Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৯, ৬ বৈশাখ ১৪২৬
  • ||

বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে শামীম ওসমানের দেহরক্ষী কনস্টেবল মামুন ফকির বদলি

প্রকাশ:  ২৫ মার্চ ২০১৯, ০০:৩৩
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রিন্ট icon

পুলিশের উধ্বর্তন কর্মকর্তাদের না জানিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমানের দেহরক্ষী পুলিশ কনরেস্টবল মামুন ফকির সাংসদের ছেলের সাথে অস্ত্র নিয়ে কক্সবাজার তিনদিন অবস্থান করার অভিযোগে তাকে কিশোরগঞ্জে বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগে বিভাগীয় তদন্ত চলবে।

সোমবার রাতে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা ডিআই টু এর (মিডিয়া) ইন্সপেক্টর সাজ্জাদ রুমন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গতকাল শনিবার বিকেলে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুবাস চন্দ্র সাহা কনস্টেবল মামুন ফকিরের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগে প্রমাণ পান এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন তাকে কিশোরগঞ্জ বদলির আদেশ দেন এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলবে বলে নির্দেশ দেন।

২০১৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি সংসদ সদস্যসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালের সভাপতিত্বে সভায় সিদ্ধান্ত হয়, সংসদ সদস্যদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের নিরাপত্তায় গানম্যান দেওয়া যাবে। তবে সংসদ সদস্যরা শুধুমাত্র তাঁর নিজ সংসদীয় এলাকায় দেহরক্ষীর নিরাপত্তা পাবেন। সাংসদ তার নির্বাচনী এলাকার বাইরে চলে গেলে নিরাপত্তায় নিয়োজিত দেহরক্ষী নিজ ইউনিটে রিপোর্ট করবেন। এই নিরাপত্তা শুধু সাংসদরাই পাবেন। তাঁদের স্ত্রী, সন্তান বা পরিবারের আর কেউ পাবেন না বলে সভায় সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমানের ছেলে অয়ন ওসমানের ক্ষেত্রে এ আইনের ব্যত্যয় ঘটেছে। পরে এ বিষয়টি ব্যাপাক আলোচনা সমালোচনায় আসে।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী এলাকায় সাংসদ শামীম ওসমানের নিরাপত্তায় দেহরক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কনস্টেবল মামুন ফকির। কিন্তু তিনি কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া শামীম ওসমানের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন না করে তাঁর ছেলে অয়ন ওসমানের সঙ্গে ১৪ থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত গুলিসহ অস্ত্র সাথে নিয়ে এই তিনদিন কক্সবাজার অবস্থান করেন। এটি চাকরিবিধি আইনের পরিপন্থী। ওই সময় সাংসদ শামীম ওসমান দেহরক্ষী ছাড়া নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করেছেন। এটা সাংসদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। এ ঘটনা তদন্তে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) সুবাস চন্দ্র সাহাকে তিনদিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

সুবাস চন্দ্র সাহা গণমাধ্যমকে জানান, কনস্টেবল মামুন ফকিরের বিরুদ্ধে অভিযোগের ব্যাপারে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। মামুন সাংসদ শামীম ওসমানের দেহরক্ষী হলেও তাকে বিভিন্ন সময়ে অয়ন ওসমানের দেহরক্ষী হয়ে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করতে দেখা গেছে। এছাড়া কনস্টেবল মামুন প্রায়ই সাংসদের সঙ্গে নির্বাচনী এলাকার বাইরেও অবস্থান করেছেন।

জেলা পুলিশ লাইনস সূত্রে জানা গেছে, কনস্টেবল মামুন ২০০৭ সালের ২২ আগস্ট পুলিশ কনস্টেবল পদে যোগ দেন। ২০১৩ সালের ৪ নভেম্বর থেকে তিনি নারায়ণগঞ্জে দায়িত্ব পালন করছেন। এরপর থেকে তিনি সাংসদ শামীম ওসমানের দেহরক্ষী হিসেবে নিয়োজিত আছেন। এর আগে কনস্টেবল মামুন এপিবিএন চট্টগ্রামে ছিলেন। কনস্টেবল মামুন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ অমান্য করে পুলিশ লাইনসে কোনো রিপোর্ট না করে চলাফেলা করেন। নিয়ম অনুযায়ী, ডিউটিতে থাকা ছাড়া বাকি সময় পুলিশ লাইনসে হাজির থাকার নিয়ম। শামীম ওসমানের দেহরক্ষী হওয়ার পর থেকে কনস্টেবল মামুন কোনোদিন পুলিশ লাইনসে রিপোর্ট করেননি বলেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে কনস্টেবল মামুনের বিরুদ্ধে পুলিশের ওয়্যারলেস সেট (বেতারবার্তার যন্ত্র) ব্যবহার করে পুলিশের গতিবিধি ও গোপন তথ্য ফাঁস করার অভিযোগে বেতারযন্ত্রটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

পিবিডি/ ইকা

পুলিশ,বদলি
apps
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত