Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৯, ৬ বৈশাখ ১৪২৬
  • ||

আদর নাকি যৌন নিপীড়ন: ভাইরাল ছবি নিয়ে যা বললেন সেই চেয়ারম্যান

প্রকাশ:  ২৫ মার্চ ২০১৯, ১৪:৫৮ | আপডেট : ২৫ মার্চ ২০১৯, ১৫:০৬
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট icon

বান্দরবানের আলী কদম উপজেলায় ম্রো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির এক বিধবা নারীকে সেখানকার নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানের জড়িয়ে ধরার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ভাইরাল হয়ে পড়েছে। এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। কেউ কেউ নারীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওই ব্যক্তির শাস্তি হওয়া উচিৎ বলেও মন্তব্য করেছেন। তবে আলোচিত চেয়ারম্যানের দাবি, তিনি কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে নয়, বরং সান্তনা দিতেই ওই নারীকে জড়িয়ে ধরেছিলেন।

জানা যায়, গত ১০ মার্চ অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনের প্রথম ধাপে বান্দরবানের আলীকদমে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন মো. আবুল কালাম। এরপর ২২ মার্চ স্থানীয় নোয়াপাড়া ইউনিয়নের মেরিনচর পাড়ায় সংবর্ধনা নিতে যান তিনি। ওই পাড়াটিতে ম্রো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী মানুষদের বসবাস। সেখানেই ওই নারীকে জড়িয়ে ধরেন মো. আবুল কালাম, আর সেসব ছবি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

ভাইরাল হওয়া কয়েকটি ছবিতে দেখা গেছে, তিনি ম্রো নৃগোষ্ঠির এক বিধবা নারীকে জনসম্মুখে জড়িয়ে ধরে আছেন। ওই নারীর অভিব্যক্তিতে স্পষ্ট যে, তিনি এতে খুবই অস্বস্তি বোধ করছেন এবং জোর করে চেয়ারম্যানের হাত থেকে ছুটে যেতে চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে চেয়ারম্যান তাকে জোরপূর্বক ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।

সামাজিক মাধ্যমে ছবিগুলো ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই চেয়ারম্যানের সমালোচনায় সরব হয়েছেন। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির একজন বিধবা নারীকে এভাবে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে হেনস্তা করার দায়ে চেয়ারম্যানের বিচারও চেয়েছেন অনেকে।

তাদেরই একজন লিখেছেন, একজন জনপ্রতিনিধি কখনো এইভাবে একজন নারীকে জড়িয়ে ধরতে পারেননা ওই নারীর অনুমতি ছাড়া। কান্ডজ্ঞানহীন ব্যক্তি ছাড়া কখনো একজন নারীকে এইভাবে জড়িয়ে ধরতে পারেনা। এটি সম্পৃর্ণ শ্লীলতাহানি ও নারী সমাজকে অবমূল্যায়ন করা।

নিপুন ত্রিপুরা নামে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির একজন ছবিগুলো শেয়ার করে লিখেছেন, ভোট কারচুপি করে বিজয়ী হওয়া এ জানোয়ার চেয়ারম্যানের নাম মোহাম্মদ আবদুল কালাম। সংবর্ধনা নিতে গিয়ে সহজ সরল ম্রো মেয়েকে জড়িয়ে ধরে কামনা মিটাচ্ছে আর আশেপাশে সব চামচারা হাততালি দিচ্ছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান আবুল কালাম বলেন, ‘ওই নারীর ভাই স্থানীয় এমএনপি কমান্ডার। তার সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক হওয়ার সুবাদে আমি ওই বাড়িতে গিয়েছিলাম। সংবর্ধনা নেওয়ার সময় ওই নারী কান্নায় ভেঙে পড়লে আমি তাকে সান্তনা দিচ্ছিলাম, সেখানে আপত্তিকর আচরণের কিছু ছিল না। আর ঘটনার স্থানে ওই নারীর বাবা, মা, ভাইসহ পরিবারের সব সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তেমন কিছু হলে তো সেখানে তারা প্রতিবাদ করতেন।’

এ ব্যাপারে ওই নারীর পরিবারের কোনো অভিযোগ নেই দাবি করে তিনি বলেন, ‘তিনি (নারী) কান্নাকাটি করছিলেন, আমি শুধু তাকে সান্তনা দিচ্ছিলাম। আর সেই ছবি আমি নিজেই আমার ফেসবুক ওয়ালে শেয়ার করেছি। তেমন কিছু হলে তো আমি ছবিগুলো শেয়ার দিতাম না।’

এদিকে, চেয়ারম্যানের পক্ষ নিয়েই ম্রো তরুণীর ভাই বলেছেন, এটাকে (জড়িয়ে ধরা) অন্যভাবে ভাবার সুযোগ নেই। বোনের ছবি ছড়িয়ে দেওয়ায় ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন তিনি।


/পিবিডি/একে

ভাইরাল,চেয়ারম্যান
apps
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত