Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • সোমবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৬ ফাল্গুন ১৪২৫
  • ||

ফেনীতে নিরাপদ সবজি চাষে উৎসাহ যোগাচ্ছে কৃষি বিভাগ

প্রকাশ:  ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:৩০ | আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:৩২
ফেনী প্রতিনিধি
প্রিন্ট icon

ফেনীর বিভিন্ন উপজেলায় ও ইউনিয়নে কীটনাশকের ব্যবহার ছাড়া নিরাপদ সবজি চাষ করতে কৃষকদেরকে উৎসাহ যোগাচ্ছে ফেনী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। ইতিমধ্যে সদর উপজেলা ও দাগনভূঞা উপজেলার বেশ কয়েকটি নিরাপদ সবজি চাষ করছে কৃষকরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, বিভিন্ন ধরনের সবজিতে পোকা দমন করতে কৃষকরা কীটনাশক ব্যবহার করে। কীটনাশকের প্রয়োগ ছাড়াই নিরাপদ সবজি চাষ করতে কৃষি জমিতে সেক্স ফেরোমন (আলোর ফাঁদ) তৈরি করা হচ্ছে। সবজি ক্ষেত্রে সেক্স ফেরোমন ফাঁদে ক্ষতিকারক পুরুষ পোকা পড়ে মারা যায়। যার ফলে সবজির ক্ষতি করতে পারে না। এইজন্য কৃষকে ক্ষতিকারক পোকা দমন করার জন্য সবজিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ঔষদের ব্যবহার করার প্রয়োজন হয় না।

একদিকে কৃষকের টাকা সাশ্রয় হচ্ছে অন্যদিকে নিরাপদ সবজি উৎপাদিত হচ্ছে। পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের কৃষকদেরকে বিষমুক্ত সবজি আবাদে উৎসাহ যোগাচ্ছে লক্ষীয়ারা ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন ও পাঁচগাছিয়া ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা প্রনব চন্দ্র মজুমদার। পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের ১শ ২ হেক্টর জমির মধ্যে লাউ, ফুলকপি ও বাঁধাকপি, মূলা টমেটো, বেগুন, মিষ্টি কোমড়া, আলু, খিরা চাষাবাদ করা হয়। বেগুন, মিষ্টি কুমড়া, খিরাসহ বিভিন্ন সবজি বিষমুক্তভাবে উৎপাদিত করতে ১২ হেক্টর জমিতে ফেরোমন ট্র্যাপ স্থাপন করা হয়।

এছাড়াও দক্ষিণ কাশিমপুর ও ইলাশপুরে মুগডাল, মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন সবজি ও নিরাপদভাবে চাষ করা হচ্ছে। সদর উপজেলার ফরহাদনগর ইউনিয়নের শত শত একর জমিতে ও দাগনভূঞা উপজেলার জগৎপুরের কয়েক একর জামিতে খিরা চাষেও ফেরোমন ট্রাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এভাবে বিভিন্ন উপজেলায়ও ড্রাম সিজর এর মাধ্যমে বিষমুক্তভাবে সবজি চাষ করতে কৃষকরা উৎসাহ পাচ্ছে।

মাথিয়ারা গ্রামের কৃষক তোয়ায়েল আহম্মদ জানান, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা আমাদেরকে নিরাপদ সবজি চাষ করতে বিভিন্ন পরামর্শ দেন ও জমিতে খরচ কমাতে বিভিন্ন ধরনের সহযোগীতা করেছেন।

পাঁচগাছিয়া ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা প্রনব চন্দ্র মজুমদার জানান, সেক্স ফেরোমেন স্ত্রী পোকার গায়ের ঘ্রান দিয়ে প্লাস্টিকের ড্রামে এই ফাঁদ তৈরী করা হয়। ড্রামে মধ্যে সাবানের গুড়া ও পানি দেওয়া হয় হয়। এই ফাঁদটি জমিতে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এতে পুরুষ পোকা স্ত্রী পোকার ঘ্রান নিতে ওই ফাঁদে চলে আসে। স্ত্রী পোককে না পেয়ে ফাঁদের ভিতরে পানি পড়ে পুরুষ পোকা মারা যায়। প্রতি ৭ দিন পর পর ফাঁদের পানি পরিবর্তন করে দিতে হয়।

দাগনভূঞা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা মো. রাফিউল ইসলাম জানান, নিরাপদ সবজি উৎপাদনে জমিনে ফেরোমন ট্রাপ স্থাপন করা হয়। কৃষকদের মাঝে আধুনিকতার ছোঁয়া আনতে কৃষি বিভাগ বিভিন্ন সময়ে পরামর্শ ও সহযোগীতা দিয়ে আসছে।

ফেনী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. জয়েন উদ্দিন জানান, রোগ মুক্ত সবজি উৎপাদন করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এ ক্ষেত্রে নিরাপদ সবজি উৎপাদনের বিকল্প নেই। ইতিমধ্যে কৃষকরা পোকামুক্ত সবজি উৎপাদন করছে। আমরাও কৃষকদেরকে উৎসাহিত করছি।

পিবিডি/ওএফ

apps
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত