Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • সোমবার, ২৫ মার্চ ২০১৯, ১১ চৈত্র ১৪২৫
  • ||

র‌্যাবের জালে সাত অপহরণকারী, শিশু উদ্ধার

প্রকাশ:  ২৯ জানুয়ারি ২০১৯, ১৮:২২
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রিন্ট icon

অপহরণের চারদিন পর সাত অপহরণকারী আটকসহ শিশু মো. জিতুকে (১৩) উদ্ধার করেছে র‌্যাব। উদ্ধারকৃত শিশু ব্রাক্ষণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার কাশিমপুর এলাকার আল আমিন মিয়ার ছেলে।

সোমবার রাতে ভৈরব বাসস্টেন্ড এলাকার দুর্জয় মোড়ে অভিযান চালিয়ে দুই অপহরণকারীকে আটক করেন র‌্যাব সদস্যরা। তারা হলেন বি-বাড়িয়ার আখাউয়া থানার খরমপুর এলাকার মৃত আব্দুল কুদ্দুস এর ছেলে মো. লোকমান হোসেন, একই এলাকার তানজু খাদেম এর ছেলে মো. ফুরখান খাদেম। এরপর তাদেরকে জিঙ্গাসাবাদে আরো পাঁচ অপহরণকারীসহ শিশু জিতুকে আজ ভোরে উদ্ধার করে র‌্যাব।

ভৈরব র‌্যাব ক্যাম্পের অধিনায়ক অতি. পুলিশ সুপার রফিউদ্দিন মোহাম্মদ যোবায়ের মঙ্গলবার সকালে সংবাদ সম্মেলনে জানান, গত ২৫ জানুয়ারি শিশু জিতু নিখোঁজ হয়। নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর অপহরণকারী দলের সদস্যরা অপহরণকৃত শিশু এর বাবা মো.আল আমিনকে মোবাইলে ফোন করে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। বাবা মুক্তিপণের টাকা কোথায়, কবে দিবে জানতে চাইলে অপহরণকারী দলের সদস্যরা জানায়, কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব বাসস্টেন্ড এলাকার দুর্জয় মোড় হতে তাদের দলের দুই সদস্য শিশুর স্বজনদের নিয়ে ভিকটিম মোঃ জিতু মিয়ার কাছে নিয়ে যাবে এবং টাকার বিনিময়ে তাকে মুক্তি দিবে।

ভিকটিমের স্বজনরা বিষয়টি ভৈরব র‌্যাব ক্যাম্পে কোম্পানী অধিনায়ককে জানালে অত্র এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে ভৈরব র‌্যাব ক্যাম্পের কোম্পানী অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং সিনিয়র এডি চন্দন দেবনাথ এর নেতৃত্বে আভিযানিক দলের সদস্যরা ভিকটিমের মাসহ স্বজনদের সহায়তায় গতকাল সোমবার রাতে ভৈরব বাসস্টেন্ড এলাকার দুর্জয় মোড়ে অভিযান চালিয়ে অপহরণকারী দলের দুই সদস্যকে আটক করে। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানায় অপহরণকারী দলের অন্যান্য সদস্যরা ভিকটিমসহ ময়মনসিংহ জেলার সদর থানা এলাকায় অবস্থান করছে।

এ তথ্যের ভিত্তিতে অপহরণকারী দলের আটকৃত ২ সদস্যসহ র‌্যাবের আভিযানিক দলের সদস্যগণ ভিকটিমের স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে ময়মনসিংহ জেলার সদর থানার সম্ভুগঞ্জ ব্রীজ এলাকায় অবস্থান নেয়। ভিকটিমের স্বজনরাসহ র‌্যাবের ছদ্মবেশে থাকা গোয়েন্দা সদস্যরা অপহরণকারী দলের সদস্যদের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে মুক্তিপণের টাকা গ্রহণের উদ্দেশ্যে ১টি ভাড়া করা অটোবাইক নিয়ে অপহরণকারী দলের ৩ সদস্য সম্ভুগঞ্জ ব্রীজের উপর আসে। পরবর্তীতে র‌্যাবের ছদ্মবেশী সদস্যগণ ভিকটিমের স্বজন সেজে ভিকটিমকে টাকার বিনিময়ে উদ্ধার করতে ভিকটিমের অবস্থান ময়মনসিংহ জেলার সদর থানার কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ সংলগ্ন বিসিএস কনফিডেন্স হল রুমে পৌছায় এবং অপেক্ষমান অপহরণকারীর দলের সদস্যদের সাথে মুক্তিপনের টাকা নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে জানতে পারে যে, ভিকটিম মোঃ জিতু মিয়া পার্শ্বের একটি রুমে আটক আছে।

তাৎক্ষণিক ভৈরব র‌্যাব ক্যাম্পের দলের সদস্যরা মঙ্গলবার ভোর ৪টায় অভিযান চালিয়ে অপহরণকারীর দলের সদস্য ময়মনসিংহ জেলার ধোপাউড়া উপজেলার চক ছত্তরপুর গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে চান মিয়া মিয়া (কালা মিয়া), সদর থানার কেরয়াটখালী গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে মোঃ আজিজুল হাকিম (২২), তারাকান্দা থানার শিমুলতলী গ্রামের মোঃ নজরুল ইসলামের ছেলে খাইরুল ইসলাম উরফে ইমন (২২), ত্রিশাল থানার কুইষ্টা গ্রামের মোঃ নেওয়াজ আলীর ছেলে মোঃ আলমগীর হোসেন(২২), ধোপাউড়া থানার গাছুয়াপাড়া গ্রামের মৃত মাহামুদ আলী মোঃ এরশাদ আলীকে (২৫) আটক করে এবং ভিকটিম মোঃ জিতু মিয়াকে উদ্ধার করা হয়।

আটককৃত অপহরণকারীর দলের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, আটকৃত মো. চান মিয়া উরফে কালু মিয়া ৫/৬ মাস যাবৎ ভিকটিমের বাবার বাড়িতে গৃহস্থালীর কাজ করত। ভিকটিমের বাবার সাথে লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়ে মনোমানিল্য সৃষ্টি হলে উক্ত চাঁন মিয়া অন্যান্য অপহরণকারী দলের সদস্যদের সাথে পরামর্শ করে দোকানে নাস্তা খাওয়ার কথা বলে জিতু মিয়াকে খরমপুর মাজার এলাকায় নিয়ে চেতনানাশক ঔষধ মেশানো জুস খাইয়ে অজ্ঞান করে করে ময়মনসিংহে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ভিকটিমের বাবার নিকট মোবাইল ফোনে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপনের টাকা দাবি করে এবং উক্ত টাকা না দিলে ভিকটিমকে তারা খুন করা হবে বলে হুমকি দেয়।

ভৈরব র‌্যাব ক্যাম্পের অধিনায়ক অতি. পুলিশ সুপার রফিউদ্দিন মোহাম্মদ যোবায়ের জানান, ঘটনাটি আমরা অবহিত হলে কৌশলে জিতুকে উদ্ধারসহ সাতজনকে আটক করতে সক্ষম হয়। এ ঘটনায় বি-বাড়িয়ার বিজয়নগর থানায় একটি মামলা হবে।

/পিবিডি/একে

অপহরণ,র‌্যাব
apps
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত