Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • বুধবার, ২৩ জানুয়ারি ২০১৯, ১০ মাঘ ১৪২৫
  • ||

পুলিশের সহযোগিতায় এডিসি পরিচয়ে চাঁদাবাজির চেষ্টা

প্রকাশ:  ৩০ ডিসেম্বর ২০১৭, ২৩:২৬
রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রিন্ট icon
রাজশাহী জেলায় কর্মরত এডিসি মাহবুর রহমান পরিচয়ে এবার পুলিশকে হাতিয়ার বানিয়ে এক অভিনব কায়দায় চাঁদা আদায় করছিলেন একটি প্রতারক চক্র। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দুইদিন রাজশাহীর তানোর উপজেলার প্রায় ১০টি বেকারির মালিকের কাছে মুঠোফোনে জন প্রতি ৫০ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করছিল। আর তাতে সহযোগিতা করছিলেন তানোর থানা পুলিশ।
তবে চাঁদার টাকা খোয়া যাওয়ার আগেই বৃহস্পতিবার বিকালে এক বেকারির মালিক মুণ্ডুমালা পৌর মেয়রকে চাঁদার দাবির বিষয়টি জানালে প্রতারণার বিষয়টি ধরা পরে। পরে স্থানীয় প্রশাসনকে জানালে নড়েচড়ে বসে তানোর থানা পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত হতে শনিবার তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শওকাত আলীর সাথে সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, মাহাবুর রহমান নামে রাজশাহীতে কোন এডিসি নেই, এটি কোন প্রতারক চক্রের কাজ। বেকারীর মালিকদের টাকা না দিতে নির্দেশ দেন এবং থানা ইনচার্জকে প্রতারণার বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে অবহিত করেন। তানোর থানা পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার তানোর থানার সরকারি নম্বরে ফোন আছে। সেখানে ডিউটি অফিসার এএসআই দিপেন ফোন ধরলে প্রতারক চক্র নিজেকে রাজশাহী জেলা এডিসি মাহাবুর রহমান পরিচয় দেন। উপজেলায় কয়টি বেকারীর কারখানা আছে তার তালিকা চান। এডিসির নিদেশের কথা এএসআই দিপেন থানা ইনচার্জ রেজাউল ইসলামকে অভিহত করেন। এএসআই দিপেনের কথা মত ওসি মুণ্ডমালা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কাছে বেকারির তালিকা চেয়ে বার্তা পাঠান। সেই সঙ্গে তানোরের কালিগঞ্জ এলাকায় সাতটি বেকারির মালিকের নাম তালিকা ও মোবাইল নাম্বার এডিসি পরিচয় দানকারীর কাছে দেন। এদিকে থানার নির্দেশ পেয়ে মুণ্ডুমালা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে এএসআই কাউসার মুণ্ডুমালা পৌর এলাকার তিনজন বেকারির মালিকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের নাম ও মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করে এডিসি পরিচয় কারীর কাছে তুলে দেন। পুলিশের কাছে এসব বেকারির নাম ও মোবাইল নাম্বার পেয়ে সবার কাছে ৫০ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করে এডিসি পরিচয় দানকারী প্রতারক চক্র। তবে কোনো টাকা এখন পর্যন্ত খোয়া যায়নি বলে জানান পুলিশ। মুণ্ডুমালা এলাকার হুমায়ন কবির নামের এক বেকারির মালিক জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধায় হঠাৎ তার কারখানায় মুণ্ডুমালা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে এএসআই কাউসার গিয়ে তার নাম ও মোবাইল নাম্বার চান এবং এডিসি মাহাবুর রহমান পরিচয় দান কারী ব্যাক্তির সাথে মোবাইলে কথা বলেন। তিনি আরো জানান, এ প্রতারক চক্রটির তার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। না হলে লাইন্সেস না থাকার অপরাধে তার বেকারির কারখানা অভিযান চালিয়ে সিল গালা করে দেয়ার হুমকি দেন। এমন হুমকিতে তিনি মুণ্ডুমালা পৌর মেয়র এর কাছে ছুটে যান। পৌর মেয়র গোলাম রাব্বানী এডিসি পরিচয় কারীকে নিজের নাম্বার থেকে ফোন দিয়ে মেয়র পরিচয় দিলে প্রতারক ফোন কেটে দেন। পরে আর ফোন না ধরায় প্রতারণার বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায়। তানোর থানা ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল ইসলাম বিষয়টি সত্যতা স্বীকার করে জানান, প্রতারক চক্রটি সরকারি নাম্বারে ফোন করে যে অভিনব কায়দায় কথা বলেছেন তাতে শুরুতেই তারা এডিসি বলেই ধরে নিয়েছিলেন। পরে বেকারি মালিদের কাছে চাঁদাবাদির কথা শুনে প্রতারক চক্রের বিষয়ে বুঝতে পারেন। সকল বেকারির মালিকে টাকা না দিতে বলেন।
apps