• বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
  • ||

খালেদার ‘ভিশন-২০৩০’ অনুসরণেই বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহার

প্রকাশ:  ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ১৮:৫৭
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
ফাইল ছবি

বিএনপি একইসঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটে যুক্ত থাকায় আসন ভাগাভাগি নিয়ে দেখা দিয়েছে নতুন চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের রয়েছে নতুন জোট হিসেবে ভোটাদের মন জয় করার চ্যালেঞ্জও। সব সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান ও আসন্ন নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্য নিয়েই ইশতেহার তৈরি করতে কমিটি গঠন করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এ নির্বাচনী ইশতেহারে তরুণ ভোটাদের আকৃষ্ট করাসহ থাকছে বেশ কিছু চমক।

মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জরুরি বৈঠকে ইশতেহার তৈরি করতে ৬ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন হয়েছে। ঐক্যফ্রন্টের দায়িত্বশীল দুই নেতা জানিয়েছেন, ইশতেহার তৈরির কমিটিতে বিএনপি থেকে মাহফুজ উল্লাহ, গণফোরাম থেকে আ ও ম শফিক উল্লাহ, নাগরিক ঐক্য থেকে ডা. জাহেদ উর রহমান, জেএসডি থেকে শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের অধ্যক্ষ ইকবাল সিদ্দিকী এবং ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী আছেন।

জোটের একাধিক নেতা জানান, বিএনপি ইতোমধ্যেই ভিশন ২০৩০ ঘোষণা করেছে। এই ভিশনকে সামনে রেখেই ইশতেহার প্রণয়নে বসবে কমিটি। এছাড়া, আরও বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করে মানুষের সামনে একটি দায়িত্বশীল ও তরুণদের আগ্রহী করে তোলে, এমন ইশতেহারই ফ্রন্টের লক্ষ্য বলে জানান তারা।

২০১৭ সালের ১০ মে আধুনিক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়তে ৩৭টি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে ‘ভিশন-২০৩০’ ঘোষণা করেছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। বিএনপির এবারের নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি হচ্ছে সেই আলোকেই। তবে বিএনপির এই ইশতেহারে নবগঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফা দাবি ও ১১ লক্ষ্যের প্রতিফলনও থাকছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, গত ১৩ অক্টোবর আত্মপ্রকাশের দিন ৭ দফা দাবি ও ১১ দফা লক্ষ্য ঘোষণা করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। অপরদিকে, বিএনপির ইশতেহারেও ঐক্যফন্ট্রের ১১ লক্ষ্য থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন দলটির দুই ভাইস-চেয়ারম্যান। তারা বলেন, আমরা দুই ধরনের ইশতেহার তৈরিতে হাত দিয়েছি। প্রয়োজনে সংযোজন, সংশোধন বা কর্তন করা হবে। তবে ইশতেহারে বেশিরভাগই রয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের ব্যর্থ প্রকল্পগুলোকে সফল করার প্রতিশ্রুতি।

দলের ঘনিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি করতে জাতীয়তাবাদী ঘরানার দক্ষ সাবেক আমলা, আইন বিশেষজ্ঞ, পুলিশের সাবেক কর্মকর্তা, সেনা, শিক্ষা, কৃষি, শিল্প, পরিবেশ গবেষণা, বেসরকারি বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, পোশাক খাত, শ্রমবাজার উন্নয়ন, বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের মতামত নিয়ে একটি খসড়া ইশতেহার তৈরির কাজ চলছে। যা আরো যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত করা হবে।

ইশতেহারে নতুন ধারার সরকারের পরিকল্পনা সামনে রেখে প্রশাসন ও বিচার বিভাগের দলীয়করণের অবসানের বিষয়ে বলা হয়েছে। এছাড়া বিভক্তি ও বিভাজনের রাজনীতি পরিবর্তনে অহিংস নীতি গ্রহণের সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হবে খসড়া নির্বাচনী ইশতেহারে। তবে নির্বাচনী স্লোগান কি হবে তা এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি।

ইশতেহার তৈরির সঙ্গে যুক্ত এমন এক নেতা জানান, একসঙ্গে নির্বাচন করলে অবশ্যই ওই লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার তৈরি হবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ নেতা বলেন, ভিশন-২০৩০ নামের এক রূপকল্পে ৩৭টি বিষয় বা ইস্যুতে মোট ২৫৬ দফা প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করে বিএনপি। এরমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর একক ক্ষমতা কমিয়ে সরকারের নির্বাহী ক্ষমতায় ভারসাম্য আনা এবং দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ প্রতিষ্ঠাসহ ইতিবাচক অনেক বিষয়ের কথা উল্লেখ করা হয়।

গত ১৩ অক্টোবর বিএনপির সঙ্গে অন্য ৩টি দলের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ঘোষিত ১১ দফা লক্ষ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, রাষ্ট্রপতি ও প্রধামন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনা, প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণ ও ন্যায়পাল নিয়োগ, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐকমত্য গঠনসহ আরো অনেক প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এসব প্রতিশ্রুতি থাকছে বিএনপির ইশতেহারেও। এছাড়া পোশাক কর্মীদের আলাদা বেতন কাঠামো, কর্মপরিবেশ এবং নিরাপত্তা বিষয়গুলো গুরুত্ব দেয়া হবে।

/আরাফাত

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট,বিএনপি,খালেদা জিয়া,ইশতেহার
apps