• বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
  • ||

‘সময় থাকতে পরিবর্তন হন, না হলে দাঁতভাঙা জবাব’

প্রকাশ:  ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ১২:২৪ | আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ১২:৫৩
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে সরকারি দলের লোকজনদের অবাধ বিচরণ ঘটছে। নির্বাচন ভবনটি আজ আওয়ামী লীগের অফিসে পরিণত হয়েছে। সময় থাকতে আপনারা পরিবর্তন হন, তা না হলে জনগণ আপনাদের অবৈধ কর্মকান্ডের দাঁতভাঙা জবাব দিবে।

শুক্রবার (১৬ নভেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিরোধী দলকে যেখানে নির্বাচন কমিশন আইন অনুযায়ী প্রাপ্য কোনো ধরণের সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে না, সেখানে সরকারি দলকে নানা ধরণের তথ্য দিয়ে সুবিধা দেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকারের নির্দেশ প্রতিফলনের জন্য নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের সাথে নিয়মিত নির্বাচন ভবনে অফিস করছেন আওয়ামী লীগের নির্বাচন বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান বাবলা।

বিএনপির এ নেতা বলেন, ২০১৭ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনের সাথে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচ টি ইমামের নেতৃত্বে ২১ সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে যে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল সেই প্রতিনিধি দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন এই বাবলা। এরপর সর্বশেষ গত ৭ নভেম্বর ও ১৪ নভেম্বর দু’দফা আওয়ামী লীগ প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে নির্বাচন কমিশনে যান বাবলা।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে থাকেন মুস্তাফিজুর রহমান বাবলা। এই বাবলার ভয়ে তটস্থ নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন স্তরের মেধাবী কর্মকর্তারা। গোপনে তথ্য না দিলে তাদেরকে সরকারবিরোধী লোক বলে অভিযুক্ত করে বদলিসহ নানা ধরণের হুমকি-ধামকি দিয়ে থাকেন তিনি।

রিজভী বলেন, গত এক দেড় বছরে এ ধরণের অসংখ্য ঘটনা নির্বাচন কমিশনের নজরে আনা হলেও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালউদ্দিন আহমদ নানাভাবে বাবলাদের সাহায্য সহযোগিতা করে থাকেন।

তিনি বলেন, এই বাবলা অনুমতি ছাড়া অবাধে যাতায়াত করেন কমিশনের কর্মকর্তাদের কক্ষে। ইসি’র গোপনীয় তথ্য আওয়ামী লীগের অফিসে পাচার করে থাকেন। নির্বাচন কমিশন থেকেও তাকে দেয়া হয় বিশেষ ধরণের সুবিধা। তবে কমিশনের কিছু সরকারি সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের সাথে রয়েছে তার বিশেষ সখ্যতা। আমাদের কাছে এ ধরণের প্রমাণ রয়েছে।

সাবেক এ ছাত্র নেতা বলেন, বিশেষ করে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহমেদ খান এর সাথে তার সম্পর্ক খুবই ভালো। এই ফরহাদ আহমেদ খান সরকারের বিশেষ সুবিধাভোগী।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলার আগের দিন পুলিশের আইজিকে রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে সভা-সমাবেশ বন্ধের নির্দেশ দিয়ে যে চিঠি দেয়া হয়েছিল সেই চিঠি স্বাক্ষরকারী এই ফরহাদ আহমেদ খান। ফরহাদ ও বাবলা যৌথভাবে আজ্ঞাবহ ইসি ও সরকারে নানা ধরণের এজেন্ডা বাস্তবায়নে লিপ্ত। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদেরকে স্মার্ট পরিচয়পত্র নির্বাচন কমিশন থেকে সংগ্রহ করে দেন এই বাবলা।

তিনি বলেন, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার করা হলেও এখন পর্যন্ত মন্ত্রী-এমপিরা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানসহ নানা অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন, বক্তব্য রাখছেন কিন্ত এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো প্রকার আচরণবিধি তৈরি হয়নি। পুরো নির্বাচন ব্যবস্থায় জগাখিচুড়ি অবস্থা বিরাজ করছে। নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালন না ঘটিয়ে বরং সরকারবিরোধীদেরকে নানাভাবে কোণঠাসা করা হচ্ছে।

রিজভী বলেন, গত পরশু নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতৃবৃন্দ ও তাদের সাথে আসা বিপুল সংখ্যক কর্মীদের উপস্থিতি ছিল শান্তিপূর্ণ। শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থানরত নেতাকর্মীদের ওপর পরিকল্পিতভাবে পুলিশ ও আওয়ামী ক্যাডারদের সহিংস আক্রমণ ও নাশকতার ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে সরকার।

তিনি বলেন, নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে গতকাল বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এ্যাডভোকেট নিপুণ রায় এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক আরিফা সুলতানা রুমাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর আগের দিন মনোনয়ন প্রত্যাশীসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ৬৮ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৩৮ জনকে ৫ দিন পুলিশি রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।

নিপুণ রায় এবং আরিফা সুলতানা রুমাকে গ্রেফতারের ঘটনায় আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানএবং অবিলম্বে তাদের নি:শর্ত মুক্তির দাবি করেন রিজভী।

/অ-ভি

পরিবর্তন,বিএনপি,নির্বাচন কমিশন,রুহুল কবির রিজভী
apps