Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৭ ফাল্গুন ১৪২৫
  • ||

বুলবুলের হৃদয়ে আর কত ক্ষত করা যেত?

প্রকাশ:  ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ১৬:০৮ | আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ১৬:১৪
হাসনাত কাদীর
প্রিন্ট icon

কিংবদন্তি সংগীত পরিচালক, গীতিকার, সুরকার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল মাত্র ১৫ বছর বয়সে যোগ দিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধে। একটি স্বাধীন দেশের স্বপ্নে জীবন বাজি ধরা কিশোর 'স্বাধীন' দেশে কী পেলেন বিনিময়ে?

পেলেন আপনজনের লাশ। 'গৃহবন্দী' জীবন এক। বুলবুল ২০১২ সালে যুদ্ধাপরাধীর ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় সাক্ষী হিসাবে দাঁড়িয়েছিলেন। এই সাক্ষী দানের পরেই খুন হয়ে গেল তাঁর নিরপরাধ প্রিয়তম ছোট ভাইটি। ভাই মিরাজ খুন হওয়ার পরে বোঝা গেল, নিজ হাতে স্বাধীন করা দেশে তাঁর জীবনও এখন হুমকির মুখে। যেকোন সময় খুন হয়ে যেতে পারেন। রাষ্ট্র তাঁকে নিরাপত্তা দিলেন, বাড়িতে সিকিউরিটি, পুলিশি পাহাড়া। আর এই নিরাপত্তা বলয়ে ২৪ ঘন্টা গৃহবন্দী হয়ে গেলেন এক স্বাধীনতাকামী শিল্পী। মুক্তিপ্রেমি এক গানের পাখি।

এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে গৃহবন্দি এই স্বাধীনতাপ্রেমি লিখেছিলেন, ২০১২ তে আমাকে যুদ্ধ অপরাধীর ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় সাক্ষী হিসাবে দাঁড়াতে হয়েছিল। সাহসিকতার সাথে সাক্ষ্যপ্রমাণ দিতে হয়েছিল ১৯৭১-এ ঘটে যাওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলখানার গণহত্যার সম্পুর্ন ইতিহাস। আর, ওই গণহত্যা থেকে বেঁচে যাওয়া ৫ জনের মধ্যে আমিও একজন। হত্যা করা হয়েছিল একসাথে ৪৯ জন মুক্তিযোদ্ধাকে। কিন্তু এই সাক্ষীর কারণে আমার নিরপরাধ ছোটো ভাই “মিরাজ” হত্যা হয়ে যাবে এ আমি কখনওই বিশ্বাস করতে পারিনি।

তিনি আক্ষেপ আর ব্যাথাতুর হৃদয়ে লিখেছিলেন, সরকারের কাছে বিচার চেয়েছি, বিচার পাইনি। আমি এখন ২৪ ঘন্টা পুলিশ পাহারায় গৃহবন্দী থাকি, একমাত্র সন্তানকে নিয়ে। এ এক অভূতপূর্ব করুণ অধ্যায়।

বছরের পর বছর গৃহবন্দি থাকতে থাকতে অসুস্থ হয়ে পড়লেন আহমদে ইমতিয়াজ বুলবুল। গত বছরের মাঝামাঝি তাঁর হার্টে ব্লক ধরা পড়ে আটটা। হার্টে পরানো হয় রিং। কিন্তু যে হৃদয় ক্ষত-বিক্ষত হয়ে গেছে আঘাতে, স্বপ্নের মৃত্যু আর স্বাধীনতাহীনতায়, রিং তাঁকে বেঁধে রাখে এমন কী শক্তি আছে? পারে না, পারেওনি।

তাই বুঝি আজ (২২ জানুয়ারি) মঙ্গলবারের সূর্য ওঠার আগেই মানবতার মঙ্গলকামী এই সুরের পাখিটি উড়ে চলে গেলেন সমস্ত বন্ধন ছিন্ন করে।

হে নমস্য অগ্রজ! আপনি আমাদের স্বাধীনতার জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। বিনিময়ে আমরা কেড়ে নিলাম আপনার স্বাধীনতা। নিজের জীবনের চেয়ে আমাদের জান-মালকে প্রিয়জ্ঞান করেছিলেন আপনি। বিনিময়ে কেড়ে নিলাম আপনার প্রিয়তম ভাইয়ের জীবন। আপনি চেয়েছিলেন স্বাধীন সুরের মতো ডানা মেলে উড়তে, বিনিময়ে দিলাম উল্টে যাওয়া তেলাপোকার মতো এক গৃহচারী জীবন আপনাকে!

না, আমাদের লজ্জা করে না। আপনার সুর শুনে কান্না আসে না। কেবল ঘৃণায় বুকের ভেতর উতাল-পাথাল ঢেউ বয়ে যায়।

আপনার মৃত্যুতে কোন শোক জানাচ্ছি না।

আপনি আমাদের ক্ষমা করুন।

আপনার জন্য শুধু বুকভরা ভালোবাসা আর এই শুভ কামনা যে; যেখানেই যান, যেখানেই থাকুন আপনার অস্তিত্ব থাকুক স্বর্গীয় সুরে জড়ানো।

পিবিডি/ হাসনাত

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল,হাসনাত কাদীর,প্রস্থান
apps
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত