Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • শনিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৪ ফাল্গুন ১৪২৫
  • ||

রাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্বাশুড়ি নির্যাতনের অভিযোগ

প্রকাশ:  ০৩ জানুয়ারি ২০১৮, ২০:০১
রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রিন্ট icon

বিভাগের শিক্ষকদের পর রুখসানা পারভীনের বিরুদ্ধে এবার শারীরিক ও মানষিক নির্যাতনের লিখিত অভিযোগ করেছেন তার শ্বাশুড়ি। বুধবার সকাল ১১টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তারা এ অভিযোগ করেন। তবে রুখসানা পারভীন এ ব্যাপারে কিছু বলবেন না বলে জানান।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। প্রক্টর অধ্যাপক ড. লুতফর রহমান ও ছাত্র-উপদেষ্টা অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এটি তাদের পারিবারিক বিষয়। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করব।’

শ্বাশুড়ি রোকেয়া বেগম অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, ‘আমার একমাত্র পুত্রের সাথে রুখসানা পারভীনের বিবাহের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে এবং বর্তমানেও নানাভাবে আমাকে ও আমার পরিবারের অন্যান্যদের চরমভাবে অপমান-অপদস্ত, অরুচিকর আচরণ এবং নানা ধরনের হুমকি-ধমকি অব্যাহত রেখেছে। তাদের বিবাহিত জীবনের পর থেকে এই মহিলা (রুখসানা পারভীন) আমাকে প্রাণনাশের হুমকিসহ ভাষায় অপ্রকাশযোগ্য গালাগালি এবং নানা ধরনের মানসিক নির্যাতন করে আসছে।’

অভিযোগপত্রের সঙ্গে রোকেয়া বেগম প্রমাণস্বরূপ রুখসানা পারভীনের সঙ্গে ফোনে কথোপকথনের রেকর্ডিং জমা দেন। অভিযোগপত্রে রুখসানার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান তিনি। অভিযোগপত্র দেওয়ার সময় শিক্ষক রুখসানার ননদ দিলারা সুলতানা উপস্থিত ছিলেন।

দিলারা সুলতানা অভিযোগ করে বলেন, ‘বিয়ের পর থেকে রুখসানা পারভীন আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করার জন্য ভাইকে চাপ দিতো। ভাই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সে তার সঙ্গেও খারাপ আচরণ করতো। এমনকি তিনি (রুখসানা) আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র দিয়ে ধর্ষণ করাবে বলেও হুমকি দিতো।’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কেন অভিযোগ করেছেন এর জবাবে দিলারা বলেন, ‘আমরা পারিবারিকভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করলে সে (রুখসানা) আমার ভাইকে বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেইল করতো। এতে ভাইও কিছু বলতে পারতো না। তাই বাধ্য হয়ে আমরা তার (রুখসানা) উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিকার চাইছি।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রুখসানা পারভীন বলেন, ‘আমি অভিযোগের বিষয়ে জানি না। এটি আমাদের পারিবারিক বিষয়। এর বেশি কিছু বলতে পারব না।’

এর আগে গত ২৭ জুলাই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুখসানা পারভীনের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে ও শ্রেণিকক্ষের বাইরে বিভাগের অন্য শিক্ষকদের নামে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ তুলে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক নাসিমা জামানের কাছে লিখিত অভিযোগ একই বিভাগের দেন ১১ শিক্ষক। এরপর ৩১ জুলাই শিক্ষক রুখসানা পারভীন বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক নাসিমা জামানের উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে ওই ১১ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করেন। এতে যৌন হয়রানি, অর্থ আত্মসাতসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়।

এরপর ২ আগস্ট বিভাগের সভাপতির প্রতি অনাস্থা জানিয়ে উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন ওই ১১ শিক্ষক। পরে ৪ আগস্ট তারা সংবাদ সম্মেলন করে সভাপতি ও শিক্ষিকার করা যৌন হয়রানি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

শিক্ষকদের দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত (৩০ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৭৫ তম সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং ওই বিভাগের অধ্যাপক ড. রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে তার যৌন হয়ারনীর অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

/এসএইচ

apps
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত