• বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
  • ||

দীর্ঘ এক যুগ পর বদলী

প্রকাশ:  ১৪ মার্চ ২০২৪, ২১:৪৭
আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: মেহেদী হাসানকে দীর্ঘ প্রায় একযুগ পর বদলী করা হয়েছে। মেহেদী হাসানকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে বদলী করা হয়েছে। ১০মার্চে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের প্রশাসন-১ অধিশাখার উপপরিচালক (প্রশাসন-১) তাসনুভা নাশতারান (উপসচিব) স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে বিষয়টি জানা গেছে।

অফিস আদেশে আরো বলা হয় যে, পুনরাদেশ না দেয়া পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরাধীন নিম্নবর্ণিত উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাগণকে জনস্বার্থে ও প্রশাসনিক কারণে তাঁদের নামের পার্শ্বে বর্ণিত কর্মস্থলে নির্দেশক্রমে বদলি/পদায়ন করা হলো। মেহেদী হাসানের স্থানে খাগড়াছড়িরর রামগড়ের উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (২য় শ্রেণি) পাবনার সন্তান মো: নজরুল ইসলামকে বদলি/পদায়ন করা হয়েছে। বদলিকৃত কর্মকর্তাগণ ১৯-০৩২০২৪ তারিখের মধ্যে পদায়নকৃত কর্মস্থলে যোগদান করবেন অন্যথায় ২০-০৩-২০২৪ খি: তারিখ অপরাহ্নে বর্তমান কর্মস্থল হতে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন বলেও আদেশে জানানো হয়।

তথ্যঅনুসন্ধানে জানা গেছে যে, বগুড়ার গাবতলী উপজেলার সন্তান মেহেদী হাসান ২০১২সালের সেপ্টেম্বর মাসের ৩০তারিখে রাণীনগর উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। উপজেলা প্রশাসনের মধ্যে সবচেয়ে আর্থিক সংশ্লিষ্ট জনগুরুত্বপূর্ণ দপ্তর হচ্ছে প্রকল্প বাস্তবায়ন দপ্তরটি। সরকার তার সিংহভাগ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে। যার ফলে খুব সহজেই বিভিন্ন কাজের নয়-ছয় হিসাবের মাধ্যমে স্থানীয় সাংসদের প্রিয়পাত্র হিসেবে পরিগণিত হওয়া সম্ভব। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মেহেদী হাসান উপজেলায় নিজের একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করে নেন। পরবর্তিতে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে একাধিকবার দুদকের টিম মেহেদী হাসানের অফিসে হানা দেয়। এছাড়া একাধিকবার বদলী আদেশ হলে তদবিরের মাধ্যমে তা বন্ধ করে দেন মেহেদী হাসান। একই অফিসে দীর্ঘ এক যুগ চাকরী করার সুবাদে পুরো উপজেলায় নিজের একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করে এসেছেন মেহেদী হাসান। প্রতিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নিজের আয়ত্তে এনে অন্যায় ভাবে বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে আসছেন তিনি। মেহেদী হাসান সরকারের খাতায় উপজেলার কোয়ার্টারের ভাড়া পরিশোধ না করেই দীর্ঘ প্রায় একযুগ বসবাস করে আসছেন বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।

একই অফিসে কোন কর্মকর্তা বছরের পর বছর চাকরী করলে স্বভাবতই উপজেলার বিভিন্ন মহলে একটি প্রভাব সৃষ্টি করে ফেলেন ওই কর্মকর্তা। ফলে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে চরম নৈরাজ্য পরিলক্ষিত হলেও সাধারণ মানুষদের তেমন কিছু একটা করার থাকে না। তাই সকল কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেই সরকারী চাকরীর নিয়ম অনুসারে নিয়মিত বদলীর যে রীতি সেই রীতিকে শতভাগ বাস্তবায়ন করা হলে সরকারের গৃহিত প্রকল্পগুলো আরো ভালো ভাবে বাস্তবায়িত হওয়ার মধ্যদিয়ে স্ব স্ব উপজেলার প্রতিটি মানুষই আরো বেশি উপকৃত হতো বলে মনে করছেন উপজেলার সচেতন মহল।

বদলি,সরকারি চাকরি

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close