বাবা এখনো বেচেঁ আছে। সে বেচেঁ থাকা অবস্থায় তার এই সম্মাননা দেখে যেতে পারে সেই ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করছি।

মাদারীপুর জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম, বলেন, মাদারীপুরে গোলাম মস্তফা রতন নামে একজন আছে সে ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিল। সে সৈনিক এখনো বেঁচে আছে। তাকে আজও কোনো সরকারি স্বীকৃতি দেয়া হয় নাই। সে আমাদের কাছে আবেদন করলে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানাবো এবং আই চাইবো সে যেন আগামীতে একটি সরকারি স্বীকৃতি পায়।

/অ-ভি

apps
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত