Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • শুক্রবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০ ফাল্গুন ১৪২৫
  • ||

ব্যবসায়ীকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে নির্যাতন, ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ

প্রকাশ:  ১২ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০৩
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রিন্ট icon

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে এক ব্যবসায়ীকে বাড়ি থেকে তুলে থানায় নিয়ে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে শারীরিক নির্যাতনসহ ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে ওসি মোরশেদ আলম এবং এস.আই সাধন বসাকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে নির্যাতিত ঠিকাদার ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম স্বপন বাদি হয়ে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আশোক কুমার দত্তের আদালতে এই মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে জেলা পুলিশ সুপারকে তদন্ত করে আগামী ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলায় বাদি জাহিদুল ইসলাম স্বপন অভিযোগ করেন, সোনারগাঁও উপজেলার দত্তপাড়া এলাকায় তার ক্রয়কৃত প্রায় ১০ কোটি টাকা মুল্যের জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি শিল্প্র প্রতিষ্ঠানের পক্ষ হয়ে গত ৭ অক্টোবর মধ্য রাতে সোনারগাঁ থানার ওসি মোরশেদ আলমের নেতৃত্বে একদল পুলিশ তার বাড়িতে হানা দেয়। পুলিশ তার হাত-পা এবং চোখ বেঁধে বাড়ি থেকে তুলে থানায় নিয়ে একটি রুমের মধ্যে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন চালায়। এসময় ওসি মোশেদ আলম ও এস আই সাধান বসাক জমিটি ছেড়ে না দিলে ক্রসফায়ার দিয়ে হত্যার হুমকি দেয় তাকে। ক্রসফায়ার থেকে বাঁচতে হলে ৫০ লাখ টাকার চাঁদা দাবি করেন পুলিশের এই দুই কর্মকর্তা। ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম ওসির এ প্রস্তাবে রাজি না হলে তাকে বেদম প্রহার করা হয়। পরে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে পুলিশ তাকে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করিয়ে পুনরায় থানায় এনে আবারও সারা রাত নির্যাতন করে।

সারা দেশের সবগুলো থানায় তার বিরুদ্ধে একশ’র বেশি মামলা দিয়ে চালান দেবে বলে ওসি তাকে হুমকি দিয়েছে এমন অভিযোগও তিনি মামলায় উল্লেখ করেন। পরদিন ৮ অক্টোবর বিকেলে পুলিশ উপজেলা যুবলীগের সভাপতির জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেয়।

মামলার বাদির আইনজীবি মুহাম্মদ মনির হোসেন জানান, নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আশোক কুমার দত্ত মামলাটি আমালে নিয়ে জেলা পুলিশ সুপারকে তদন্ত করে আগামী ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলে নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি আরো জানান, একজন সহকারি পুলিশ সুপার মর্যাদার একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে দিয়ে বিষয়টি তদন্ত করতে আদালত পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া ৭ অক্টোবর মধ্য রাতে জাহিদুল ইসলাম স্বপনকে পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করেছে কিনা, তাকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখানো হয়েছিল কিনা, তার কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল কিনা এবং তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার বিষয়টিসহ পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসহ পূর্ণাঙ্গ বিবরণ তদন্ত প্রতিবেদনে দাখিলের নির্দেশও দেয়া হয়েছে বলে জানান মামলার বাদির আইনজীবি।

নির্যাতিত ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম স্বপন আদালতে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, সোনারগাঁওয়ের দত্তপাড়া এলাকায় তার ক্রয়কৃত ১০ কোটি টাকা মূল্যে জমিটি নিয়ে সামিট ফয়েলস পলিমার লিমিটেড নামের একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকের সাথে বিরোধ রয়েছে। এই বিরোধ নিয়ে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার অফিসে মামলা চলমান রয়েছে। চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারী জমিটি বায়না সুত্রে মালিক হয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে তিনি বসাবাস করে আসছিলেন। তিনি বলেন, এই জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে সামিট ফয়েলস পলিমার লিমিটেডের পরিচালক জাফর ইকবালের কাছ থেকে সোনারগাঁও থানার ওসি মোরশেদ আলম আর্থিকভাবে লাভমান হয়ে আদালতের মামলার তোয়াক্কা না করে জমিটি ওই শিল্প প্রতিষ্ঠানের দখলে দেয়ার জন্য আমাকে রাতের আঁধারে বাড়ি থেকে ঘুমন্ত অবস্থায় তুলে থানায় নিয়ে গিয়ে অমানবিক নির্যাতন করেছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

তবে এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম অভিযোগ অস্বীকার বলেন, বিরোধপূর্ণ একটি জমি নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে আদালত থেকে ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। এক পক্ষ ওই জমিটি দখলে রেখেছিলো। তাকে গ্রেফতার করতে গেলে সে পড়ে গিয়ে ব্যাথা পাওয়ায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। পুলিশ কাউকে নির্যাতন করেনি বলে দাবি করেন তিনি।

মামলার সত্যতা এবং আদালতের নির্দেশের বিষয়টি স্বীকার করে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত সুপার (অপরাধ) মো: আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, আদালত থেকে পুলিশ সুপার বরাবর একটি নির্দেশনা এসেছে। এ ব্যাপারে বিভাগীয় তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

-একে

ক্রসফায়ার,চাঁদা
apps
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত