• বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
  • ||

হুমায়ূনের স্বপ্নের নুহাশ পল্লীর প্রবেশপথ বন্ধ করলো বনবিভাগ

প্রকাশ:  ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ০২:১৭
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক
প্রিন্ট

নন্দিত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের স্বপ্নের নুহাশ পল্লীর প্রবেশের রাস্তাটি স্থাপনের দীর্ঘ ২২ বছর পর বন্ধ করে দিয়েছে বনবিভাগ। এতে সৌন্দর্যের পাশাপশি হুমায়ূনের ভক্তদের নুহাশ পল্লীতে প্রবেশে প্রতিবন্ধকতাও সৃষ্টি হচ্ছে। এতে করে প্রতিনিয়ত ভক্তদের অভিযোগের পাল্লা ভারী হচ্ছে। ভক্তরা বলেন, বনবিভাগ চাইলে প্রবেশেদ্বার খুলে দিতে পারে।

অনদিকে হুমায়ূন আহমেদের ভক্তরা প্রতিনিয়ত সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটে আসেন নুহাশ পল্লীতে। তারসাথে হুমায়ূনের কৃত্রিম স্মৃতিটুকু ধরে রাখতে চায় তারা। কিন্তু এতে ব্যাগাত সৃষ্টি করছে বনবিভাগ।

নুহাশ পল্লীর ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বুলবুল জানান, প্রায় দেড়মাস আগে নুহাশ পল্লীর প্রায় ১শ’ গজ সামনে প্রবেশের রাস্তাটি বন্ধ করে দেয় বনবিভাগ। পল্লীর ভেতর সাহিত্যিকদের নিজের হাতে লাগানো বিভিন্ন প্রজাতির আম বাগানের ৫৫ শতাংশ জমি বনবিভাগের বলে দাবি করে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি দিয়েছে। এতে লেখা রয়েছে সংরক্ষিত বনভূমি। পল্লীতে প্রবেশের রাস্তাটিতে কাঠের খুঁটি পুঁতে ও গর্ত করে বন্ধ করে রেখেছে। রাস্তা বন্ধ থাকায় হুমায়ূন ভক্তসহ সবার চলাচলের বিঘ্ন ঘটছে।

এ ব্যাপারে রাথুরা বন বিট কর্মকর্তা মো. মোশারফ হোসেন জানান, রাস্তাটি বন বিভাগের থাকায় ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন জানান, হুমায়ূন ভক্তদের দিকে তাকিয়ে ও এলাকাবাসীর চলাচলের সুবিধার জন্য রাস্তাটি খুলে দেওয়া ও মেরামত করা উচিত। পল্লীর ভেতর বনবিভাগের যে জমিটি রয়েছে সেটি আমরা কিভাবে ছাড়তে পারি? কারণ এখানে হুমায়ূনের নিজের হাতে লাগানো বিভিন্ন প্রজাতির আম গাছ রয়েছে। এটি পড়ে গেছে বনবিভাগের জমিতে। এনিয়ে আমরা আবেগতাড়িত হয়ে পড়েছি। এটি হুমায়ূনের পছন্দের একটি জায়গা। তার সমাধির পাশেই বাগানটি। আমরা চেষ্টা করবো বনবিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে একটা ব্যবস্থা করতে। এখানে কোনো স্থাপনা আমরা করিনি শুধু গাছই আছে। এখন এখানে একটা বেড়ার মতো দেখতে খারাপ দেখায়।

স্থানীয় পিরুজালী ইউপি চেয়ারম্যান মো. সাইফুল্লাহ সরকার মঞ্জু বলেন, বনের জমিও যাতে রক্ষা পায় এবং জনগণও যাতে ভোগান্তিতে না পড়েন সেদিকে উভয়ে উভয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন।

হুমায়ুন আহমেদের জন্মদিন পালন

সোমবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন কেক কেটে পালন করা হয়েছে কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৭০ তম জন্মদিন।

গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী এলাকায় মঙ্গলবার (১৩ নভেম্বর) নুহাশ পল্লীতে হুমায়ুন আহমেদের জন্মদিন পালন করা হয়েছে। প্রথমে রাত ১২টা ১ মিনিটে পুরো নুহাশ পল্লীতে ২ হাজার ৫০০ মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হয়। মঙ্গলবার সকালে প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন, তাদের দুই ছেলে নিশাদ ও নিনিতসহ স্বজন এবং ভক্তদের নিয়ে নুহাশ পল্লীতে কেক কাটেন এবং ১০ জোড়া পায়রা উড়িয়ে দেওয়া হয়। এর আগে হুমায়ূন আহমেদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন, কবর জিয়ারত ও আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন।

শিল্পকর্ম প্রদর্শনী

হুমায়ুন আহমদের ৭০তম জন্মদিন উপলক্ষে নুহাশপল্লীর ভাস্কর আসাদ খানের দিনব্যাপী একক শিল্পকর্মের প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। ভাস্কর আসাদ বলেন, এটি হলো তার তৃতীয় প্রদর্শনী। প্রয়াত হুমায়ুন স্যারের উৎসাহ ও উদ্দীপনায় আমি এতদূর এগিয়েছি। আমি কাঠের হস্তশিল্পে প্রশংসা ও পারদর্শী হয়েছি।

হিমুদের সাইকেল যাত্রা

গাজীপুর জেলা শহর থেকে হিমু পরিবহনের ৩০ জনের দল মঙ্গলবার সকালে নুহাশপল্লীতে গিয়ে জনপ্রিয় ওই সাহিত্যিকের কবর জিয়ারত ও পুষ্পস্তবক অর্পন করেন। হিমু পরিবহনের সদস্য মো. জহিরুল ইসলাম জানান, তারা এদিনে সকাল জেলা শহর থেকে নুহাশপল্লীতে যাওয়ার পথে এলাকাবাসীর কাছে ক্যান্সার সচেতনতা বিষয়ক লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার কেন্দুয়া থানার কুতুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন হুমায়ুন আহমেদ। তার ডাক নাম ছিল কাজল। বাবার রাখা তার প্রথম নাম শামসুর রহমান। পরে তিনিই আবার ছেলের নাম বদলে রাখেন হুমায়ুন আহমেদ। দূরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। গাজীপুরের নুহাশ পল্লীতে তাকে সমাহিত করা হয়।

ওএফ

apps