• শুক্রবার, ০১ মার্চ ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০
  • ||

১৭ দিন পর সুড়ঙ্গে আটকে পড়া ৪১ শ্রমিক জীবিত উদ্ধার

প্রকাশ:  ২৮ নভেম্বর ২০২৩, ২৩:৫৩
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের একটি নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গ ধসে পড়ে আটকে পড়া ৪১ শ্রমিককে মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) রাতে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তারা গত ১৭ দিন ধরে সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকিয়ে ছিলেন।

সুড়ঙ্গের ভেতরে জমে থাকা ধসের শেষ অংশটি হাতে কাটা হয়। তার আগে শ্রমিকদের উদ্ধারের প্রচেষ্টা বারে বারে বাধা পেয়েছে।

শেষমেশ মঙ্গলবার ভারতীয় সময় রাত ৮টা নাগাদ প্রথম শ্রমিককে বার করে নিয়ে আসা হয়, আর বাকি সবাইকে বার করতে ঘন্টাখানেকেরও কম সময় লাগে। প্রত্যেক শ্রমিককে ফুলের মালা দিয়ে স্বাগত জানানো হয়।

এর আগে ধারণা করা হচ্ছিলো যে মঙ্গলবার বিকেলের মধ্যেই সবাইকে উদ্ধার করা যাবে।

উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামী ভারতীয় সময় বেলা দুটোর সময়ে তার এক্স (আগেকার টুইটার) হ্যান্ডেলে লেখেন যে ধসে পড়া মাটি-পাথরের ভেতর দিয়ে পাইপ গুঁজে দেওয়ার কাজ শেষ হয়েছে।

কিন্তু তার ঘণ্টা দুয়েক পরে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ এক সংবাদ সম্মেলনে জানান যে তখনো শেষ দুই মিটার গর্ত খোঁড়া বাকি আছে। সেই কাজ শেষ করে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ উদ্ধারকারীদের দলটি সুড়ঙ্গের ভেতরে প্রবেশ করেন আর আধঘণ্টার মধ্যে প্রথম শ্রমিককে বার করে নিয়ে আসা হয়। সবাইকে উদ্ধার করতে ঘন্টাখানেকেরও কম সময় লাগে।

প্রত্যেক শ্রমিককে পৃথক অ্যাম্বুলেন্সে চাপিয়ে হাসপাতালের দিকে রওয়ানা করিয়ে দেওয়ার পরে সুড়ঙ্গ মুখেই আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করেন মুখ্যমন্ত্রী মি. ধামী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভি কে সিং।

তারা জানিয়েছেন ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা হাসপাতালে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে থাকবেন শ্রমিকরা।

পাইপের ভেতর দিয়ে উদ্ধার

শ্রমিকদের উদ্ধারের জন্য জাতীয় ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, সেনাবাহিনী, সেনাবাহিনীর অধীন বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশন যেমন নেমেছিল, তেমনই আন্তর্জাতিক মাইক্রো টানেলিং বিশেষজ্ঞ ক্রিস কুপারকেও নিয়ে আসা হয়েছিল।

সুড়ঙ্গের ভেতরে ৯০০ মিলিমিটার একটি লোহার পাইপ গুঁজে দিয়ে তা দিয়েই বার করে আনা হয় আটকিয়ে পড়া শ্রমিকদের।

এতোদিন ধরে দু’টি অন্য পাইপ দিয়ে শ্রমিকদের জন্য খাবার, পানীয় এবং অক্সিজেন পাঠানো হচ্ছিল।

নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গটি ‘চারধাম প্রকল্প’র অংশ, যা বদ্রীনাথ, কেদারনাথ, যমুনোত্রী এবং গঙ্গোত্রীর হিন্দু তীর্থস্থানগুলোকে একই রাস্তা দিয়ে জুড়বে।

এটি একটি বিতর্কিত প্রকল্প এবং পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে এই প্রকল্পটি আকস্মিক বন্যা এবং ভূমিধসের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে, যা ইতিমধ্যে ওখানে একটি বড় সমস্যা।

সরাসরি হাসপাতালে

সুড়ঙ্গের ভেতরে পাইপ গুঁজে দেওয়ার কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সিল্কিয়ারার দিকে চূড়ান্ত তৎপরতা দেখা যায়। উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেনারেল ভি কে সিংসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা সুড়ঙ্গ মুখে অপেক্ষা করছিলেন।

সার দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স আর চিকিৎসকদের দলও অপেক্ষা করে ছিলো। সুড়ঙ্গ মুখে গড়া হয়েছিল একটা অস্থায়ী চিকিৎসা কেন্দ্রও। উদ্ধার হওয়া সব শ্রমিকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়।

উদ্ধার করার পরে প্রত্যেককে পৃথক অ্যাম্বুলেন্সে করে ৩০ কিলোমিটার দূরের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে দু’টি হেলিকপ্টারে করে ঋষিকেশের এইমস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে আগামী কাল (বুধবার), এমনটাই জানিয়েছেন বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষের সদস্য অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল সৈয়দ আতা হাসনাইন। খবর: বিবিসি বাংলা।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএম

উদ্ধার,জীবিত,শ্রমিক,আটক,সুড়ঙ্গ
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close