• মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১
  • ||

ধর্ষণে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা কিশোরী

প্রকাশ:  ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৮:১২
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক

অন্তঃসত্ত্বা হয়ে ৫ মাস ধরে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ১২ বছরের এক কিশোরী। কিন্তু বিচার না পেয়ে উল্টো হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ভুক্তভোগী কিশোরীর দাবি- তিনি ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার চালাকচর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের চড়পাড়া গ্রামে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এগিয়ে না এসে বরং বিষয়টি মিটমাট করে দেওয়ার কথা বলে অভিযুক্তের কাছে উৎকোচ চাইছে। উৎকোচ না দিয়ে তিনি তার শাশুড়িকে বাদী করে উৎকোচ চাওয়া স্থানীয় মেম্বারসহ তিনজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা রুজু করেছেন। অভিযুক্ত ধর্ষকের নাম মোহাম্মদ আলী (৪৫)। সে দুই সন্তানের জনক। তার স্ত্রী ও ছেলে প্রবাসী।

সম্প্রতি আদালতের নির্দেশে ডিবি পুলিশ চাঁদাবাজির মামলাটির তদন্ত করতে গেলে বের হয়ে আসে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, পিতৃহারা ১২ বছরের কিশোরীকে নিয়েই মায়ের স্বপ্ন ও সংসার। স্ত্রী কন্যা ফেলে দ্বিতীয় বিয়ে করে বাবা চলে গেছেন দূরে কোথাও। অন্যের বাড়িতে কাজ করে এই হতভাগা কিশোরীকে লালন পালন করছেন স্বামী পরিত্যক্তা মা। ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে এই কিশোরী। সম্প্রতি কিশোরীকে বাড়িতে রেখে মা কাজে গেলে তার ওপর লোলুপ দৃষ্টি পড়ে মোহাম্মদ আলীর। একপর্যায়ে সুযোগ বুঝে ওই কিশোরীকে দুই দিন ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর ভুক্তভোগীর মা বিচারের আশায় যান স্থানীয় মেম্বার সাইদুল ইসলাম মিয়ার কাছে। সাইদুল ইসলাম বিচার না করে বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়ার জন্য মোহাম্মদ আলীর কাছে মোটা অংকের টাকা দাবি করে। মোহাম্মদ আলী টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে মেম্বার প্রায় প্রতিদিনই মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে টাকার জন্য লোক পাঠায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মোহাম্মদ আলী তার শাশুড়ি নিয়াশা বেগমকে (৬৫) বাদী করে আদালতে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন।

বিজ্ঞ আদালত পরে মামলাটি তদন্তের জন্য ডিবি পুলিশকে নির্দেশ দেয়। ডিবি পুলিশের এসআই ফজলে মাসুদ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য বের হয়ে আসে। এসআই ফজলে মাসুদ জানান, মামলার আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা জানায়, বাদীর মেয়ের জামাই মোহাম্মদ আলী চড়পাড়ায় এক কিশোরীকে পরপর দুই দিন ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে আমি তাকে লোক মারফত খবর পাঠাই দেখা করার জন্য। সে আমার কাছে আসলে তার কাছে এ ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাই। কিশোরী জানায়, মোহাম্মদ আলী তার এ সর্বনাশ করেছে। তবে, মোহাম্মদ আলী পুরো বিষয় অস্বীকার করেন। সে তার শাশুড়িকে দিয়ে আমাকেসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে চাঁদাবাজির মামলা রুজু করে। অন্য আসামিরা হলো- একই এলাকার ইব্রাহীম মিয়ার ছেলে শরীফ মিয়া ও হাছেন মিয়ার ছেলে মোশারফ মিয়া।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, মেম্বার সাইদুর রহমান চাঁদাবাজির মামলা থেকে নিজেকে বাঁচাতে এমন ঘটনা সাজাতে পারে। সে অত্যন্ত চতুর প্রকৃতির লোক।

এসব বিষয়ে চালাকচর ইউপি চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম মুক্তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি শুনে মেয়ে ও মেয়ের মাকে থানায় পাঠিয়েছিলেন। পরে থানা পুলিশ উল্টো তাদেরই দেন দরবার করে মীমাংসা করে দেওয়ার অনুরোধ জানান। এর বেশিকিছু তিনি জানেন না।

তবে এ বিষয়ে মনোহরদী থানার পরিদর্শক আবুল কাশেম ভূঞার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে মেম্বার চেয়ারম্যানের সালিশ দরবার করার কোনো এখতিয়ার নেই। এমনকি থানায় এ ধরনের অভিযোগ নিয়ে কেউ আসেনি। যদি আসত তাহলে অবশ্যই মামলা নিয়ে নিতাম। এমন বিষয় চেয়ারম্যানকে মীমাংসা করে দেওয়ার কথা বলার প্রশ্নই আসে না। যদি এখনো তারা থানায় আসে তাহলে অবশ্যই দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ধর্ষণ,অন্তঃসত্ত্বা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close