Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • বুধবার, ২০ মার্চ ২০১৯, ৬ চৈত্র ১৪২৫
  • ||

আব্বা মারা গেছেন কিনা তা এখনো স্পষ্ট নয়: ড. সামাদের ছেলে

প্রকাশ:  ১৬ মার্চ ২০১৯, ১০:২৭ | আপডেট : ১৬ মার্চ ২০১৯, ১৫:০৫
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট icon

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে শুক্রবার (১৫ মার্চ) জুমার নামাজের সময় দুই মসজিদে বন্দুকধারীর হামলায় বাংলাদেশের অনারারি কনসাল শফিকুর রহমান ভুঁইয়া ড. আবদুস সামাদের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করলেও এই তথ্য মানতে নারাজ ঢাকায় বসবাসরত জ্যেষ্ঠ ছেলে তোহান মোহাম্মদ (৩৮)।

তিনি জানান, এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে তার মা দুই ভাইকে সঙ্গে নিয়ে বাবার খোঁজে সেখানকার হাসপাতালে যাবেন। তখন বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

শুক্রবার (১৫ মার্চ) দিবাগত রাতে এসব কথা জানান ছেলে তোহান মোহাম্মদ।

তিনি জীবিত নাকি মৃত এটা জানি না এমনটি জানিয়ে তোহান মোহাম্মদ বলেন, শুক্রবার (১৫ মার্চ) দিনগত রাত ১২টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত (বাংলাদেশের সময়) আম্মার সঙ্গে কথা হয়েছে। আম্মা ভালো এবং সুস্থ আছেন। তিনি আব্বার সঙ্গে মসজিদে যাননি।

আম্মাকে বললাম, সারা বাংলাদেশের সমস্ত লোক জানে তুমি মারা গেছো। শুনে আম্মা হাসলেন। আম্মাকে বললাম, আব্বার খবর কী? আম্মা বললো, তোমার আব্বার খবর আমরা জানি না বলছিলেন তোহা।

তিনি বলেন, নিউজিল্যান্ড কর্তৃপক্ষ ওখানে নিখোঁজদের জন্য একটি সিস্টেম খুলেছে। আব্বাকে পাচ্ছি না সেখানে পোস্ট করে তারা (দুই ভাই) ঘুমিয়েছে। এখনো পর্যন্ত কোনো উত্তর আসেনি। কি হয়েছে না হয়েছে শিগগির জানা যাবে।

তোহান স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে ঢাকার মিরপুরের একটি বাসায় থাকেন। তিনি একটি বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন।

ড. আবদুস সামাদ নাগরিকত্ব নিয়ে স্ত্রী কেশোয়ারা সুলতানা (৫৮), দুই ছেলে তারেক মোহাম্মদ ও তানভীর মোহাম্মদকে নিয়ে নিউজিল্যান্ডে স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন। তারেক সেখানে একটি ফার্মে চাকুরি করেন আর তানভীর এখনো পড়াশোনা করছেন।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব বিভাগে চাকরি ছেড়ে ২০১৩ সাল থেকে ড. আবদুস সামাদ নিউজিল্যান্ডে বসবাস শুরু করেন। তিনি স্থানীয় লিংকন ইউনিভার্সিটির শিক্ষক এবং হামলার শিকার আল নুর মসজিদের মোয়াজ্জিন ছিলেন।

তোহান আরও বলেন, ওরা (মা ও দুই ভাই) রেডি হচ্ছে। হসপিটালে যাবে, গিয়ে খোঁজ নেবে, কার কী হয়েছে? এখনো কে কে মারা গেছে এটা সরকারের তরফ থেকে বলা হয়নি। লোকজন বলছে অমুক অমুক মারা গেছে।

তিনি বলেন, আব্বা গুলি খেয়েছে এটা অনেকে দেখেছে। কেউ বলে বুকে, কেউ হাঁটুতে, কেউ বলে মাথায়, কেউ বলে ঘাড়ে গুলি খেয়েছে। উনি হাসপাতালে এটাই সবাই জানে। বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে তা আমরা জানি না।

আম্মা ও দুই ভাই মাত্র ঘুম থেকে উঠেছেন। এখন সেখানে সকাল ৬টা বাজে। এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে তারা হাসপাতালে যাবেন। এরপর হাসপাতালে গিয়ে শুনবেন। আজকের দিনে মোটামুটি সবকিছু জানা যাবে। আমার দুই ভাইও অনিশ্চিত। তারাও কিছুই জানছে না। কনসাল জেনারেল আমার বা আমাদের পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার (১৫ মার্চ) নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে এক অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে ৪৯ জন ইসলাম ধর্মালম্বী নারী-পুরুষ ও শিশুকে হত্যা করে। নিহতদের মধ্যে অন্তত তিন জন বাংলাদেশি বলে জানা গেছে। হামলায় ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদে ৪১ জন এবং লিনউডের আরেকটি মসজিদে ৮ জন নিহত হন। এই উগ্রপন্থী সন্ত্রাসী হামলার সময় আল নূর মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্যরা। মসজিদে ঢোকার কিছুক্ষণ আগে ওই হামলার ঘটনাটি ঘটে। ফলে অল্পের জন্য জীবন রক্ষা পান বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা।

পিবিডি/জিএম

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ,সন্ত্রাসী হামলা,ড. আবদুস সামাদ,কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
apps
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত