• রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ২ পৌষ ১৪২৫
  • ||

নৌকা-লাঙ্গলের বিজয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী দমন অনিবার্য

প্রকাশ:  ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ০১:৪৭
পীর হাবিবুর রহমান
প্রিন্ট

উৎসবমুখর পরিবেশে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন-পত্র দাখিল ও বাছাই পর্ব শেষ হয়েছে। এখন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ও প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে গোটা দেশ নির্বাচনী ব্যালট-যুদ্ধের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। গ্রামগঞ্জের হাটবাজারে গভীর রাত পর্যন্ত চায়ের দোকানগুলোতে নির্বাচনী হাওয়া জোরেশোরে বইছে।

নির্বাচনী প্রচারণায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলনির্ভর মহাজোট অনেকটা এগিয়ে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়নে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন না আনায় মাঠের প্রচারণা অব্যাহত রাখতে পারছেন দলীয় প্রার্থীরা। মহাজোটের শরিকদের যেসব আসনে অঘোষিতভাবে ছাড় দিয়ে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী দেয়নি সেখানে মহাজোটের প্রার্থীরাও নৌকা-লাঙ্গল নিয়ে পুরোদমেই প্রচারণা চালাচ্ছেন।

ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন বিএনপি, জামায়াতনির্ভর ছোট ছোট মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনৈতিক দল নিয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী কর্মকাণ্ড অনেকটাই থমকে গেছে। কারণ বিএনপি প্রায় সব আসনেই একাধিক প্রার্থী যেমন দিয়েছে ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের কোন কোন আসনে ছাড় দিয়েছে তা এখনো চূড়ান্ত করতে পারেনি। সব মিলিয়ে ভোটযুদ্ধের শুরুতেই প্রচারণায় পিছিয়ে পড়েছে ধানের শীষের ঐক্যফ্রন্ট। তাদের প্রার্থীরা এখনো ঢাকায় জোর লবিংয়ে নেতাদের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছেন।

এখন বাছাই পর্বে কেউ দণ্ডিত হওয়ার কারণে, কেউ ঋণখেলাপি হওয়ার কারণে, কেউ বা হলফনামায় স্বাক্ষর না করাসহ মনোনয়নপত্রে ত্র“টি রাখায় তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে গেছে। এখানেও বিএনপি, ঐক্যফ্রন্টের পাল্লাই ভারী। রাষ্ট্র পরিচালনায় অভিজ্ঞ, অতীতে সংসদ সদস্য ছিলেন এমন প্রার্থীরাও যখন রাজনৈতিকভাবে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ভোটযুদ্ধের ময়দানে নেমে ভুল করেন, তখন তাদের দেউলিয়াত্বের প্রকাশ ঘটে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বার বার বিদ্রোহী প্রার্থী হলে বহিষ্কারের নির্দেশনামা জারি করার পরও অসংখ্য আসনে দলের একদল মাঠ নেতা মনোনয়নপত্র দাখিল করে দলের একটি অংশকে ভোটযুদ্ধে স্থবির করে রেখেছেন। তারা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ ও মহাজোটগতভাবে ৩০০ আসনের প্রার্থী তালিকা দ্রুত ঘোষণা না হলে মহাজোটের নৌকা-লাঙ্গলের গণজোয়ার তোলা কঠিন হয়ে পড়ছে। এমনিতেই আওয়ামী লীগের অনেকেই মনে করছেন দলীয় মনোনয়ন পাওয়া মানেই এমপি হয়ে যাওয়া। আত্ম-অহংকার ও আত্মতুষ্টিতে তারা ভুগছেন।

মহাজোটের নির্বাচনী বড় স্লোা­গানই হচ্ছে শেখ হাসিনার ১০ বছরের বিস্ময়কর অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সারা দেশে সম্পন্ন হওয়া বিভিন্ন খাতের দৃশ্যমান উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ। তথ্যপ্রযুক্তি খাত থেকে শিক্ষা, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্যসহ ভিন্ন খাতের সংঘটিত উন্নয়ন বিপ্ল­বের মহাকর্মযজ্ঞই সামনে এসেছে। মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার সরকারের গৌরবময় সাফল্য তুলে ধরে আগামীতে নির্বাচিত হলে প্রতিটি গ্রাম হবে একটি শহর এ স্লোগান মানুষকে স্পর্শ করছে। গ্রামের মানুষ শহরের তুলনায় শেখ হাসিনার প্রতি বেশি আস্থাশীল।

বিগত পাঁচ বছরে বিএনপি শহর পর্যায়ে সরকার-বিরোধী প্রচারণা যতটা চালাতে পেরেছে ততটা গ্রাম পর্যায়ে পারেনি। গ্রামের মানুষ বিদ্যুৎ পেয়েছে। পাকা সড়ক পেয়েছে। স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার উন্নয়নই দেখেনি খেত-খামারে সবুজ ফসল ফলিয়ে নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছে। শহর পর্যায়ে শেখ হাসিনা সরকারের সমালোচনা থাকলেও গ্রাম পর্যায়ে উন্নয়নের শাসনের প্রশংসাই শোনা যাচ্ছে। শেখ হাসিনাতেই তাদের যত আস্থা। এখানে ভোটযুদ্ধের ময়দানে ঐক্যফ্রন্টের ধানের শীষের চেয়ে মহাজোটের নৌকা-লাঙ্গলের পাল্লা ভারী হয়ে উঠছে। কওমি শিক্ষার স্বীকৃতিতে গ্রামাঞ্চলের মাদ্রাসা ঘিরে গড়ে ওঠা ইসলামপন্থি শক্তিও শেখ হাসিনার প্রতি সহানুভূতিশীল।

ভোটের লড়াইয়ে একদিকে শেখ হাসিনা অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির প্রতীক হিসেবে যেমন ভোটারদের মাঝে দাঁড়িয়ে গেছেন, তেমনি ইসলামপন্থি ভোটের হাওয়াও এবার প্রতিপক্ষের দরজায় ঠেলে দেননি। কওমি স্বীকৃতি এই ধর্মযুদ্ধের আওয়াজ তুলতে দেয়নি। উলটো প্রান্তিকের আলেম-ওলামাদের সহানুভূতি নিজের পক্ষে টেনেছেন।

৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে আসন বণ্টনও চূড়ান্ত হয়ে যাবে। ভোটের ময়দানে আওয়ামী লীগ, বিএনপির তৃণমূলে দ্বন্দ্ব-কোন্দল থাকলেও নৌকা-লাঙ্গলের ভোট যেমন ধানের শীষে যাবে না তেমনি ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লার ভোটও নৌকায় যাবে না এমনটি মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তবে তরুণ ভোটারদের ভোটসহ রাজনীতি থেকে দূরে থাকা সাধারণ মানুষের ভোট যারা টানতে পারবেন জয়ের মাল্য তারাই গলায় পরবেন এমনটই মনে করছেন স্থানীয় মানুষেরা। গত কয়েকদিন সুনামগঞ্জ জেলার প্রান্তিক অঞ্চল ঘুরে এমনটি আমার কাছে দৃশ্যমান হয়েছে।

আগের লেখায় লিখেছিলাম, বর্তমান সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, বি এম মোজাম্মেল হক মনোনয়ন না পেয়েও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, দলের প্রতি আনুগত্য ও শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে দলের কাজে যুক্ত হয়েছেন। ফেনী-১ আসনে তুমুল জনপ্রিয় আলাহউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম শুভাকাক্সক্ষীদের চাপে মনোনয়ন চেয়ে পাননি। আসনটি মহাজোটকে ছেড়ে দিয়েছেন। কর্মীদের বিক্ষোভ থামিয়েছেন। নৌকার পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তাদের অশ্রু থামিয়ে দিয়েছেন।

’৭৫-উত্তর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের জনপ্রিয় নেতা ও বন্দরনগরীর সব আন্দোলন-সংগ্রামের অনন্যসাধারণ সংগঠক খোরশেদ আলম সুজন এবারও মনোনয়ন পাননি। দলের প্রতি আনুগত্য রেখেছেন। রাকসুর ’৭৫-পরবর্তী এজিএস বর্তমান সংসদ সদস্য আবুল কলাম আজাদ বিএনপি-জামায়াত শাসনামলে নিহত মমতাজ আহমদের আসনে বিজয়ী হয়েছিলেন। এবার মনোনয়ন না পেয়ে দলের প্রতি আনুগত্য দেখিয়েছেন। সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয় কোনো দিন নির্বাচনে পরাজিত হননি। মন্ত্রী হিসেবেও দক্ষ ছিলেন। বিশ্বব্যাংকের আনা অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। কানাডার আদালতের রায়ে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। তবু না পেয়েছেন মন্ত্রিত্ব, না পেয়েছেন দলীয় মনোনয়ন। কিন্তু দল ও শেখ হাসিনার প্রতি তার আনুগত্য-বিশ্বাস হারাননি। সিলেট-২ আসনে শফিকুর রহমান চৌধুরী ও আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী দলের মনোনয়ন চেয়েছিলেন, পাননি। কর্মীরা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করলেও আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবু তারা দলের প্রতি, নেত্রীর প্রতি অনুগত থেকেছেন। এটাই আওয়ামী লীগের বড় রাজনৈতিক শক্তি।

কিন্তু বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগের কোনো কোনো স্থানীয় নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। কোনো কোনো স্থানীয় নেতা দলের ও মহাজোটের প্রার্থীকে হারিয়ে দেওয়ার ফন্দিফিকিরে নানা মতলববাজির চাল দিচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে ভোটযুদ্ধের ময়দানে ব্যালট বিপ্ল­বে নৌকা-লাঙ্গলের বিজয় নিশ্চিত করতে হলে বিদ্রোহীদের দ্রুত দমন অনিবার্য হয়ে পড়েছে। জেলায় জেলায় মহাজোটগতভাবে কমিটি গঠনের মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনার জন্য কেন্দ্র থেকে আওয়ামী লীগকেই উদ্যোগ নিতে হবে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের টেলিফোন করে বিদ্রোহীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে দল ও মহাজোটের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট লড়াইয়ে নামতে সময়সীমা নির্ধারণ করে নির্দেশ দিতে পারেন।

এ ভোটযুদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সামনে শেখ হাসিনার অস্তিত্বের লড়াই। সন্ত্রাসবাদ-জঙ্গিবাদ-সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী শক্তির জন্য নিরাপদ জীবনের অস্তিত্বের লড়াই। এ লড়াইয়ে জিততে হলে মহাজোটের সব নেতা-কর্মীর শক্তিশালী ঐক্য এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সামাজিক-সাংস্কৃতিক শক্তিসমূহের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান ভোট ময়দানে নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের একজন দক্ষ -সফল মন্ত্রীই নন, গতিশীল রাজনৈতিক সংগঠক হিসেবেও দারুণ পরিশ্রমী। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত নিরন্তর ছুটে চলেন। শত ব্যস্ততার মধ্যেও কখনো গণমাধ্যমকর্মী, কখনো বা নাগরিক সমাজ আবার কখনো চলচ্চিত্র থেকে নাট্যজগতের শিল্পী-কলাকুশলী ও সংগীতশিল্পীদের সঙ্গে নিয়মিত মধ্যাহ্নভোজ বা নৈশভোজে মিলিত হচ্ছেন। যারা নির্মোহচিত্তে বিশ্বাস করেন রাষ্ট্র পরিচালনায় শেখ হাসিনা ও মহাজোটের বিকল্প নেই। যারা বিশ্বাস করেন মুক্তিযুদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছিল তাদের এক হতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধের ৫০ বছর পূর্তিতে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকুন এমনটি যারা চান তাদের মাঠে নামানোর এখনই সময়। যে মহানায়কের ডাকে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল সেই স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জম্ম শতবার্ষিকী উদ্‌যাপন শেখ হাসিনার হাত ধরে উৎসবের বন্যায় ভাসুক এটা যারা চান, তাদেরও মহাজোটের পক্ষে এ ভোটযুদ্ধে মাঠে নামানোর এখনই সময়।

ড. কামাল হোসেন এ দেশের সংবিধানপ্রণেতা, বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীই নন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন একজন আইনজীবীই নন, আইনের শাসন, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার অগ্রণী ব্যক্তিত্ব। রাজনীতিতে তার সমালোচক থাকলেও তার প্রতি অনেকের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রয়েছে। তিনি যে ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছেন তার লক্ষ্য নির্বাচনী ইশতেহারে দেশবাসীর সামনে উম্মোচন হবে। তার চিন্তা ইতিবাচক হলেও যে বিএনপির রাজনৈতিক শক্তির ওপর ঐক্য করেছেন সেই বিএনপির সঙ্গে একাত্তরের পরাজিত শক্তি জামায়াতে ইসলামী রয়েছে।

আদালতের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করলেও তারাও ঐক্যফ্রন্ট থেকে ভোট লড়াইয়ে শরিক হয়েছে। এই বিতর্কিত বিষয়টির হাজারো প্রশ্নের জবাব কীভাবে তিনি দেবেন তা তিনিই জানেন। বিএনপি-জামায়াত শাসনামল কতটা ভয়ঙ্কর অপশাসনে নিমজ্জিত ছিল, কতটা দুর্নীতিগ্রস্ত ছিল, কতটা রাজনৈতিক দমন-পীড়ন গ্রেনেড বোমা সন্ত্রাস ধর্ষণ হত্যা খুন ও জঙ্গিবাদের উত্থানে কলঙ্কিত ছিল দেশবাসী যেমন ভোলেনি, সেদিনের প্রতিবাদী ড. কামাল হোসেনেরও ভুলে যাওয়ার কথা নয়। তিনি নির্বাচন করছেন না। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস জামায়াতকে সন্ত্রাসী শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই এখনো চলছে। সেদিনের বিএনপি ও জামায়াত রাতারাতি বদলে গিয়ে আদর্শিক রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে এমনটি মানুষ বিশ্বাস করে না। ড. কামাল হোসেনের মতো প্রজ্ঞাবান আদর্শিক মানুষ কীভাবে বিশ্বাস ও আস্থা রাখলেন যে, নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বিজয়ী হলে এই শক্তি দিয়ে তিনি পরিবর্তনই আনবেন না মুক্তিযুদ্ধের আকাক্সক্ষার আদর্শিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করবেন তা মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন। এ ঐক্যফ্রন্ট রাজনীতিতে যতটা না আদর্শিক, তার চেয়ে বেশি ক্ষমতায় যাওয়ার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে বলে মানুষের মধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে। ঐক্যফ্রন্টকেও ক্ষমতার লড়াইয়ে শক্ত ভোটযুদ্ধে যেতে চাইলে বিদ্রোহী প্রার্থীদের দমন এবং তৃণমূলের কোন্দল নিরসন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজন।

তবে মানুষ চেয়েছে সব দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হোক। দেশ এখন সেই পথে অগ্রসর হচ্ছে। সব দল নির্বাচনে এসেছে। শান্তিপূর্ণ ভোট উৎসবের দায়দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও সব রাজনৈতিক দলের জন্য ইমানি দায়িত্ব। আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির ভিত্তিতে শান্তিপূর্ণভাবে মানুষ তার ভোটাধিকার নির্বিঘ্নে প্রয়োগ করুক, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে কার্যকর শক্তিশালী সংসদ ও গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করুক এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

apps

সর্বাধিক পঠিত